কলকাতা প্রথম পাতা

ফের অঙ্গদানের নজির গড়ল শহর, গ্রিন করিডরের মাধ্যমে কিডনি পৌঁছল এসএসকেএম-এ

নিজস্ব প্রতিনিধি— এক সপ্তাহের মধ্যে দুটি অঙ্গদানের নজির গড়ল এ শহর। গভীর রাতে মাত্র ১২ মিনিটের মধ্যে গ্রিন করিডর করে বাইপাস সংলগ্ন আর এন টেগোর হাসপাতাল থেকে কিডনি পৌঁছে দেওয়া হল এসএসকেএম হাসপাতালে। রাতেই শুরু হয় অস্ত্রোপচার। ৬৩ বছরের এক ব্যক্তির শরীরে বসতে চলেছে ওই কিডনি।

এই সপ্তাহে এই নিয়ে দু’টি অঙ্গদানের ঘটনা ঘটল শহরে। মঙ্গলবারই জোকার বাসিন্দা অঞ্জনা ভৌমিকের ব্রেন ডেথের পরে তাঁর পরিবারের লোকেরা সিদ্ধান্ত নেন, তাঁর অঙ্গদান করবেন। সেই মতো তাঁর হার্ট, দু’টি কিডনি, লিভার, চোখ ও ত্বক দান করা হয়। আন্দুলের নারায়ণা হাসপাতাল থেকে এসএসকেএম-এ এসে পৌঁছয় অঙ্গগুলি। অঞ্জনাদেবীর অঙ্গে প্রাণ ফিরে পান চার জন। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সচেতনতাই হোক বা অনুপ্রেরণা, এ শহরে তথা রাজ্যে কারও অকালমৃত্যু হলে অঙ্গদানের প্রবণতা বাড়ছে। এটা খুবই ইতিবাচক একটা লক্ষ্মণ। সচেতন হচ্ছে শহর। সচেতনতা বাড়ছে মানুষের মধ্যে।

মস্তিষ্কে মারাত্মক রক্তক্ষরণ নিয়ে ১ জুলাই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৬০ বছরের মহাদেব মণ্ডল। কোমায় চলে যান তিনি। নিউরোসার্জারি বিভাগের সিসিইউ-তে ভর্তি ছিলেন তিনি, দক্ষ চিকিৎসকদের অধীনে চলছিল চিকিৎসা। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পরেও মস্তিষ্কে সাড় ফেরেনি তাঁর। বৃহস্পতিবার চিকিৎসকেরা ঘোষণা করেন ব্রেন ডেথ। এর পরেই মহাদেব বাবুর পরিবারের কাছে অঙ্গদানের প্রস্তাব রাখেন চিকিৎসকেরা। প্রথমে নিমরাজি হলেও, একটু বোঝানোর পরেই রাজি হয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য দফতরে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সারতে শুরু করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সিদ্ধান্ত হয়, রাতেই সংগ্রহ করা হবে অঙ্গগুলি এবং প্রতিস্থাপনও শুরু হবে যত দ্রুত সম্ভব।

মহাদেববাবুর হার্টে বয়সজনিত সমস্যা থাকায়, তা সংগ্রহ করা যায়নি বলে জানিয়েছেন আরএন টেগোর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। লিভার ভাল অবস্থায় থাকলেও, প্রতিস্থাপনের জন্য কোনও গ্রহীতা এই মুহূর্তে মেলেনি। দু’টি কিডনি সংগ্রহ করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, একটি কিডনি আরএন টেগোর হাসপাতালেই ভর্তি থাকা এক রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপিত হবে। অন্যটি নিয়ে যাওয়া হবে এসএসকেএম-এ। সেখানেই ৬৩ বছরের এক ব্যক্তির শরীরে প্রতিস্থাপিত হবে সেটি। সংগ্রহ করা হয়েছে মহাদেববাবুর চোখও। সল্টলেকের নারায়ণা নেত্রালয়ে রংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে দুটি চোখ।

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।