উত্তরবঙ্গ জেলা প্রথম পাতা লগডাউন

করোনা দুর্যোগের সময় মংপুর সিঙ্কোনা বাগান নিয়ে নয়া প্রস্তাব ।

শিলিগুড়ি — দেশ জুড়ে করোনা দুর্যোগের জেরে লক ডাউন। সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে ভারতের এক মহৌষধী হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের দিকে। করোনা ঠেকাতে নাকি এই মুহূর্তে এক থেকে বড় ওষুধ আার কিছু নেই। আর এর সূত্র ধরেই আবারও উঠে আছে দার্জিলিং পাহাড়ের মংপুর নাম।
বিশেষ করে ভারতের কাছে ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন আমেরিকা চেয়ে পাঠানোর পরপরই মংপুর সিঙ্কোনা বাগান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। আগে ম্যালেরিয়ার ওষুধ তৈরি হতো মংপুতে। কিন্তু ২০০১ সাল থেকে মংপুর সেই কারখানা বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। সিঙ্কোনা বাগানের কারখানা ২০১১ সাল থেকে বন্ধ থাকলেও সেখানে এখনও পনের জন কর্মী রয়েছেন। তাদের কার্যত বসিয়েই বেতন দেওয়া হয়। যদিও আগে অনেক কর্মী ছিলেন ।
একসময় দার্জিলিং পাহাড় ও সমতলে খুব ম্যালেরিয়া হোত। তারপর মংপুতে তৈরি হয় ক্যুইনাইন তৈরির কারখানা । সিঙ্কোনা কারখানার অধিকর্তা স্যামুয়েল রাই বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে এখানে গাছের ছাল সংগ্রহ করা হতো । তা থেকে তৈরি করা হতো ক্যুইনাইন সালফেট। এখন সেসব বন্ধ। এখন এই করোনা শুরু হওয়ার আগে থেকেই তাঁরা শুনে আসছিলেন রাজ্য সরকার সিঙ্কোনা প্ল্যানটেশন নিয়ে কিছু পরিকল্পনা নিয়েছেন। এখন করোনা পরিস্থিতির কারনে তাঁরা আশা করছেন রাজ্য সরকারের সেই পরিকল্পনা আরও দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। এই কারখানা ও সিঙ্কোনা বাগান আবার চাঙ্গা হলে বহু বেকারের আবার নতুন করে কর্মসংস্থান হবে। প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক সেখানে আছে যাদের মনেও নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে যে এই করোনা দুর্যোগের কাজ হারানোর সময় তাদের নতুন করে কাজ হতে পারে। রাই আরও বলেন, মংপুর সিঙ্কোনা বাগান, কারখানা এবং এখানকার পাহাড়ি পরিবেশের গাছগাছড়া নিয়ে নতুন করে গবেষণা শুরু হলে বহু রোগের ভেষজ ওষুধ এখান থেকে আবিষ্কার করা যেতে পারে ।

Spread the love