কলকাতা প্রথম পাতা লগডাউন

পৌরপ্রতিনিধির উদ্যোগে অভিনব কর্মসূচি – “ছোটদের ছুটির লকডাউন”।

লকডাউনের অন্ধকারে যে মানুষগুলোর কাছে দুবেলার অন্ন সংস্থান করাটাই বিলাসীতা, সেই প্রান্তিক পরিবারের শৈশব যেন অপুষ্টিতে জীবানুর কাছে আত্মসমর্পণ না করে, পাশাপাশি তারা যেন মেধা চর্চা থেকে দুরে সরে না যায় সেই দিকে তাকিয়ে কলকাতা পৌরসংস্থার ১০১ নং ওয়ার্ডের পৌরপ্রতিনিধি শ্রী বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত এক অভিনব কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে যার নাম ছোটদের লকডাউন। প্রান্তিক শিশুদের যথাযথ পুষ্টির জন্য প্রথম পর্যায়ে প্রায় ১০০০ টি প্রান্তিক শিশুর হাতে তুলে দেওয়া হয় দুধ, আটা, হরলিক্স, ডিম, ফ্রুট জুস, গ্লুকন ডি, ডালিয়া, কেক, ম্যাগি, নুডুলস, বিস্কুট, সয়াবিন, কর্নফ্লেক্স, চকলেটের মত পুষ্টিকর খাদ্য দ্রব্য।
সুরক্ষার জন্য তুলে দেওয়া হয় মাক্স, স্যানিটাইজার, টুথ ব্রাশ, টুথ প্রেষ্ট, সাবান ইত্যাদি।
তাদের লেখাপড়ায় উৎসাহ দিতে তুলে দেওয়া হয় খাতা, পেন্সিল, রাবার, স্কেল, ও শার্পেনার। ঐ শঙ্কার আধাঁরের সাদাকালো সমাজটাকে খুশির রঙে রাঙিয়ে দিতে আগামী প্রজন্মের কান্ডারিদের হাতে তুলে দেওয়া হয় রং তুলি সাথে একরাশ স্নেহাশীষ ও শুভকামনা। উপস্থিত ছিলেন বাপ্পাদিত্যর রাজনৈতিক গুরু ও রাজ্যের পরিষদীয় ও শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব ড: পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে পার্থবাবু বলেন “শৈশব যদি পায় শিক্ষা ও পুষ্টি – তবেই হবে শক্তিশালী দেশ সৃষ্টি। প্রত্যেকটি জনপ্রতিনিধির আগামী প্রজন্মের জন্য এরকম কর্মসূচি নেওয়া উচিত। বাপ্পাদিত্য বাবুর কথায় “লকডাউনের কুয়াশায় শৈশবের আলো যেন আড়াল না হয় তাই এই প্রচেষ্টা। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো ১০০০ টি প্রান্তিক শিশুর হাতে এই উপহার তুলে দেওয়া হবে।
লকডাউনের অনভিপ্রেত পরিস্থিতিতে ত্রাণ বিতরণের হাত ধরে বাড়ছিল প্লাস্টিকের যথেচ্ছ ব্যবহার। করোনা ভাইরাসের আড়ালে বাড়ছিল ঐ এক দূষণ দৈত্য। ভবিষ্যত বিপদের ভয়াবহতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাপ্পাদিত্য সচেতনতার বার্তা দিলেন ভবিষ্যত প্রজন্মের হাত ধরেই।লকডাউনে অবসরে ছুটির উপহার পৌঁছে দিলেন বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের হাতে।
—পলিথিন ব্যাগে নয়, পরিবেশ বান্ধব বেতের ঝুড়ি ও সুদৃশ্য চটের ব্যাগে করেই পৌছে দেওয়া হল এই উপহার। —এই সচেতনতা ভবিষ্যত প্রজন্মের হাত ধরেই ছড়িয়ে পরবে সমাজে। সমাজ যখন সুরক্ষাকবজ “সামাজিক দুরত্ব” পালনে অনেক ক্ষেত্রেই অনীহা দেখাচ্ছে তখনই শিশুরা এই উপহার গ্রহণ করল নিজের ঘরে বসেই—বজায় থাকল সামাজিক দূরত্ব। ঐ হাসি মুখ গুলো সমাজকে হাসি মুখে থাকার রাস্তা দেখাল।

Spread the love