কলকাতা প্রথম পাতা

পুলিশও নন আবার সিভিকও নন, কিন্তু তাও সামলাতে হবে ট্রাফিক!  নিয়ম ভাঙলেই রাস্তায় দাঁড়ানোর নির্দেশ আদালতের

নিজস্ব প্রতিনিধি: দিল্লির সংসদ ভবনে দাঁড়িয়ে খোদ কেন্দ্রীয় পরিবহন মন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন কোনভাবেই রাস্তায় দুর্ঘটনায় রাশ টানা যাচ্ছে না। তবে সেই বিষয়ে বাড়তি নজর দিয়ে আরো কড়া মনোভাব নিচ্ছে কেন্দ্র-রাজ্য দুতরফই। তবে এবার পথ নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে অভিনব পন্থা নিয়েছে আদালতও। পুলিশ নন সিভিকও নন কিন্তু নিয়ম ভাঙলে দায়িত্ব নিতে হবে রাস্তার ট্রাফিক সামলানোর। হ্যাঁ, এই সিদ্ধান্তই সম্প্রতি একটি মামলায় নিয়েছে আদালত। ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে খবর, ১৮ জুলাই আনন্দপুর রোডে ট্রাফিক গার্ডের অফিসার ইন-চার্জ নীলেশ চৌধুরী দেখেন, একটা মোটরবাইকে তিনজন আরোহী যাচ্ছেন। তাঁদের কারও মাথায় হেলমেট নেই। তিনি এবং পুলিশ ড্রাইভার ইমদাদুল আলি তাঁদের থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বাইকটি পাশ কাটিয়ে দ্রুতগতিতে চলে যাওয়ার সময় ইমদাদুলের হাতে লাগে বলে জানা গিয়েছে। এই সময় এক পথচারীকেও ধাক্কা মারে বাইকটি।কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। চৌবাগার কাছে হেরিটেজ কলেজের সামনে বাইকটিকে ধরা হয় বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ দেখে পিছনে বসে থাকা দু’জন পালিয়ে গেলেও পালাতে পারেননি চালক। জানা যায়, তাঁর নাম বিক্রান্ত সিং। ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ছাত্র বিক্রান্ত মাদুরদহের বাসিন্দা। তাঁকে গ্রেফতার করে ট্রাফিক পুলিশ।

পরে তাঁকে আদলতে তোলা হলে এক অভিনব নির্দেশ দেন বিচারক। বিচারক জানান, বিক্রান্তকে জামিন দেওয়া হবে। তবে তা একটা শর্তে। প্রতি সপ্তাহে তিনদিন রুবি ক্রসিংয়ের কাছে ট্রাফিক গার্ডে এসে তাঁকে হাজিরা দিতে হবে। এমনকী ওই তিনদিন তিন ঘণ্টা করে ট্রাফিক সামলানোর কাজও করতে হবে তাঁকে। বিচারক বলেন, এ ভাবেই হয়তো তিনি বুঝতে পারবেন ঠিকভাবে গাড়ি চালানো কতটা জরুরি।আদালতের এই অভিনব সিদ্ধান্তের কথা নিজেদের ফেসবুক পেজে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ। এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করছেন সাধারণ মানুষ।

 

 

Spread the love