দেশ প্রথম পাতা

এবার শিক্ষকদের বেতন কমল বিজেপি শাসিত মণিপুরে, ধর্মঘটে রাজ্যজুড়ে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিনিধি : মূল্যবদ্ধিতে নাজেহাল জনতা! সরকারি পে কমিশন যখন তাল মিলিয়ে বেতন বাড়াচ্ছে, তখনই বিজেপি শাসিত মণিপুরের শিক্ষকদের বেতন কমিয়ে নিয়ে ১০ বছর আগের ধাপে নিয়ে গেল। তবে তাঁদের পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয় কমানো হল বলা ভুল হবে।

সূত্রের খবর, এবার থেকে প্রায় ১০ বছরের পুরনো পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পাবেন মণিপুরের শিক্ষকরা। প্রাথমিক স্তর থেকে কলেজ পর্যন্ত সব স্তরের শিক্ষকদের বেতনই কমানো হয়েছে।

গত ১১ জুলাই মণিপুর বিধানসভায় একটি বিল পাশ হয়। আগে মণিপুরের উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষকদের গ্রেড পে ৪ হাজার ৮০০ টাকা থেকে কমিয়ে করা হয় ৪ হাজার ৪০০ টাকা। মোট বেতন দাঁড়ায় ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ৩৪ হাজার ৮০০ টাকা। প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড পে ৩ হাজার থেকে কমিয়ে ২ হাজার ৪০০ করা হয়েছে। ফলে তাদের নতুন বেতনক্রম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২০ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। একইভাবে বেতন কমানো হয়েছে কলেজের অধ্যাপকদেরও। আসলে মণিপুর সরকার মনে করছে, রাজ্যের বর্তমান আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিতে উপযুক্ত বেতনই দেওয়া হবে শিক্ষকদের। স্বাভাবিকভাবেই হঠাৎ বেতনহ্রাসের ঘটনায় আকাশ ভেঙে পড়েছে শিক্ষকদের মাথায়। রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন তাঁরা। শনিবার থেকে তিনদিনের জন্য ক্যাজুয়াল লিভ নিয়েছেন রাজ্যের অধিকাংশ শিক্ষক। সংখ্যাটা ১০ হাজারেরও বেশি।

শিক্ষকদের সংগঠনের তরফে এক বিক্ষোভকারী জানাচ্ছেন, “সরকার যেখানে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতির জন্য একাধিক পদক্ষেপ করছে, সেখানে শিক্ষকদের বেতন কমিয়ে আসলে তাঁদের অপমান করা হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য অসম্মানের। এভাবে শিক্ষকদের গ্রেড পে কমিয়ে দুর্দশার দিকে ঠেলে দেওয়ার কোনও মানে হয় না।”

কিন্তু বাংলায় প্রাথমিক শিক্ষকরা পিআরটি স্কেলের দাবিতে আন্দোলন করছে। দশম দিনে পড়ল তাদের অনশন। রাজ্য বিজেপির নেতারা একাধিকবার অনশন মঞ্চে গিয়েছেন। রাজ্যে ক্ষমতায় এলে প্রথম বৈঠকেই অন্য রাজ্যের শিক্ষকদের সঙ্গে এরাজ্যের শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন সায়ন্তন বসু, দিলীপ ঘোষরা।

 

Spread the love