কলকাতা প্রথম পাতা

রাত পর্যন্ত ফোন ঘাটা মেয়েটার কি করে সূর্যের আলো ফুটতেই প্রাণ চলে গেল! সদ্যজাত হাসপাতালে, চিকিৎসার গাফিলতিতে নামজাদা হাসপাতালে মৃত্যু ২ মায়ের

নিজস্ব প্রতিনিধি: চিকিৎসায় গাফিলতি। এযেন রোজকার চেনা পরিচিত কথা। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও শোনাই যাচ্ছে চিকিৎসকদের গাফিলতিতে চলে গিয়েছে প্রাণ। পাল্টা চিকিৎসকদের বক্তব্য মৃত্যুকে আটকানোর ক্ষমতা তাদের কাছে নেই বললেই চলে। তবে তাঁরা তাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করেন যাতে কারুর প্রাণ চলে না যায়। কিন্তু কে বোঝে কার কথা। তবে শহর কলকাতার নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে গিয়েছে চিকিৎসার গাফিলতিতে রোগী মৃত্যু। এবার সেই তালিকায় নাম তুলল আলিপুরের এক নাম করা বেসরকারি হাসপাতালের। এবং একজন নন, দু’জন প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে ওই হাসপাতালে। দুই পরিবারেরই দাবি, সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরে ভালোই ছিলেন নতুন মায়েরা। সুস্থ ভাবে পরিবারের সঙ্গে কথাও বলেছেন। কিন্তু আচমকা দু’জনকেই ভেন্টিলেশনে দিতে হয়। আর তারপরেই সব শেষ। প্রতি বারের মতোই এ বারও দায় এড়িয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, অভিযোগ হাসপাতালের তরফে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে ওই দুই পরিবারের সঙ্গে। এমনকী তাঁদের হুমকির জন্য একটি পরিবার মৃতার নাম-পরিচয় পর্যন্ত জানাতে ভয় পাচ্ছে। কারণ সদ্যোজাত যমজ সন্তানরা এখনও হাসপাতালে রয়েছে। তাদের আশঙ্কা হাসপাতালের বিরুদ্ধে এখন মুখ খুললে ক্ষতি হতে পারে নবজাতকদের। কিন্তু একটা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যদি সত্যি চিকিৎসার গাফিলতির ফলেই রোগীর মৃত্যু হথ তাহলে তা চুপ করে আপোশে মেটাতে কেন হবে?

কেনই বা মুখ খুললে তাঁর খেসারত সদ্যজাতকে দিতে হবে?জানা গিয়েছে, ২৯ বছরের পৌলমী ভট্টাচার্য সান্যাল। শুক্রবার ভর্তি হয়েছিলেন আলিপুরের ওই বেসরকারি হাসপাতালে। সেদিন বিকেলেই জন্ম দেন ফুটফুটে এক কন্যা সন্তানের। পৌলমীর স্বামী জয়ন্ত সান্যাল জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী একেবারেই সুস্থ-স্বাভাবিক ছিলেন। পরিবারের সকলের সঙ্গে স্বাভাবিক ভাবে কথাও বলেছিলেন। এমনকী রাতে হোয়াটসঅ্যাপেও অনলাইন ছিলেন পৌলমী।কিন্তু ভোরের দিকে সব শেষ। হাসপাতাল থেকে ফোন যায় পরিবারের কাছে। জানানো হয়, ভোর চারটে নাগাদ ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়েছে পৌলমীকে। হাসপাতালের তরফে আরও বলা হয়, পৌলমীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।কিন্তু পরিবারের হঠাৎ কি এমন হল যে তাঁকে ভেন্টিলেশন দিতে হল এমনকি সেখান থেকে আর বাঁচিয়ে নিয়ে আসা গেল পৌলমীকে। মৃতার স্বামী জয়ন্ত জানিয়েছেন, “সকালে হাসপাতালে গেলে জানতে পারি আমার স্ত্রী মারা গিয়েছেন। অনেক ডাক্তার এসে আমাদের বোঝাতে শুরু করেন কেন ওঁর মৃত্যু হয়েছে। তখনই জানতে পারি রাত বারোটার পর একাধিকবার অপারেশন থিয়েটারেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ওঁকে। এবং অস্ত্রোপচারও হয়। অথচ কেউ আমাদের কিছু জানালো না, অনুমতি নিল না।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলেই মৃত্যু হয়েছে পৌলমীর। এমনকী পৌলমীর হিমোগ্লোবিন আচমকাই ১০ থেকে নেমে ৪ হয়ে যায়। ডেথ সার্টিফিকেটেও লেখা হয়েছে সে কথা। এই খানেই উঠেছে নানা প্রশ্ন।গোটা ঘটনায় স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন পৌলমীর পরিবার। এই নিয়ে রাজ্য হেলথ রেগুলেটরি কমিশন, মেডিক্যাল কাউন্সিল এবং মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হবেন বলেও জানিয়েছেন পৌলমীর স্বামী জয়ন্ত সান্যাল। সকলের একটাই দাবি হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখুক পুলিশ। তাহলেই সব স্পষ্ট হবে। জানা যাবে পৌলমীর মৃত্যুর আসল কারণ।

 

Spread the love