দেশ প্রথম পাতা রাজনৈতিক

কাশ্মীরি সমস্যা সমাধানে মধ্যস্থাতাকারী হিসেবে ট্রাম্পকে কোনও অনুরোধ করেনি ভারত, স্পষ্ট জানাল বিদেশমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি— তিন দিনের আমেরিকা সফরে গিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তাঁর সফরের প্রথম দিন সোমবার ওয়াশিংটন ডিসি’তে পাকিস্তান রাষ্ট্রপ্রধান ইমরান খানের সঙ্গে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের জন্য মোদি তাঁকে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে কাজ করার অনুরোধ করেছিলেন। এমনকি ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের জন্য ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যদি তিনি সেতুবন্ধন করতে পারেন, তাহলে নিজেকে ভাগ্যবান বলেই মনে করবেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরেই জবাব দিল নয়াদিল্লি। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসাবে কখনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ করেননি। একই সঙ্গে এও জানানো হয়, এটা দু’দেশের মধ্যেকার ব্যাপার। এর সমাধান তখনই সম্ভব, যখন পাকিস্তান সীমান্তের ওপার থেকে জঙ্গি কার্যকলাপ বন্ধ করবে।

এদিন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রাভিশ কুমার পরপর ট্যুইট করে বলেন,  “আমরা শুনেছি আমেরিকার প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্প বলেছেন ভারত ও পাকিস্তান চাইলে তিনি কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে রাজি। কিন্তু আমরা স্পষ্ট করতে চাই, প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে এই ধরণের কোনও সাহায্য চাওয়া হয়নি। কাশ্মীর আমাদেরই অঙ্গ। পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই সেই সমাধান সম্ভব। আর আলোচনা তখনই সম্ভব যখন পাকিস্তান সীমান্তের ওপার থেকে জঙ্গি কার্যকলাপ বন্ধ করবে। সিমলা চুক্তি ও লাহোর চুক্তিতে স্পষ্ট লেখা আছে, এই দুই দেশের মধ্যেকার সব সমস্যা যৌথ আলোচনার মধ্যেই সমাধান করতে হবে।”

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্যের সঙ্গে মোটেই সহমত পোষণ করছে না নয়াদিল্লি। তাই তড়িঘড়ি করে এই ট্যুইটের সিদ্ধান্ত। যদিও ট্রাম্প এদিন ইমরানকে স্পষ্টই জানান, এই সমস্যা সমাধানে আমি যদি কোনও ভূমিকা নিতে পারি, তাহলে নিজেকে ভাগ্যবান বলেই মনে করব। কারণ আমিও মধ্যস্থতা করে এই সমস্যার সমাধানে আগ্রহী। ইমরান এর উত্তরে জানান, তাই যদি হয় তাহলে কয়েকশো কোটি মানুষের ভালবাসা ও শুভেচ্ছা আপনার সঙ্গে সারাজীবন থাকবে।

ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমকে এদিন জানান, চলতি মাসের প্রথমে ওসাকায় জি২০ সম্মেলনের মধ্যেই নরেন্দ্র মোদি কাশ্মীর প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আমাকে এই বিষয়ে মধ্যস্থতা করার অনুরোধ করেন। বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার জন্য কোন বিষয়ের কথা মোদি বলেছেন তা প্রশ্ন করায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী কাশ্মীরের নামই বলেন। তাই আমি ইমরান খানকে বলছি আপনিও কি তাই চান? তাহলে আমি বিষয়টি নিয়ে ভাবব। কারণ আমিও চাই এই সমস্যার একটা সুষ্ঠু সমাধান হোক।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই সারা বিশ্বের কূটনৈতিক মহলে দারুণ হইচই ফেলে দেয়। জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ টুইট করে বলেছেন, “এ বার কি ভারত ট্রাম্পকে মিথ্যেবাদী বলবে? নাকি স্বীকার করে নেবে যে কাশ্মীর সমস্যা মেটাতে পারছেন না মোদী। তাই তৃতীয় শক্তির সাহায্য চেয়েছেন তিনি।” এই প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা শশী থারুর টুইট করে বলেন, “আমার মনে হয় ট্রাম্প কী বলছেন, সেটা উনি নিজেই জানেন না। হয় তাঁকে ঠিকমতো বলে দেওয়া হয়নি, নয়তো তৃতীয় শক্তির সাহায্যের ব্যাপারে মোদী কী বলেছেন, সে ব্যাপারে ওনার জানা নেই। আমার মনে হয়, বিদেশমন্ত্রকের উচিত এ ব্যাপারে দিল্লির ভাবনাটা ঠিকমতো বুঝিয়ে দেওয়া।”

এদিকে এই মন্তব্যের কথা প্রকাশ্যে আসার পরেই ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একাধিক ট্যুইট করে এই মন্তব্য সত্য নয় বলে স্পষ্টই জানিয়ে দেওয়া হয়। ফলে সমগ্র বিষয়টি নিয়ে প্রবল ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার পিছনে আসল সত্য কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে হঠাৎই ট্রাম্প কেন এই ধরনের মন্তব্য করবেন তাও বোঝা যাচ্ছে না। ফলে সব মিলিয়েই কাশ্মীর নিয়ে ফের ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হঠাৎ করেই উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে।

Spread the love