কলকাতা জেলা প্রথম পাতা

মানি-মানি-মানি! মানি ইজ হানি, জোট ভেস্তে যাওয়ার পর কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু

নিজস্ব প্রতিনিধি: অবশেষে বাংলায় বাম-কংগ্রেস আসন সমঝোতায় জলই পড়ে গিয়েছে। সমঝোতা ভেস্তে গিয়েছে দুই শিবিরেই। আর ভেস্তে যাওয়ার কারণ হিসাবে  এ বার কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। বর্ষীয়ান এই বাম নেতা শনিবার বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম বিজেপি ও তৃণমূল বিরোধী ভোটের সমাহার ঘটাতে। কিন্তু কংগ্রেস আলোচনা এগিয়েও তা চূড়ান্ত করেনি। এখন তো শুনছি মানি ব্যাগ ঘোরাফেরা করেছে।” গোটাটার জন্য তিনি ‘অর্থনৈতিক লেনদেন’কে দায়ী করেছেন। কংগ্রেস যদিও পাল্টা তোপ দেগেছে বামেদের বিরুদ্ধে।

এ দিন কংগ্রেসের নাম না করে বিমানবাবু মন্তব্য করেন, বিজেপি-তৃণমূলের বিরোধী ভোট এক করতে চেয়েছিলাম। শোনা যাচ্ছে, মানি ব্যাগ ঘুরে বেড়াচ্ছে সর্বত্র। মানি ব্যাগ বেশি করে দিলে, কিসের এত আলোচনা?  ঠারেঠোরে সিপিএমের এই পলিটব্যুরোর সদস্য বোঝাতে চেয়েছেন, কংগ্রেস নেতারা টাকা পয়সা নিয়ে এই কাজ করেছেন। বিমান বসু স্বভাবসিদ্ধ ঢঙেই এ দিন বলেন, “মানি-মানি-মানি। মানি ইজ হানি।” কিন্তু কে টাকা দিয়েছে? এ দিন ধর্মতলার কাছে হবু শিক্ষকদের অনশন ধর্নায় বাম প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এসেছিলেন ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমানবাবু।এর জবাব দিতে ছাড়েননি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রও।আসন সমঝোতা না হওয়ায় তিনি কার্যত বামফ্রন্টকেই দায়ী করছেন। এ দিন চাঁচলে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধীর জনসভায় উপস্থিত হয়েছিলেন সোমেন মিত্র।বিমানবাবুর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন,“খেলা যখন হয়েছে, তার ফলাফল ওরাই বের করুক। এমন কিছু হয়নি। কারা টাকা দিয়েছে, কাকে দিয়েছে, ওরা বলুক? কেন জোট ভাঙল ওরা বলতে পারবে? ওরা আমাদের প্রার্থী ঠিক করে দেবে তা তো হয় না।” রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আসন সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ায় বিমানবাবুরা যে খুব ভেঙে পড়েছেন তা নয় । শুধু রায়গঞ্জ আর মুর্শিদাবাদ আসন ধরে রাখতে চায় বামেরা। সেখানে চতুর্মুখী লড়াই হলে সমীকরণ ওলোট-পালোট হয়ে যেতে পারে। তাঁদের মতে, লড়াই চতুর্মুখী হোক আর পঞ্চমুখী হোক, তাতে বামেদের খুব একটা ফায়দা তোলার জায়গা নেই।

 

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।