জেলা প্রথম পাতা

অনেক হয়েছে আর নয়! ‘সব্যসাচী’ কাঁটা উপড়ে ফেলতে চাইছেন মমতা, সাসপেন্ডের কথাই ভাবছে তৃণমূল

নিজস্ব প্রতিনিধি: লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই সব্যসাচী দত্তকে নিয়ে বিতর্ক। কখনও মুকুল রায়কে বাড়িতে লুচি-আলুর দম খাওয়ানো।কখনও আবার কোনও অনুষ্ঠানে ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান। খোদ দলনেত্রীর বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তুলতে ছাড়েননি তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা, মুকুল রায়ের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসাবে পরিচিত সব্যসাচী দত্ত মুকুলের হাত ধরেই পা বাড়াচ্ছেন পদ্ম শিবিরে। কিন্তু তাঁকে যত বারই এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, তিনি কখনওই তা স্বীকার করেননি। সেই সব্যসাচী দত্তকেই আজ খানিক বেপরোয়া মেজাজেই দেখা গেল।কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, জল হয়তো এ বার মাথার উপর দিয়ে বইতে শুরু করেছে!

শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্তের কোনও পরিবর্তন না হলে, বিধাননগরের মেয়র তথা রাজারহাট বিধানসভার বিধায়ক সব্যসাচী দত্তকে তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড করতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বাভাবিক ভাবেই সেই সঙ্গে বিধাননগরের নতুন মেয়র নির্বাচনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে যেতে পারে। শুক্রবার সল্টলেকের বিদ্যুৎ ভবনের সামনে আইএনটিটিইউসি অনুমোদিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃত্ব দেন সব্যসাচী দত্ত।বিদ্যুৎ কর্মীদের বেতন বাড়ানোর দীর্ঘদিনের দাবি এবং ডিএ প্রসঙ্গেই ছিলএ দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচী। সেখানেই বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম না করে তাঁকে আক্রমণ করেন সব্যসাচী। মঞ্চ থেকে রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রীকে তীব্র ব্যঙ্গ করে বলেন,‘‘দফতরের নাম পাওয়ার। অথচ মন্ত্রীর নিজেরই কোনও পাওয়ার নেই।” তিনি আরও বলেন, ‘‘সারাজীবন শুনেছি তিনি শ্রমিক আন্দোলন করে নেতা হয়েছেন। আজকে মঞ্চে এসে বলতে পারতেন যে, তিনি অপারক। সেটা শুনলেও খুশি হতাম। কিন্তু পদের মোহে, মন্ত্রিত্ব হারানোর ভয়ে তিনি আসেননি।”এর আগে প্রকাশ্যেই সব্যসাচী বলেছিলেন, ‘পারলে আমাকে দল থেকে বের করে দেখাক!’, তখনই রাগে মমতার মাথায় রক্ত উঠে গিয়েছিল। পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে ডেকে সে দিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, সব্যসাচী দত্তকে আর বিধাননগরের মেয়র পদে রাখা যাবে না। ওঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার ব্যবস্থা করো।

কিন্তু সে কথা বললেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। তার কারণ, দলের অভ্যন্তরীণ রেষারেষি। তখনও তিনি সময় দিয়েছিলেন যাতে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে।কিন্তু তাতেও কোন লাভ হয় নি। সব্যসাচী আছেন তাঁর নিজের মতোই। তবে আজ সবকিছুর মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছেন শাসক বিধায়ক। তাঁর নেতৃত্বেই ভাঙচুর হল সরকারী অফিস। আর তা যে ভালোভাবে নেয় নি তৃণমূল তা বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কথাতেই স্পষ্ট হয়েছে।  তবে বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, সব্যসাচীর নেতৃ্ত্বে আজ বিদ্যুৎ দফতর ভাঙচুর ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙেছে তৃণমূল সুপ্রিমোর। ফলে কিছু এদিক ওদিক না হলে মেয়র সব্যসাচীকে  সাসপেন্ড করার ব্যাপারে কার্যত নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

 

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।