কলকাতা প্রথম পাতা রাজনৈতিক

২১-এর মঞ্চে দেখা মিলল না মদন মিত্রকে, কিন্তু কেন?

নিজস্ব প্রতিনিধি— এর আগে ২১ জুলাই মঞ্চের সামনে অনুগামীদের সঙ্গে নিয়ে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি সকল বক্তাদের বক্তৃতা তাঁকে মন দিয়ে শুনতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এবারের একুশে জুলাইয়ে তাঁকে মঞ্চের ত্রি সীমানায় দেখা গেল না। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনেতিক জল্পনা।

কিন্তু হঠাৎ এমন কি হল?

বিষয়টা নিয়ে মদন মিত্র জানান, “মিছিলে গেছিলাম। তবে শরীরটা খারাপ লাগল, তাই বাড়ি ফিরে এলাম। মঞ্চ পর্যন্ত যাইনি।”

প্রতি বছরের একুশে জুলাইয়ের ট্রেন্ড ভেঙেছে এবারে। প্রতিবছর বৃষ্টিকে মাথায় নিয়ে দিদির বক্তব্য শুনতে দাঁড়িয়ে থাকেন মানুষজন। কিন্তু এবার ২১-জুলাই, রবিবার হাঁসফাঁস করা গরম ছিল ধর্মতলায়। দূরদূরান্ত থেকে দিদির বক্তৃতার টানে এসেও অনেকেই মাঝপথে উঠে চলে যান। অনেকের মতে, হয়তো গরমের কারণেই মদনবাবুর শরীর খারাপ হয়ে গিয়েছে। তাই বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। তরুণ প্রজন্মের কর্মীদেরই গলদঘর্ম অবস্থা আর মদনের তো কত বয়স!

যদি রাজনৈতিক মহলের অনেকেই একুশের মঞ্চে বা কাছকাছি মদনের অনুপস্থিতি নিয়ে নানান প্রশ্ন তুলছেন। অনেকেরই প্রশ্ন, দিদির সঙ্গে কি দূরত্ব বাড়ছে ভবানীপুরের এই প্রভাবশালী নেতার?

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে ফেসবুক লাইভে এসে মদন মিত্র বলেছিলেন, “আমি এখন একটা চৌরাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে আছি।” সৌগত রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের নাম করে মদন বলেছিলেন, “অনেকের নাম থাকলেও, আমাকেই শুধু সিবিআই বলির পাঁঠা করেছে।”একই সঙ্গে শাসক দলের কারা দফতরকেও সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন মদন। বলেছিলেন, “মাওবাদী ছত্রধর মাহাতোকে প্যারলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমায় দেওয়া হয়নি। আমি তৎকালীন কারামন্ত্রী হায়দার আজিজ সফিকে ৪৩টি আবেদন করেছিলাম। সবগুলো চেপে দেওয়া হয়েছিল।” আর এই সব সব দেখে অনেকেই বলছেন, শাসক দলের সঙ্গে মদন মিত্রের দূরত্ব কি বাড়ছে?

এদিকে, এর মধ্যেই আগামী বুধবার অর্থাৎ ২৪ জুলাই নিজের বাড়িতে ‘রামকথা’র আয়োজন করেছেন। নেমন্তন্নও প্রায় সারা হয়ে গিয়েছে। অনেকে আবার ঠাট্টা করে এ-ও বলছেন, “রামকথা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় হয়তো আসতে পারেননি।”

Spread the love