দেশ প্রথম পাতা রাজ্যের খবর

‘আপনার চোখ কেমন আছে?’ অভিষেককে প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিনিধি— লোকসভা ভোটের সময় একে অপরের বিপরীতমুখী ছিল। ডায়মন্ড হারবারে বিজেপি প্রার্থী নীলাঞ্জন রায়ের প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, খুব শিগগির তালা লাগবে ‘ভাইপো’-র অফিসে। অপরদিকে মোদীকে পাল্টা আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভার ভোট শেষ। আরও একবার দিল্লির মসনদে নরেন্দ্র মোদী। উল্টো দিকে এবারেও ডায়মণ্ডহারবারে সাংসদ হিসেবে মনোনীত হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাইরে যতই একে অপরের বিরোধ থাকুক না কেন, দরজা বন্ধ ঘরে পারস্পরিক সৌজন্যের স্রোত বয়ে গেল বুধবার।

এ দিন সংসদে পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের আর্জি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কক্ষে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান তৃণমূলের ১২ জনের এক প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে লোকসভার নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও ব্রায়েন, সুখেন্দুশেখর রায়, সৌগত রায়দের সঙ্গে অভিষেকও ছিলেন।

সাধারণত এ রকম প্রতিনিধি দল দেখা করতে গেলে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের কনফারেন্স রুমে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন মোদী। সে ঘরে মস্ত একটি ওভাল টেবিলের চার দিকে সার দিয়ে চেয়ার। তৃণমূলের এক সাংসদ জানান, ওই ঘরে ঢুকে তৃণমূলের সাংসদরা সবাই টেবিলের এক দিকেই বসেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ঘরে ঢুকে তাঁদের উদ্দেশে নমস্কার করে হেসে বলেন, “এ কী, আপনারা সবাই আমার উল্টো দিকে কেন? আমার পাশে এসেও কয়েকজন বসুন। ভয় নেই, দিদি বকবেন না, কারও চাকরি যাবে না!” ফলে বৈঠকের শুরু থেকেই পরিবেশটা একটু অন্যরকম হয়ে যায়। এরপর ডেরেক ও’ব্রায়েন উঠে প্রধানমন্ত্রীর ডান পাশে গিয়ে বসেন। এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বসেন মোদীর বাঁ দিকে। সুদীপের পাশে বসেন সৌগত রায় এবং তাঁর পাশে অভিষেক। তবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুখেন্দুশেখর রায় প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখিই বসেছিলেন।

সূত্রের খবর, বৈঠক শেষ হওয়ার পরে অভিষেকের সঙ্গে আলাদা করে করমর্দন করেন প্রধানমন্ত্রী। জানতে চান অভিষেকের চোখ কেমন আছে। তাঁকে বলেন, “কী আপনার চোখ এখন কেমন আছে?” জবাবে অভিষেক বলেন, “আগের থেকে অনেকটা ভাল। দু’বার অপারেশন করতে হয়েছে। আরও এক বার করতে হতে পারে।” প্রধানমন্ত্রী তাঁর কাছে জানতে চান, কোথায় চিকিৎসা করাচ্ছেন তিনি। অভিষেক জানান, হায়দরাবাদে চিকিৎসা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের অক্টোবরে মুর্শিদাবাদে দলের কর্মিসভা সেরে ফেরার সময়ে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের উপরে পথ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন অভিষেক। তাঁর চোখে সব থেকে বেশি আঘাত লাগে। প্রথমে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা হয়। পরে হায়দরাবাদের এক হাসপাতালে অপারেশন হয় তাঁর চোখে। চোখে রোদ-ধুলো যাতে বেশি না লাগে সে জন্য ডাক্তাররা অভিষেককে এখনও সতর্ক থাকতে বলেছেন।

Spread the love