জেলা প্রথম পাতা রাজ্যের খবর

সব হয় রাস্তা হয় না! স্কুলে যাওয়ার পাকা রাস্তাতেই তাই ধানের বীজ রোপন করে প্রতিবাদ জানাল পড়ুয়ারা

নিজস্ব প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাওয়ার পাকা রাস্তার দাবী পূর্ণ না হওয়ায় স্কুলে যাওয়ার বেহাল কাদাময় রাস্তায় ধান রোপন করে প্রতিবাদ স্কুল পড়ুয়াদের। শুধু তাই নয় স্কুলে যাওয়ার বেহাল রাস্তা নির্মাণ না হলে প্রশাসনের উদ্দেশ্য করে আগামীতে পথ অবরোধের হুশিয়ারি স্কুল পড়ুয়াদের। বৃহস্পতিবার এই ঘটনাটি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমন্ডি ব্লকের ঢাকঢোল এলাকার। এই এলাকাতেই রয়েছে স্বাধীনতার পূর্বে গড়ে উঠা ঢাকঢোল উচ্চ বিদ্যালয়(উঃ মাঃ)। রয়েছে একটি হাট, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি শ্মশান। স্বাধীনতার পূর্বে একদা গড়ে উঠা এই ঢাকঢোল উচ্চ বিদ্যালয়(উঃ মাঃ)-এ বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ১৩৮৫ এবং বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা ৩৩ জন। শিবকৃষ্ণপুর থেকে এই ঢাকঢোল উচ্চ বিদ্যালয়টির দূরত্ব প্রায় ৬ কিলোমিটার। স্থানীয় এলাকা সূত্রে জানা গিয়েছে দীর্ঘদিন ধরে শিবকৃষ্ণপুর থেকে ঢাকঢোল উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত এই রাস্তাটি বেহাল অবস্থায় ছিল। এরপর কিছুদিন পূর্বে শিবকৃষ্ণপুর থেকে ঢাকঢোল উচ্চ বিদ্যালয় অভিমুখে প্রায় আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার ঢালাই রাস্তা নির্মাণ হওয়ার পর রাস্তার কাজ বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের কাজ অসম্পূর্ণই থেকে যায়।

শিবকৃষ্ণপুর থেকে ঢাকঢোল উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত এই প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তার কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় স্কুলের পড়ুয়ারা থেকে শুরু করে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা এবং গ্রামবাসীরা। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার নির্মাণের কাজ সমাপ্ত না হওয়ায় কারনে বর্ষার জলে স্কুলের এই রাস্তা হয়ে উঠেছে বিপদের ফাদ। রাস্তা বেহাল দশার কারনে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা একদিকে যেমন সাইকেল চালিয়ে স্কুলে আসতে পারছে না তেমনি হাটাপথে স্কুলে আসা ছাত্র ছাত্রীরাও পায়ের জুতো হাতে জুতো নিয়ে বেশীরভাগ দিনই কাদা মেখে স্কুলে আসছে। যার ফলে বেশীরভাগ এই স্কুলের বেশীরভাগ ছাত্র ছাত্রীদের অভিভাবকরাই তাদের ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠাচ্ছে না। যার প্রভাব পড়েছে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতিতে। এমনই জানিয়েছেন ঢাকঢোল উচ্চ বিদ্যালয়(উঃ মাঃ)-এর শিক্ষক আফসার আলি। এদিন শিক্ষক আফসার আলি জানান প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ না হওয়ার দরুন মুমুর্ষ রুগীদের প্রায় ঘাড়ে করে নিয়ে যেতে হয়। ঢাকঢোল উচ্চ বিদ্যালয়(উঃ মাঃ) স্কুলের শিক্ষক লুকাস হেমব্রম এদিন অভিযোগ করে বলেন এর আগে নেতারা এসে আশ্বাস দিয়ে গেছেন খুব তাড়াতাড়ি রাস্তা হয়ে যাবে কিন্তু আজ পর্যন্ত রাস্তা হয়নি। স্কুলে যাওয়ার প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তার এই বেহাল দশার কারনে তিতিবিরক্ত  স্কুলের পড়ুয়াদের ক্ষোভ এদিন চরমে উঠলে ঢাকঢোল উচ্চ বিদ্যালয় স্কুলের পড়ুয়ারা এদিন কাদাময় এই বেহাল রাস্তাতে ধান রোপন করে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি ফের একবার পাকা রাস্তার দাবী তোলে। সেই সঙ্গে পাকা রাস্তা নির্মাণ না হলে আগামীতে পথ অবরোধ করারও হুমকি দেয় এদিন প্রতিবাদরত স্কুল পড়ুয়ারা। ঘটনার পরে কুশমন্ডি পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ কাজল সরকার-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এই রাস্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন এটা আমাদের সরকারের তরফ থেকে অনুমোদিত রাস্তা। তিনি বলেন এই রাস্তার কাজ অনেকটাই হয়ে গেছে, বর্ষার জন্য কিছুটা কাজ বাকি রয়েছে, বর্ষা পেরিয়ে গেলেই সে কাজটা সম্পন্ন হবে।

Spread the love