জেলা প্রথম পাতা লগডাউন

অনিশ্চয়তার তমসায় পুর নির্বাচন প্রশাসক বসানো শুরু জেলার পুরসভায়।

এও এক সঙ্কটকাল। করোনা ভাইরাস আতঙ্কে শুধুমাত্র যে স্বাভাবিক জনজীবন বিপন্ন হচ্ছে তাই নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকা সামাজিক প্রেক্ষাপটের ভোট প্রক্রিয়াও বন্ধ থাকছে এই সময়কালে। কলকাতা কর্পোরেশন-সহ রাজ্যের যে সব পুরসভাগুলির মেয়াদ এই সঙ্কটকালে উত্তীর্ণ হয়েছে বা হচ্ছে সেইসব জায়গাগুলিতে এবার প্রশাসক বসিয়ে কাজ চালাবার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজ্যের অন্যান্য অনেক জায়গার সাথেই যে প্রক্রিয়া এবার শুরু হয়ে গেল বীরভূম জেলাতেও।

জেলা বীরভূমের বোলপুর, সিউড়ি ও রামপুরহাট–এই তিনটি মহকুমায় রয়েছে ছয়টি পুরসভা। তারমধ্যে বোলপুর মহকুমায় রয়েছে কেবলমাত্র বোলপুর পুরসভা। সিউড়ি মহকুমায় রয়েছে সিউড়ি, দুবরাজপুর ও সাঁইথিয়া পুরসভা। আর রামপুরহাট মহকুমায় রয়েছে রামপুরহাট ও নলহাটি পুরসভা। এদের মধ্যে নলহাটি পুরসভার মেয়াদ উত্তীর্ণ না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ওই পুরসভাকে বাদ দিয়ে বাকী পাঁচটি পুরসভায় নির্বাচন করার ব্যাপারে প্রস্তুতি শুরুও হয়ে গিয়েছিল। এদের মধ্যে এক বছরেরও বেশি সময় আগে দুবরাজপুর পুরসভার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখানে প্রশাসক বসিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। জেলা সদর সিউড়ির মহকুমা শাসক এই দায়ীত্ব সামলাচ্ছেন। অন্য পুরসভাগুলির সাথে এই পুরসভারও এবার নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাস আতঙ্কের তমসায় এখন ঢেকে গিয়েছে পুরসভা নির্বাচন। জেলার সব পুরসভাগুলিরই ক্ষমতায় রয়েছে রাজ্যের শাসক শিবির।
এই প্রেক্ষাপটে জেলার মধ্যে প্রথম রামপুরহাট পুরসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে প্রশাসক নিয়োগ করলো রাজ্য সরকার।

১৭ মে এই পুরসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ মে থেকেই রামপুরহাট পুরসভার দুই সদস্যের পুরবোর্ডের প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়ীত্বভার গ্রহণ করলেন বিদায়ী পুরবোর্ডের চেয়ারম্যান অশ্বিনী তিওয়ারি। বিদায়ী পুরবোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সুকান্ত সরকারকে তিনি অন্যতম সদস্য হিসেবে বেছে নিলেন। অর্থাৎ, মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া পুরবোর্ডের দুই পদাধিকারীই প্রশাসক বোর্ডের দায়ীত্বে বসলেন। আসলে মনে করা হচ্ছে যে, অশ্বিনী তিওয়ারি পুরবোর্ডের চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে চেয়ারম্যানের পুর তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণে অর্থ ব্যায় করে বিলাস বহুল শীততাপ নিয়ন্ত্রীত গাড়ি কেনা, শহরের একের পর এক পুকুর বুজিয়ে বাড়ি নির্মাণ করা-সহ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে চেয়ারম্যান অশ্বিনী তিওয়ারি নীরব থাকায়, ওইসব ঘটনার সাথে তাঁর যোগসূত্রের অভিযোগ তুলে কয়েকজন দলীয় কাউন্সিলার পুরসভাতে যাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সেই সময়কালে চেয়ারম্যান অশ্বিনী তিওয়ারির সাথে ভাইস চেয়ারম্যান সুকান্ত সরকারের একটা মত পার্থক্যও তৈরী হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সুকান্ত সরকার যাতে কোনওভাবেই তাঁর বিরোধীতায় না নামেন সে জন্যই অশ্বিনী তিওয়ারি তাঁকে তাঁর দিকে ধরে রাখতেই নিজের সঙ্গী করে নিলেন বলেই মনে করা হচ্ছে। এই পুরসভার মুক্তমঞ্চ নিয়েও অশ্বিনী তিওয়ারির সঙ্গে সুকান্ত সরকারের একটা ঠাণ্ডা লড়াই রয়েছে।এমন কী, অশ্বিনী তিওয়ারির কাজকর্ম নিয়ে দলীয় স্তরেও যে অসন্তোষ ছিল তার আঁচ পাওয়া গিয়েছিল, দলের পক্ষ থেকে তাঁর ক্ষমতা খর্ব করে মাথার উপরে একটি কমিটি বসিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। আবার শুধুমাত্র শাসক দলের অভ্যন্তরেই নয়, বিরোধী দলগুলির মধ্যেও কেবলমাত্র শাসক দলেরই দু’জনকে নিয়ে প্রশাসক বোর্ড গঠিত হওয়ায় প্রথম দিন থেকেই অশান্তির চোরাস্রোত বইতে শুরু করে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।

সেইসাথে দেখা যাচ্ছে যে, আর একদিন পরেই ২০ মে শেষ হচ্ছে সাঁইথিয়া পুর বোর্ডের কার্যকালের মেয়াদ।২৫ মে শেষ হবে বোলপুর পুরবোর্ডের মেয়াদ আর সিউড়ি পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩ জুন। এই পুরবোর্ডগুলির মেয়াদ শেষ না হওয়ায়, ওই পুরবোর্ডগুলির প্রশাসক পদে কাদের বসানো হবে তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে কোনও নির্দেশ না আসা পর্যন্ত জেলা প্রশাসনিক আধিকারিকরা এ ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপও নিতে পারছেন না। তবে, এক্ষেত্রে সিউড়ি মহকুমার অধীন সিউড়ি ও সাঁইথিয়া পুরসভার মেয়াদ শেষ হলে ওই দু’টি পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের দায়ীত্বে কে থাকবেন, তা স্পষ্ট নয়। কেননা, মহকুমা শাসককে প্রশাসকের দায়ীত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। সিউড়ির মহকুমা শাসক ইতিমধ্যেই দুবরাজপুর পুরসভার প্রশাসকের দায়ীত্ব সামলাচ্ছেন। তাই তাঁর উপরে আর অন্য কোনও পুরসভার প্রশাসকের দায়ীত্ব দেওয়া প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। সেক্ষেত্রে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশাসক বোর্ডের মাথায় রেখে দেওয়ার সম্ভাবনা যেমন থাকে তেমনি, এই ক্ষেত্রগুলি-সহ বোলপুর পুরসভার ক্ষেত্রেও রামপুরহাট পুরসভার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। কেননা, রামপুরহাট পুরসভার মতো এইসব পুরসভাগুলিও শাসক দলের হাতেই রয়েছে ।

Spread the love