অফবীট দেশ প্রথম পাতা লগডাউন

লকডাউন জারি থাকলে প্রায় ৩৫-৪০ কোটি টাকার আনারস জমিতেই পচে যাবে।

লকডাউনের জেরে সমস্যায় আনারস চাষিরাও। শিলিগুড়ি লাগোয়া বিধাননগর, চোপড়া এবং বিহারের একাংশে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে প্রতি বছর আনারসের চাষ খরা হয়। এ বছর ইতিমধ্যেই বিক্রয়যোগ্য হয়ে উঠেছে প্রায় ৫৫৫ হেক্টর জমির আনারস। বাজারে আাসার জন্য একদম তৈরি প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ ফল। অন্যান্য বছর এই সময় আশি শতাংশ আনারস দিল্লি হয়ে দেশের নানা প্রান্তে চলে যায়। লকডাউন চাষির আশায় জল ঢেলে দিয়েছে। দেশ-বিদেশ সব বাজারই বন্ধ। জমিতেই পচে যাচ্ছে ফল। বিধাননগর আনারস উৎপাদক সমিতির হিসেবে লকডাউন জারি থাকলে প্রায় ৩৫-৪০ কোটি টাকার আনারস জমিতেই পচে যাবে। রপ্তানিকারকদের কাছেই চাষিরা একটি আনারস গড়ে ৪০-৬০ টাকা দরে বিক্রি করেন। এখন লোকসান সামাল দিতে তাঁদের অনেকেই টোটো, ম্যাটাডোর ভ্যানে এনে শিলিগুড়িতে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করছেন। এক জোড়া আনারসের দাম কোথাও ২০ টাকা। কোথাও ৩০-৪০ টাকা। এখন শিলিগুড়িতে তারও ক্রেতা নেই। উৎপাদক সমিতির সম্পাদক অরুণ মণ্ডল বলেন, ‘সামনে কী দিন আসছে সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। কী ভাবে এই লোকসান সামাল দেওয়া যাবে জানি না। সরকারি স্তরে যোগাযোগ করেছি যাতে কোনও বিকল্প পথের সন্ধান মেলে।’
শিলিগুড়ির আনারস চাষ বেশ বিখ্যাত। চাষিদের জন্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র তৈরি হলেও কোনও এক অজানা কারণে তা আজও বন্ধ। এসময় সেটা খোলা থাকলে কৃষকেরা কিছুটা হলেও ক্ষতি সামাল দিতে পারতেন। বাম আমলে চালু করা দু’টি বেসরকারি আনারস প্রক্রিয়াকরণ সংস্থাও ব্যবসা গুটিয়ে বহু দিন আগে চলে গিয়েছে। টিঁকে রয়েছে কেবল আনারস রপ্তানির ব্যবসা। এ বার মার্চে রপ্তানি ব্যবসা সবে শুরু হয়েছিল। করোনার জেরে লকডাউনে মাথায় হাত পড়েছে কৃষকদের। পাথুরিয়া এলাকার চাষি প্রদীপ সিংহ নিজের জমি ছাড়াও লাগোয়া চৌধুরিয়াগছ, বিন্নাগুড়ি মিলিয়ে সাত-আটটি গ্রামের হাজার খানেক কৃষকদের নিয়ে সমবায়ও গড়েছেন তিনি। প্রদীপ বলেন, ‘লকডাউনে দিল্লি এবং লাগোয়া এলাকার সমস্ত ফলের রস তৈরির কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। উত্তরবঙ্গে কোনও কারখানা নেই। এখন রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভরসায় রয়েছি। তাঁরা যদি কোনও উপায় বার করতে পারেন আমাদের জন্য।’
একটি আনারস ফল তৈরি করতে অন্তত আঠারো মাস সময় লাগে। প্রতি ফলের পিছনে গড়ে ১৫ টাকা খরচ হয়। এ বার উৎপাদন ব্যয়ও উঠবে না বলে আশঙ্কা কৃষকদের। এক আনারস চাষি আক্ষেপ, ‘একটা আনারস ফল হিসেবে বেড়ে উঠতে ১৮ মাস সময় লাগে। এখন বিক্রির সময়ে যদি লকডাউনে রপ্তানি বন্ধ করে দিতে হয় তাহলে মাথার চুল ছেঁড়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না। জমিতে আনারস পচে যাচ্ছে।’

Spread the love