করোনা দেশ প্রথম পাতা

দুনিয়ার কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে পিনারাই বিজয়নের রাজ্য কেরল।

মৃত্যুহার নামিয়ে এনে দৃষ্টান্ত গড়ল কেরালা ,ভাইরাসের তাণ্ডব চলছেই। মৃত্যুরও কমতি নেই। সেই মৃত্যুমিছিল ঠেকাতে বিশ্বের তথাকথিত উন্নত দেশগুলোরও ল্যাজেগোবরে অবস্থা। তখন কেরলের মতো ভারতের একটি অঙ্গরাজ্যের লড়াই শিক্ষা নেওয়ার মতোই। শুধু দেশের বাকি রাজ্যগুলির কাছে নয়, দুনিয়ার কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে পিনারাই বিজয়নের রাজ্য কেরল। এই তফাত সামান্যর নয়। শতাংশের হিসেবে পার্থক্যটা সাড়ে ৪ শতাংশের হলেও, আদতে ফারাক জমিন-আসমান।
গোটা দুনিয়ার হিসেবে করোনায় মৃত্যুহার ৫ শতাংশ বলে জানা গিয়েছে। আবার আলাদা করে তুলনায় গেলে অনেক দেশের ক্ষেত্রেই এই মৃত্যুহার ১০ শতাংশেও পৌঁছে গিয়েছে। সেখানে সরকারি পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, কেরালায় মৃত্যুহার মাত্র ০.৫ শতাংশ। সত্যিই কেরালার এই লড়াই কুর্নিশ জানানোর মতোই।
আর পাঁচ রাজ্য বা দেশের মতো কেরালার হাতেও করোনার নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। ভ্যাকসিনও নেই। তবু, ঢাল-তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দার না-হয়ে, হাতের কাছে যা পেয়েছে, তাতেই করোনা রুখে দিয়ে, বাকিদের কাছে বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
কেরালার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজার কথায়, ‘এটা সম্ভব হয়েছে একমাত্র সিস্টেমেটিক কাজের জন্য।’ শুধু মৃত্যুহার নয়, করোনা রোগী সুস্থ হয়ে ওঠার হারেও ওই রাজ্যটি বাকিদের টেক্কা দিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেরালায় এ পর্যন্ত ৩৯৪ জন করোনা পজিটিভ চিহ্নিত হয়েছে। তার মধ্যে ২১৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ২ জনের।
কয়েকটি রাজ্যের সরকারি পরিসংখ্যান দিলে, ফারকটা চোখে পড়বে। নরেন্দ্র মোদীর প্রাণের রাজ্য গুজরাতের কথাই ধরা যাক। গুজরাতে ৭৬৬ জনের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ৩৩ জন মারা গিয়েছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি গিয়েছেন ৬৪ জন। দিল্লিতে ১৫৭৮ জন করোনা পজিটিভ। এরই মধ্যে ৩২ জন মারাও গিয়েছেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৪০ জন। মহারাষ্ট্রের কথা বাদই দিন। কর্নাটকে ২৭৯ আক্রান্তের মধ্যে ১২ জন মারা গিয়েছেন । সুস্থ ৮০ জন। পঞ্জাবে ১৮৬ আক্রান্তের মধ্যে ১৩ জন মারা গিয়েছেন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২৭ জন।

Spread the love