আন্তর্জাতিক করোনা প্রথম পাতা

দ্বিতীয় ধাপে ২৭৩ জনের শরীরে ভ্যাকসিন পরীক্ষা চালাল চিন ।

এ যেন প্রমাণ করার খেলা মানুষ আজও সত্যিই কত অসহায়। যতই সে পাড়ি জমাক চাঁদে বা সমুদ্রের তলায়। আদতে একটা আণুবিক্ষণীক জীবের কাছে প্রমাণ হয়ে গিয়েছে তার অসহায়তা। একটা ছোট্ট ভাইরাস। তারই দাপটে থরহরি কম্প ট্রাম্প থেকে জিনপিং।তার থাবায় লন্ডভন্ড গোটা বিশ্ব। কাউকেই রেয়াত করেনি সে। এক পংক্তিতে পৃথিবীর শক্তিধরের দল আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, চিন বা রাশিয়া। যাদের ঝোলায় বিশ্বকে কয়েক শো বার ধ্বংস করে দিতে পারার মতো অস্ত্রশস্ত্র মজুত বিশ্বের সেই মহা শক্তিধরেরাই এই একরত্তি ভাইরাসের কাছে অসহায়। রোজ হাজারে হাজারে মানুষ মরছে। সৎকারের জায়গা পর্যন্ত মিলছে না। বিপর্যস্ত উন্নত দেশের গর্বের স্বাস্থ্য পরিষেবা। নিজেকে বাঁচাতে পৃথিবী মুখ লুকিয়েছে দরজার আড়ালে। মুখ থুবড়ে পড়েছে অর্থনীতি।
এমতাবস্থায় চাই যে একটা ভ্যাকসিন। খুঁজছে সবাই। কিন্তু, প্রতিনিয়ত নিজের চরিত্র বদলে বিজ্ঞানীদেরও ঘোল খাইয়ে ছাড়ছে এই ভাইরাস। গবেষকদের কাছে এর মতিগতি বোঝাই অসম্ভব হয় পড়েছে। তবুও, হাল ছাড়েননি গবেষকরা। বিশ্বের তাবড় বিজ্ঞানীর দিন কাটছে গবেষণাগারে। ভ্যাকসিনের সন্ধানে। শুধু করোনাকে কাহিলে ৭০টির বেশি ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ চলছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাজারে করোনা ভ্যাকসিন চলে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে। এরই মধ্যে ভ্যাকসিন তৈরির এই লড়াইয়ে সামনের সারিতে থাকা চিন, আরও একধাপ এগিয়ে গেল। তারা দ্বিতীয় বার মানবশরীরে পরীক্ষা চালাল। দ্বিতীয় ধাপে মোট ২৭৩ জনের উপর এই ভ্যাকসিন পরীক্ষা করা হয়েছে। চিনা বিজ্ঞানীরা স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল ৫টায় ৫০০ স্বেচ্ছাসেবীর মধ্যে ২৭৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস ঠেকানোর এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেছে। এ ছাড়া করোনারই আরও দু’টি নতুন ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে চিনা মিডিয়া সূত্রে খবর।
চিনের স্টেট কাউন্সিলের জয়েন্ট প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল ম্যাকানিজমের তরফে জানানো হয়, তারা বর্তমানে তিনটি ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল নিয়ে কাজ করছে।
প্রথম ভ্যাকসিনটির ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা চালানো হয় মার্চের শেষে। তখন সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। ১২ এপ্রিল দ্বিতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় ভ্যাকসিনের কার্যকারিতায় জোর দেওয়া হয়েছে। এই ধাপে ষাটোর্ধ্বদের উপর ভ্যাকসিনটির পরীক্ষা চালানো হচ্ছে বলে জানান চিনের শীর্ষস্থানীয় এপিডেমিয়োলজিস্ট এবং ভাইরোলজিস্ট চেন ওয়ে।
চেন ওয়ের দাবি, এই ভ্যাকসিনটি মানবদেহে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরিতে সহায়তা করবে। করোনাভাইরাসের ভাইরাল অংশ এস জেনেটিক সিকুয়েন্সের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করবে ভ্যাকসিনটি। একবার ভাইরাস সংক্রমণ হলে, শরীর এই এস জিন এবং পুরো ভাইরাস শনাক্ত করে, প্রতিরোধ করবে।
অন্য দু’টি ভ্যাকসিন তৈরি করছে চিনা ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রুপের উহান ইনস্টিটিউট অফ বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টস ও বেজিং ভিত্তিক সিনোভাক বায়োটেক। এই দু’টি ভ্যাকসিন করোনার নিষ্ক্রিয় অণুজীব দিয়ে তৈরি বলে জানিয়েছে চিনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রক।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত সব দেশ মিলিয়ে মারা গিয়েছেন ৬,২৮৪ জন। তার মধ্যে চিনেরও একজন রয়েছেন। মোট মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ৩২ হাজার ৮৮৪। আক্রান্ত ২০ লক্ষ ৫০ হাজার ৮৫৩। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৫ লক্ষের বেশি।

Spread the love