দেশ প্রথম পাতা লাইফ স্টাইল

অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহ থেকে জগৎ সংসারকে শীতল করতে প্রভু জগন্নাথকে চন্দন মাখানো হয়।

কথিত আছে অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহ থেকে জগৎ সংসারকে শীতল করতে প্রভু জগন্নাথকে চন্দন মাখানো হয়। যাতে বিশ্ব সংসার শীতল থাকে। পুরিতেও এই দিন প্রভুকে চন্দন মাখিয়ে শীতল করা হয়। সেরূপ ভাবেই নিউ বারাকপুরে বিশ্ব সেবাশ্রম সংঘের তরফেও অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে জগন্নাথকে চন্দন মাখানো হয়। জগন্নাথের সেই রূপ দেখতে প্রতি বছরই লক্ষ মানুষের ভিড় হয়। কিন্তু এবার চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা। ভক্তহীন ভাবেই মন্দিরের সেবায়েতরা এবার জগন্নাথের চন্দন যাত্রা উৎসবে সামিল হন। তবে মারণ ভাইরাসের কারণে এবছর হয়নি কোন খাতা পুজো। যদিও নিয়মে মেনে মন্দিরের সেবায়েতরা এ দিন সকালে যজ্ঞের মাধ্যমে পূজা অর্চনা মধ্যে দিয়ে জগন্নাথদেবেকে চন্দন মাখায়। এরপরে প্রভুকে ভোগ নিবেদন করা হয় অন্ন সহ নারকেল সহকারে অরোহের ডাল, পঞ্চ ব্যঞ্জন, ফল মিষ্টি পরমান্ন দিয়ে শীতল ভোগ নিবেদন করা হয়। প্রসঙ্গত, করোনার কারণে সরকারের লকডাউন ঘোষণা করেছে। সে কারণে বন্ধ রয়েছে মানবতার বিশ্বজননী এই মন্দির। তবে নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করে চলেছে মন্দির কমিটি। লকডাউন শুরুর সময় থেকে এ দিন পর্যন্ত প্রায় ৪২ হাজার কিলো চাল, ১৪ হাজার কিলো আলু বন্টন করেছে।তাছাড়া স্যানিটাইজার, মাস্ক, সাবান দিয়ে চলেছে মন্দির কমিটি। মন্দির পার্শ্ববর্তী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যেও চলেছে খাদ্যসামগ্রী বন্টন থেকে সুরক্ষা সরঞ্জাম বিতরণ। মন্দির কমিটির এই কাজে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলির সংস্থাও। তারা মন্দির কমিটির হাতে চাল তুলে দিয়েছেন। মন্দির এহেন‍্য কর্মকাণ্ড নিয়ে মন্দির ও সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সমীর ব্রহ্মচারী জানান, তারা মানবতার পূজারী। তাই এই দুর্দিনে মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাদের ধর্ম। তারা তাই করছেন মাত্র। এ দিন জগন্নাথদেবকে চন্দন মাখিয়ে শীতল করা হয়। যাতে বিশ্ব সংসারকে প্রভু শীতল রাখে গ্রীষ্মের এই তীব্র দাবদাহ থেকে ঠান্ডা রাখে। তার সাথে এ বছর প্রভুর কাছে প্রার্থনা করা হয় গোটা বিশ্বকে তিনি যেন এই মহামারীর হাত থেকে মুক্ত করেন।

বৈশাখ শুক্লা-তৃতীয়া অক্ষয় তৃতীয়া নামে খ্যাত। এই অক্ষয় তৃতীয়া শ্রীহরির অত্যন্ত প্রিয়। ইহাতে স্নান, দান, অর্চ্চনা, শ্রাদ্ধ, জপ ও পূর্বজগতের উদ্দেশে তর্পন করিলে তৎসমস্ত অক্ষয় হয় বলিয়া এই তৃতীয়াকে অক্ষয়া বলে। যাঁহারা এই অক্ষয় তৃতীয়ায় যত্নপূর্বক যবের দ্বারা বিষ্ণুর পূজা করেন, শ্রাদ্ধ করেন এবং অন্যন্য পুণ্য কর্মসমূহ করেন, সেই বৈষ্ণবমানবগণ ধন্য। (পদ্মপুরান)। এইদিন ভগবানকে ছাতু ভোগ দিতে হয়। যে ব্যক্তি এইদিন গঙ্গাস্নান করেন তিনি সর্বপাপ হইতে মুক্ত হন। (ভবিষ্যপুরান)।

অক্ষয় তৃতীয়ার মাহাত্যঃ-
১। এইদিনে পুণর্বসু নক্ষত্রে স্বয়ং হরি শ্রীপরশুরামরূপে ষষ্ঠ অবতাররূপে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন।
২। রাজা ভগীরথ মা গঙ্গাকে মর্ত্যে আনয়ন করেন।
৩। গনপতি গণেশ এইদিনই বেদব্যাস কর্তৃক বর্নিত মহাভারত লিপিবদ্ধ করেন।
৪। এইদিন সত্যযূগের শেষ এবং ত্রেতাযূগের আরম্ভ হয়।
৫। ভক্তরাজ সুদামা দ্বারকায় শ্রীকৃষ্ণের দর্শনে আসেন।
৬। পুরীধামের শ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রার রথ নির্মান শুরু হয়।
৭। কেদারনাথ, বদ্রীনাথ মন্দিরের দ্বার উন্মোচন করা হয়।
৮। শ্রীজগন্নাথদেবের চন্দনযাত্রা এইদিন শুরু হয়।
৯। কুবেরের তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে মহাদেব অতুল ঐশ্বর্য প্রদান করেন।
১০। দুঃশাসন দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের প্রচেষ্টা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কর্তৃক ব্যর্থ হয়।
১১। এই দিবসে বৃন্দাবন বাঁকেবিহারী মন্দিরে শ্রীরাধারানীর শ্রীচরণ দর্শন হয়।

Spread the love