জেলা প্রথম পাতা রাজ্যের খবর

মমতার কোর্টে বল, ‘ছাতা’ তৈরী সব্যসাচীরও! মেয়রকে কোনঠাসা করে তাপসের হাতেই দায়িত্ব গেল বিধাননগরের

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিধাননগর  মেয়রের পদ থেকে যে সব্যসাচী দত্তকে সরানো হচ্ছেই, কাউন্সিলরদের নিয়ে ফিরহাদ হাকিমের বৈঠক শেষ হওয়ার পরই তা ক্রমশ স্পষ্ট হতে শুরু করল। দলীয় সূত্রে খবর, আপাতত মেয়র সব্যসাচী দত্তর পরিবর্তে পৌর নিগমের কাজ দেখভাল করবেন ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়। যদিও তৃণমূলের কেউ এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। বৈঠক সেরে বেরনোর সময় ফিরহাদ হাকিমও সিদ্ধান্তের বিষয়ে মন্তব্য এড়িয়ে যান। যা জানানোর তিনি দলনেত্রীকেই জানাবেন, বলেন ফিরহাদ। তবে তৃণমূলের একটি অংশ দাবি করছে, বৈঠক থেকেই সব্যসাচীকে ফোন করে ফিরহাদ হাকিম জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁর আপাতত পুরসভায় ঢোকার দরকার নেই।বেশ কিছু দিন ধরেই সব্যসাচী দত্তর অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। তিনি দলে থাকছেন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বত্র। কিন্তু সে প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা ।

এমনকি প্রকাশ্যে তাঁকে ভর্ৎসনা করতেও ছাড়েননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্য দিকে, স্পষ্ট জবাব না দিয়ে জল্পনা বাড়িয়েই চলেছেন সব্যসাচী। রবিবার তাঁকে নিয়ে দলের অবস্থান পাকা করতে  বিধাননগরের ৩৮ জনের মধ্যে ৩৬ জন কাউন্সিলারই ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। তৃণমূলের একটি অংশের মতে, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে কার্যত দলের শৃঙ্খলাই নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। অন্য অনেক নেতা-নেত্রীই একই ভাবে এই পন্থা নিতে পারত।কিন্তু তাঁকে নিয়ে যখন ব্যস্ততা তৃণমূলের অন্দরে তখনও প্রত্যয়ের সুর সব্যসাচীর গলায়।কার্যত তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “যখন বৃষ্টি নামবে, তখনই ছাতা বের করব।” তবে কি তাঁর ছাতা তৈরি? নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি নিশ্চিন্ত। এমনকী সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলরকে পাশে নিয়ে বিধাননগরের মেয়র পদে থেকে যাওয়ার ব্যাপারেও তিনি যে নিশ্চিন্ত, তা হাবেভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। তবে তৃণমূল ভবনে বৈঠকের পরে তৃণমূল নেতাদের একাংশ অবশ্য দাবি করছেন, এ বার সব্যসাচীর গদি যাচ্ছেই। কারণ, বিধাননগর পুরসভার ৩৬ জন কাউন্সিলরই নাকি সেই বৈঠকে হাজির থেকে সব্যাসাচীর পরিবর্তে তাপস চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।তবে যে যাই বলুক শেষমেষ বিধাননগরের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয় সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।