দেশ প্রথম পাতা লাইফ স্টাইল

‘বয়েজ লকার রুম’ তদন্তে নয়া মোড়, গণধর্ষণের কথা বলে নাবালিকা ।

বয়েজ লকার রুম তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্ন্যাপচ্যাটে বিতর্কিত গণধর্ষণের কথা বলা চরিত্রটি আদতে কোনও পুরুষ নয়। সে এক নাবালিকা। পরিচয় গোপন করে ‘সিদ্ধার্থ’ নামের আড়ালে নিজের আসল চরিত্রকে গণধর্ষণের কথা বলে স্ন্যাপচ্যাটে। উল্টো দিকে থাকা ছেলেটির প্রতিক্রিয়া কেমন হয় এবং তার চরিত্র সম্বন্ধে নিজের সন্দেহ দূর করার জন্যই নাকি সেই কিশোরী পুরুষের ভেক ধরে গণধর্ষণের প্রসঙ্গ তোলে। আপাতত তদন্তে এই তথ্যই উঠে এসেছে বলে রবিবার জানিয়েছে দিল্লি পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট।
তবে এটাও স্পষ্ট করা হয়েছে, এরা কেউ-ই সংশ্লিষ্ট বয়েজ লকার রুমের সঙ্গে যুক্ত নয়। আলোচনাটি হয়েছে স্ন্যাপচ্যাটে। বিতর্কের মধ্যে উঠে এসেছে বেশ কয়েকটি আলোচনার স্ক্রিনশটের একটি। পুলিশ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এক নাবালককে আটক করা হয়েছে।
চ্যাটের স্ক্রিনশটে দেখা যাচ্ছে, ‘সিদ্ধার্থ’ উল্টোদিকে থাকা কিশোরকে কোনও একটি মেয়ের উল্লেখ করে বলছে, ‘আমরা ওকে সহজেই ধর্ষণ করতে পারি। আমি খুব সিরিয়াস। …ওকে ফোন করো। যেখানে আসতে বলবে চলে আসব। আরও এক-দু’জন ছেলেকে আমি ডাকছি। সবাই মিলে গণধর্ষণ করব।’ পুলিশ জানিয়েছে, উল্টোদিকে থাকা কিশোর এই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। সে নিজের বন্ধুদের বিষয়টি জানায়। সেই বন্ধুদের মধ্যে ‘সিদ্ধার্থ’ চরিত্রটির ভেক ধরা কিশোরীও ছিল, যাকে ধর্ষণ করার প্রস্তাব রাখে ‘সিদ্ধার্থ’। তবে ওই কিশোরী বিষয়টি কাউকে জানায়নি। কিশোরের এক বন্ধু স্ক্রিনশটটি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে। সেখান থেকে তা ভাইরাল হয়ে যায়। বয়েজ লকার রুমের কথোপকথনের বিভিন্ন স্ক্রিনশটের মধ্যে মিশে যায়। স্পর্শকাতর হওয়ায় নজরেও পড়ে সকলের।
রহস্যমোচনে উঠে এসেছে অন্য বিতর্কও। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কী ভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ট্রায়ালে ছেলেদের দোষী সাব্যস্ত করে দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কেউ কেউ গার্লস লকার রুমের বিভিন্ন কথোপকথনের স্ক্রিনশট সামনে এনে দেখিয়েছেন, কী ভাবে সেই আলোচনায় পুরুষের যৌনাঙ্গ নিয়ে কুমন্তব্য করা হয়েছে। দাবি উঠেছে সেই অভিযুক্তদের ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নেওয়ার। যার পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লির মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন স্বাতী মালিওয়াল শুক্রবার বলেন, ‘যৌন আপত্তিকর মন্তব্য গ্রাহ্য করা হবে না। অভিযুক্ত ছেলে হোক বা মেয়ে বা রূপান্তরকামী। লিঙ্গের ভেদাভেদ এড়িয়ে পুলিশের উচিত সঠিক তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা।’
দিল্লির মানবাধিকার কর্মী দীপিকা নারায়ণ ভরদ্বাজ বলেন, ‘যা ঘটল, তা ভয়ঙ্কর। মিটু আন্দোলনের সময় থেকেই এরকম চলে আসছে। কোনও তদন্ত ছাড়াই একজন মহিলার একটা পোস্টের ভিত্তিতে সোশ্যাল মিডিয়া ট্রায়াল শুরু হয়ে যাচ্ছে। বয়েজ লকার রুমে যে ভাষায় ছেলেরা কথা বলেছে, সেটা ঠিক নয়। এটা নিয়ে বিতর্কের কোনও অবকাশ নেই। কিন্তু গণধর্ষণ করার যে আলোচনাটা হয়েছে, সেটি আদতে একটি মেয়ের করা। এখন তো মনে হচ্ছে, এটা একটা প্লট।’

Spread the love