অফবীট কলকাতা প্রথম পাতা রাজ্যের খবর

স্কুল না খুললেও মে-র শুরুতে মিড ডে মিল , জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ১৫ মার্চ থেকেই রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তার পর ২৩ মার্চ বিকেল থেকে টানা লকডাউন চলছে। আপাতত খুলছেও না স্কুল বা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি। রাজ্যের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ডাকা বৈঠকে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মে মাসে আমরা আইসিডিএস এবং স্কুলে আবার মিড ডে মিল দিয়ে দেব। যেহেতু এখন স্কুল খোলার সম্ভাবনা নেই, তাই মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই মিড ডে মিল বাবদ বাচ্চাদের ২ কেজি করে চাল ও আলু দিয়ে দেব। এপ্রিলে সরকারি, সাহায্যপ্রাপ্ত ও পোষিত স্কুলগুলোর পড়ুয়াদের মিড ডে মিল দেওয়া আছে।’
রাজ্যে আর্থ-সামাজিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের এক জন মানুষও যাতে খাবার না-পেয়ে কষ্টে না-থাকেন, সেই জন্য মমতার এই আন্তরিক উদ্যোগ।
ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক এ দিনই ঘোষণা করেছেন, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ১৭ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ভার্চুয়াল ক্লাসে জানান, লকডাউন উঠে গেলেই ‘যুদ্ধকালীন তৎপরতায়’ পরীক্ষার ফল প্রকাশের চেষ্টা করা হবে। তাঁর কথায়, ‘খাতা দেখার পর্ব শেষ। যে টুকু কাজ বাকি আছে, লকডাউন উঠলেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তা মিটিয়ে ফেলা হবে।’
মাধ্যমিক পরীক্ষা ২৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হলেও ট্রেন-বাস বন্ধ থাকায় অনেক বিষয়েরই সেকেন্ড লটের খাতা প্রধান পরীক্ষকের বাড়িতে জমা দিতে পারেননি পরীক্ষকরা। ফলে, সেই সব খাতার স্ক্রুটিনিও বাকি। রেজাল্ট তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও আটকে আছে।এমনকী, উচ্চ মাধ্যমিক, সিবিএসই এবং আইসিএসই-আইএসসি পরীক্ষাও মাঝপর্বে স্থগিত রয়েছে। ফলে, সেই সব পরীক্ষার খাতা দেখার কী হবে, তা এখনও অনিশ্চিত। এই পরিস্থিতিতে স্কুলগুলোয় গরমের ছুটির কী হবে, সেটাও পরিষ্কার নয়। এই ব্যাপারে নবান্নের নির্দেশের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্কুলশিক্ষা দপ্তর।
ওয়েস্ট বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশন অফ খ্রিস্টান মিশনারি স্কুলসের সেক্রেটারি মলয় ডি’কস্টা বলেন, ‘এই জরুরি পরিস্থিতিতে স্কুল বন্ধ ও খোলা এবং পরীক্ষা গ্রহণ, সব কিছুর ব্যাপারেই আমরা সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী চলব।’ আইসিএসই স্কুলগুলোর সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি সুজয় বিশ্বাসেরও বক্তব্য, ‘দেশের বহু রাজ্যে সিআইএসসিই-র স্কুলগুলো ছড়িয়ে আছে। করোনার মতো মহামারীর মোকাবিলায় কাউন্সিলের পাশাপাশি কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাজ্য সরকার যে সব সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা তা মেনে চলব।’
মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক ২৫ মার্চ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, করোনা ভাইরাসের প্রতিরোধে দেশ জুড়ে লকডাউন চলছে। এই অবস্থায় স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সংশোধিত বা বিকল্প শিক্ষাবর্ষের ক্যালেণ্ডারের তৈরি করুক। সেই নির্দেশকে হাতিয়ার করে কলকাতার বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর একাংশ ইতিমধ্যেই বিকল্প শিক্ষাবর্ষের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। মে-জুনের পরিবর্তে গ্রীষ্মের ছুটি এগিয়ে এনে লকডাউন চলাকালীন এপ্রিলেই তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে ওই সব স্কুল।

Spread the love