কলকাতা প্রথম পাতা

বোলপুর থেকে অনুপমের আসাটা আশায় রাখছে বাম-তৃণমূলকে

নিজস্ব প্রতিনিধি— যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র মানে একটা হেভিওয়েট বিষয়। এখানে যাঁরা অতীতে প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদের অনেকে শুধু বাংলার রাজনীতিতে নয়, দেশের রাজনীতিতেও যথেষ্ট সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। এবার এই কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মিমি চক্রবর্তী। যিনি এসেছেন সিনেমার দুনিয়া থেকে। ভোটে দাঁড়ানোটা গণতান্ত্রিক অধিকার। রূপালী পর্দার দুনিয়া থেকে এর আগে অনেকেই সাংসদ-মন্ত্রী হয়েছেন, ফলে মিমির প্রার্থী হওয়াটা নতুন কিছু নয়।

ঐতিহাসিক ভাবে যাদবপুর রাজ্যের ‘হাইপ্রোফাইল’ লোকসভা কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত। এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এক সময় ভোটে লড়তেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। আর যাদবপুর লোকসভা থেকে সাংসদ হয়েছেন ইন্দ্রজিৎ গুপ্ত, সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কৃষ্ণা বসু, কবীর সুমন, সুজন চক্রবর্তী, সুগত বসুর মতো রাজনীতি এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতি জগতের নামী মানুষেরা। সেখানে অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর নাম প্রার্থী হিসাবে আগেই ঘোষণা করেছে তৃণমূল। বামেরা প্রার্থী করেছে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে। মিমি টলিউডের জনপ্রিয় নায়িকা। বিকাশরঞ্জনও রাজ্য-রাজনীতিতে অতি পরিচিত মুখ। জনপ্রিয়তার দাঁড়িপাল্লায় বাম ও তৃণমূল প্রার্থীর তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে বোলপুরের বিদায়ী সাংসদ তথা তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত অনুপম।

রাজনৈতিক অঘটনের জন্যই সুবিদিত যাদবপুর। সোমনাথকে হারিয়ে মমতা লোকসভার সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার আগে পর্যন্ত তাঁকে কেউ ধর্ত্যবের মধ্যে আনেননি। এ বারও তেমন কোনও অলৌকিক কাণ্ড ঘটতে চলেছে বলে অনুপমের দাবি।

যাদবপুরে দলের দায়িত্বে থাকা এক তৃণমূল নেতার ব্যাখ্যা, ‘এখানে মূল লড়াইটা হবে মিমি এবং বিকাশের মধ্যে। বিজেপি ভালো প্রার্থী না দেওয়ায় বাম বিরোধী ভোটের সিংহ ভাগটাই তৃণমূল পাবে। তাতে মিমির জয়ের পথ আরও মসৃণ হবে।’ যদিও বিজেপির নেতারা প্রকাশ্যে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন।’

অনুপমকে নিয়ে আশায় বুক বাঁধছে বামেরাও। সিপিএমের এক রাজ্য নেতার কথায়, ‘বিজেপি-র প্রার্থী দুর্বল হওয়ায় তৃণমূলের বিকল্প হিসাবে বিকাশকেই বেছে নেবেন যাদবপুরের ভোটাররা।’ বিকাশরঞ্জন অবশ্য বলছেন, ‘অনুপম অধ্যাপক এবং প্রাক্তন সাংসদ। তাঁকে ছোট করে দেখা ঠিক হবে না। তবে আমরা নিজেদের জোরেই জিতব।’

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।