কলকাতা প্রথম পাতা

নেতা, বিধায়কদের থেকে মুখ ফিরিয়েছে মানুষ,  বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে তৃণমূল! আঁচ পেয়েই আসরে মমতা

নিজস্ব প্রতিনিধি:  শাসনক্ষমতায় আসার পর থেকেই জনসংযোগে যে ঘাটতি হচ্ছে, সোমবার দলনেত্রীর কথায় এবং ঘোষনায় তা স্পষ্ট ধরা পড়েছে। দলের বিধায়ক, অন্য জনপ্রতিনিধিরা বা দলীয় নেতানেত্রীরা সাধারন মানুষের থেকে যে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন, সে বিষয়ে মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছেন দলনেত্রী। এবং এই বিচ্ছিন্নতার ছাপই ফুটে উঠেছে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে।

সোমবার তাই দলনেত্রী যথেষ্টই গুরুত্ব দিয়েছেন জনসংযোগ কর্মসূচিতে। এই কর্মসূচিতে কীভাবে অংশ নিতে হবে, কারা অংশ নেবেন, ঠিক কী করতে হবে, দলের নেতা-বিধায়কদের তা পাখিপড়া করিয়েছেন সুপ্রিমো। নেতা বা পদাধিকারীরা ঠিক কোন কাজ একদম করতে পারবেন না, সেই নির্দেশও দিয়েছেন সুপ্রিমো। বিধায়কদের বলা হয়েছে, নিজেদের কেন্দ্রে নিবিড়ভাবে জনসংযোগ করতে হবে। এদিন উপস্থিত প্রত্যেক দলীয় বিধায়কের হাতেও একটি করে ‘কিট’ তুলে দেওয়া হয়েছে। সেই ‘কিট’-এ ওই বিধায়কের কেন্দ্রের 5 জন বিশিষ্ট মানুষের নাম ও ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে। বিধায়ককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই 5 জনের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের মুখ থেকে এলাকার সমস্যার কথা শুনতে হবে।মন্ত্রীদের লালবাতি জ্বালিয়ে ঘুরে বেড়ানোতেও কার্যত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নজরুলমঞ্চের বৈঠকে মমতা মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন, হাইওয়ে ছাড়া অন্য কোথাও গাড়ির লালবাতি জ্বালানোই যাবে না। নেত্রী বলেছেন, এই লালবাতি জ্বালিয়ে দৌড়ানোর জন্যই সাধারন মানুষের সঙ্গে দলের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। মমতার নির্দেশ, নিজের এলাকাতে কোনও ভাবেই লালবাতি জ্বালিয়ে ঘোরা যাবে না। নেত্রীর কাছে খবর আছে মন্ত্রী, বিধায়ক, কর্পোরেশনের মেয়র পারিষদ, পুরসভার চেয়ারম্যান, সবাই-ই নিয়ম ভেঙ্গে গাড়িতে লালবাতি লাগিয়ে ঘুরছেন। দলের নেতাদের আচরণে যে

জনবিচ্ছিন্নতার সৃষ্টি হয়েছে, তার বিরুদ্ধে কার্যত ‘যুদ্ধ’-ই ঘোষনা করেছেন মমতা। জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে একাধিক নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে তথা জনবিচ্ছিন্নতা দূর করতে এদিন দলের নেতা-নেত্রী ও বিধায়ক-সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের তৃণমূলনেত্রীর কড়া  নির্দেশ,

  1.  জনসংযোগ বাড়াতে নিজেদের কেন্দ্রে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। 2 আগস্ট থেকে বিধায়কদের এই
  2. জনসংযোগ যাত্রার সূচনা হবে।
  3.  রাতে কোনও বুথকর্মীর বাড়ি থাকতে হবে। অন্য বুথকর্মীদের সঙ্গে একসঙ্গে খেতে হবে।
  4.   নিজেদের কেন্দ্রের বিশিষ্ট মানুষের কাছে যেতে হবে। তাঁদের কথা শুনতে হবে।
  5. 100 দিনে 1,000 জনপ্রতিনিধিকে মোট 10,000 গ্রামে যেতে হবে। রাজ্যের  80% শতাংশ পরিবারের কাছে যেতে হবে তৃণমূল প্রতিনিধিদের
  6.  এই জনসংযোগ কর্মসূচিতে কোনও অসুবিধা হলে যোগাযোগ করতে হবে দলের স্টিয়ারিং কমিটির সঙ্গে। এই কমিটিতে রাখা হয়েছে সুব্রত বক্সি, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, রামপিয়ারি রাম এবং ইন্দ্রনীল সেনকে। এই পাঁচজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। এরাই নেতা-বিধায়কদের প্রয়োজন হলে পরামর্শ দেবেন।
  7.  দলের তরফে যে গ্রামে যেতে বলা হবে, সেখানেই যেতে হবে। নিজেদের ইচ্ছামতো কোথাও যেতে পারবেন না। দলের তরফেই জানিয়ে ঠিক ঠিক সময়ে দেওয়া হবে কোথায় যাবেন বিধায়করা।
  8. যারা  গ্রামে যাবেন, তাঁদের ওপর নজর রাখবে দল।
  9. রাজ্য সরকার  গত 8 বছরে কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী জাতীয় যত প্রকল্প চালু করেছে, সে সব প্রকল্পের কথা বিস্তারিতভাবে প্রতিটি পরিবারে বোঝাতে হবে। প্রয়োজনে বিডিও-র সঙ্গে দেখা করে খামতি বোঝাতে হবে।
  10. এলাকার সংখ্যালঘু, নিম্নবিত্ত,এসসি, এসটি পরিবারে অবশ্যই যেতে হবে।
  11. সঙ্গে দলীয় পতাকা রাখতে হবে। গ্রামে গিয়ে দলের পতাকা উত্তোলন করতে হবে।
  12.  বিধায়করা কোনও গণ্ডগোলে যাবেন না। কোনও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা যাবেনা। দরকার হলে স্থানীয় পুলিশের সাহায্য নেবেন।
  13.  কোনও মণীষীর গ্রামে গেলে তাঁর বাড়িতে অবশ্যই যেতে হবে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হবে।
  14. দলের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এভাবেই জনসংযোগ চালাবেন দলের নেতা, বিধায়ক, অন্য জনপ্রতিনিধিরা।
Spread the love