কলকাতা জেলা প্রথম পাতা

সাহস থাকলে, সিসিটিভি ফুটেজ এনে আমাকে দেখান! রাজনীতি ছেড়ে দেব: কাস্টমসকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

নিজস্ব প্রতিনিধি: গত কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ২ কেজি সোনা নিয়ে নাকি বিমানবন্দরে ধরা পড়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী। অবশেষে সেই ইস্যুতে মুখ খুললেন ডায়মন্ড হারবারের বিদায়ী সাংসদ তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঘটনা নিয়ে জলঘোলা হচ্ছে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে এই ইস্যুকে হাতিয়ার করা হয় তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বিজেপি ও বাম নেতারা এই ইস্যুকে প্রকাশ্যে আনতে শুরু করেন। সম্প্রতি শুল্ক দফতরের তরফে একটি এফআইআর করা হয়। এরপরই মুখ খুললেন অভিষেক। রবিবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক করে সেই ইস্যু নিয়ে কথা বলেন অভিষেক।তিনি জানান,

  • এটা বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএমের সংস্কৃতি। ব্যক্তিগত আক্রমণ করা আমাদের সংস্কৃতি নয়।
  • যে এফআইআর করা হয়েছে তার খসড়া দিল্লি থেকে পাঠানো হয়েছে। দিল্লির চাপে এটা করা হয়েছে।
  • আমি শুল্ক দফতরের কাছে ব্যাখ্যা চাই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী বলেই এই হেনস্থার মুখে পড়তে হল তাঁকে?
  •  সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আনুক শুল্ক দফতর, যে কোনও তদন্তের জন্য রাজি রয়েছি।
  • প্রমাণ করতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব।
  • আমার স্ত্রী ব্যাঙ্ককে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। প্রয়োজনে তদন্তকারীরা সেখানে গিয়ে খোঁজ নিতে পারেন।
  • আমার স্ত্রীর জন্ম ব্যাঙ্ককে। সে কারণেই তাঁর তাইল্যান্ডের পাসপোর্ট রয়েছে। এটা তো কোনও অপরাধ নয়।
  • বিমানবন্দরে প্রবেশ মাত্র সকলেই সিসিটিভি ফুটেজের আওতায় চলে আসেন। আমি শুল্ক দফতরকে চ্যালেঞ্জ করছি তাঁরা সেই ফুটেজ দেখান।
  • অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ওদের কাছে মাথা নত করেনি। অমিত শাহের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছি। সে কারণেই গাত্রদাহ।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছিল যে থাইল্যান্ড থেকে ২ কেজি সোনা নিয়ে ফিরছিলেন অভিষেকের স্ত্রী । কাস্টমসের চেকিং-এ বাধা দেওয়ার আভিযোগে এফআইআর করে শুল্ক দফতর। শনিবার হয় সেই এফআইআর। এই ইস্যু নিয়েই এদিন কাস্টমসের বিরুদ্ধে সরাসরি সাংবাদিক বৈঠক করেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন অভিষেক। তিনি বলেন, রবিবার অভিষেক ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ চান। বলেন, ‘সাহস থাকলে, সিসিটিভি ফুটেজ এনে আমাকে দেখান।’ তিনি জানা, ১৫ তারিখ রাতে ১২টা ৪০ মিনিটে কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তাঁর স্ত্রী । ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত তিনি ছিলেন বিমানবন্দরে।তাঁকে হেনস্থা করা হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যেকার ফুটেজ দেখতে চেয়েছেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘২ কেজি কেন, ২ গ্রাম সোনা ছিল, ফুটেজে দেখাতে পারলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।’আর যদি সোনা পাওয়াই গেল তাহলে তা বাজেয়াপ্ত করা কেন হল না? চৌকিদার কি ঘোমোচ্ছিলেন নাকি?যদি বিষয়টা এতটাই জলঘোলো করা হয় তাহলে এফআইআর করতে ৭দিন সময় লাগলো কেন?

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।