কলকাতা প্রথম পাতা

ভাষা বিপত্তি! মানিয়ে নিতে পারছি না, জেভিয়ার্সের মেধাবী ছাত্র ঋষিকের লেখা সুইসাইড নোট পুলিশের হাতে

নিজস্ব প্রতিনিধি: হুগলির সিঙ্গুরের বাসিন্দা, কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের পদার্থবিদ্যার প্রথম বর্ষের ছাত্র ঋষিক কোলের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ক্রমশ দানা বাঁধছে সন্দেহ। উচ্চমাধ্যমিকে ইংরেজিতে আশি শতাংশ নম্বর পেয়ছিলেন হৃষিক কোলে। তাই ইংরেজি মাধ্যমে এসে মানিয়ে নিতে সমস্যার পড়েছিলেন সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের প্রথম বর্ষের ওই ছাত্র, তা মানতে নারাজ তাঁর স্কুলের শিক্ষকরা। রহস্য ঘণীভূত হওয়ার মধ্যেই শনিবার মিলল ওই ছাত্রের লেখা সুইসাইড নোট। মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য। এদিকে আজ সকালে ঋষিকের হস্টেলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিস। অন্যদিকে ঋষিকের মামা ও  তার স্কুলের প্রধান শিক্ষক এই ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।কিন্তু কেন আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিল ঋষিক? শুধু সহপাঠীদের মতো ইংরেজিতে চোস্ত কথা বলতে না পারার জন্য? নাকি এর পিছনে অন্য কোনও ‘ঘটনা’ লুকিয়ে আছে? তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। তবে হস্টেলে ঋষিককে কোনওভাবে হেনস্থা করা হয়েছিল কিনা? পরিবার থেকে শিক্ষক সকলেই সেই প্রশ্ন তোলেন। সিঙ্গুর মহামায়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আশিস কুমান সিনহা দাবি করেন, ইংরেজিতে লেকচার শুনতে সমস্যা হয়ে থাকলেও, তারজন্য আত্মহত্যার মত চরম সিদ্ধান্ত ঋষিক নিতে পারে একবারও মনে হয়নি।

যদিও পরিবারের অভিযোগকে নাকচ করে দিচ্ছে সেন্ট জেভিয়ার্স কর্তৃপক্ষ।কলেজ বা হস্টেলে কোনও র‍্যাগিং বা হেনস্থার ঘটনা ঘটেনি। তার পরিবার ও শিক্ষকের অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে সাফ জানাল সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজের প্রফেসর ডা সিলভার স্পষ্ট কথা, “এখানে কোনও র‍্যাগিং হয় না।”কলেজের তরফে বলা হয়েছে, “মাত্র দু’দিন হয়েছে ক্লাস করেছে। ওর যে কোনও সমস্যা ছিল, সেটা বোঝার জন্যও সময় পাওয়া যায়নি। কাউন্সেলিং করার সময় পাওয়া যায়নি। বাংলা মিডিয়াম থেকে অনেকে এখানে পড়াশোনা করে। সেটা কোনও সমস্যা নয়। আর পরিবারকে যে জানাব সে ক্লাস করছে না, তার জন্যও নির্দিষ্ট সময় লাগে। মৃত্যুটা অপ্রত্যাশিত।” প্রসঙ্গত, শুক্রবার হিন্দমোটর-উত্তরপাড়ার রেললাইনের মাঝে উদ্ধার হয় ঋষিক কোলের দেহ। আর তারপরই উস্কে ওঠে জল্পনা।তবে নানা জল্পনার মধ্যে যে সুইসাইড নোটটি উদ্ধার করেছে পুলিশ তাতে ওই ছাত্র লিখেছেন, ‘এখানে সবারই হাই লেভেল প্রোফাইল। সব ক্লাসই ইংরেজিতে পড়ানো হয়। মাথার উপর দিয়ে চলে যাচ্ছে। এখানে মানিয়ে নিতে পারছি না। বাড়িতে জানালে বাপি বকবে।’ তদন্তকারী অফিসারদের ধারণা, এই কদিনের মধ্যেই মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন ওই ছাত্র। এদিন মৃত ছাত্রের নোট দেখে পুলিশের অনুমান তিনি আত্মহত্যাই করেছেন। স্থানীয়দের কথায়, আত্মহত্যার আগে কোন্নগর-উত্তরপাড়া স্টেশনের রেললাইনের ধারে বহুক্ষণ ধরে ঘুরতে দেখা গিয়েছে ওই ছাত্রকে।

পাদানিতে দাঁড়িয়ে বাসের রেষারেষির জেরে মাথায় চোট যাত্রীর, অস্ত্রোপচারে বাদ পরতে পারে কান

Spread the love