কলকাতা প্রথম পাতা

সংখ্যাগরিষ্ঠ সঙ্গে নেই, চেয়ার ছাড়ুন! আপনি এত নির্লজ্জ কেন? বনগাঁর শাসক চেয়ারম্যানকে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিনিধি: বনগাঁর পুরসভায় আস্থা ভোটের দিন বিজেপি কাউন্সিলরদের পুলিশ ও তৃণমূল সমর্থকরা কী ভাবে আটকে দিয়েছিলেন তা সংবাদমাধ্যমে লাইভ দেখা গিয়েছে। যদিও শাসকদলের তা মানতে পারে নি। উল্টে তাদের দাবি বিজেপটি কাউন্সিলররা সময় মতো না আসাতেই বনগাঁ পুরসভার বোর্ড দখল করেছে তৃণমূল। তবে এ ব্যাপারে যে হাইকোর্টে ফের মামলা হবে সেই আশঙ্কা জলের মতো পরিষ্কার ছিল। বনগাঁ পুরসভার অনাস্থা প্রক্রিয়াতেই ভুল ছিল। শুক্রবার এমনই মন্তব্য করলেন হাইকোর্টের বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়।  বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্যকে চরম ভর্তসনা করেন তিনি। বিচারপতি বলেন, “সংখ্যাগরিষ্ঠ সঙ্গে নেই, তবুও চেয়ার আঁকড়ে আছেন?

আপনি এত নির্লজ্জ কেন?”শুধু বনগাঁ নয়, হালিশহর পুরসভা তৃণমূল যে ভাবে পুনর্দখল করেছে তা নিয়েও এদিন তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি। তিনি বলেন, হালিশহরে শুনলাম হোয়াটস অ্যাপ মেসেজে অনাস্থা নোটিস পাঠানো হয়েছে। হচ্ছে টা কী? এর আগেও বনগাঁর ঘটনা নিয়ে হাইকোর্ট ভর্ৎসনা করেছে। তবে এ দিন যে মন্তব্য বিচারপতি করেছেন তা শাসক দলের জন্য যে প্রবল অস্বস্তিকর তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এদিন আদালতে বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় বলেন, “সংখ্যাগরিষ্ঠের আনা প্রস্তাব মানা হয়নি। এটি গণতন্ত্রের পক্ষে ভুল।” এরপরই তিনি বলেন, “চেয়ারম্যান কাউন্সিলরদের আটকে দিয়েছে। এটি অত্যন্ত অন্যায় হয়েছে।” আদালতে অ্যাডভোকেট জেনারেলকে বলেন, “চেয়ারম্যানকে ফের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ দিতে হবে।”লোকসভা ভোটের পর গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন বনগাঁ পুরসভার ১২ জন কাউন্সিলর। বনগাঁ পুরসভায় ২২টি ওয়ার্ড রয়েছে।এর মধ্যে তৃণমূলের দখলে ছিল ২০টি। একটি বাম এবং একটি ওয়ার্ড ছিল কংগ্রেসের। ১২ জন তৃণমূল কাউন্সিলর বিজেপি-তে যাওয়ার পর, জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব ফের নিজেদের হারানো  জমি ফেরাতে ময়দানে ঝাঁপান।সেইমত দলত্যাগীদের মধ্যে শম্পা মহান্তি নামে এক কাউন্সিলরকে তাঁরা বিজেপি থেকে তৃণমূলে ফিরিয়ে আনতেও সফল হন। ফলে পুরসভার সমীকরণ দাঁড়ায় বিজেপি ১১। তৃণমূল ৯।কিন্তু আস্থা ভোটের দিন সংখ্যাগরিষ্টতা প্রমাণ না করেই কার্যত পুরসভার দখল নেয় তৃণমূল।

 

 

Spread the love