কলকাতা প্রথম পাতা

‘আঙুর ফল টক’ হয়তো বুঝতে পারছেন বিজেপি নেতারা! ঘরে নেই নুন, ছেলে আমার মিঠুন, মুকুলকে খোঁচা অভিষেকের

নিজস্ব প্রতিনিধি: হালিশহরের পর কাঁচরাপাড়া পুরসভা পুনরায় দখল করল তৃণমূল। সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া ৯ কাউন্সিলর শুক্রবার ফিরে এলেন শাসকদলে। ফলে ২৪ আসন বিশিষ্ট এই পুরসভায় তৃণমূলের কাউন্সিলর সংখ্যা দাঁড়াল ১৯৷ এদিনের যোগদানের পর ফের একবার বিজেপি নেতা মুকুল রায়কে আক্রমণ শানান যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কটাক্ষের সুরে জানান, ‘‘উনি চাণক্য কিন্তু ‘মেড ইন চায়না’৷ নিজের ঘর সামলাতে পারেন না৷’’ দিল্লির দরবারে নম্বর বাড়াতে ভয় দেখিয়ে জনপ্রতিনিধিদের দলে যোগদান করাচ্ছেন। নিজেকে সর্বভারতীয় নেতা হিসেবে দাবি করেন। অথচ নিজের গড় রক্ষা করতে পারেন না।

নীতিবোধ থাকলে বিধায়কের সঙ্গে কথা বলার আগে একশোবার ভাববে। নিজের এলাকা যে ধরে রাখতে পারে না সে কি করে সর্বভারতীয় স্তরের নেতা হয় তা জানা নেই।পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে অভিষেক বলেন, ঘরে নেই নুন, ছেলে আমার মিঠুন। ব্যাপারটা যেন অনেকটাই এরকম।তবে  কাঁচরাপাড়ার কাউন্সিলরদের যে ধরে রাখা যাবে না, তা হয়তো স্পষ্ট বুঝে গিয়েছিলেন মুকুল-অর্জুনরা। সম্ভবত সেই কারণেই মুকুল রায় শুক্রবার থেকে বলতে শুরু করেছিলেন, “আমি অর্জুনকে  বলেছি কাউকে আটকানোর দরকার নেই। যে পারে যাক। শুভ্রাংশুকেও তাই বলেছি। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, বিজেপি-র ছাতার নীচে আসা কাউন্সিলরদের মুকুলবাবু যদি আটকাতে না পারেন, তাঁদের সেই তৃণমূলেই ফিরতে দেন, তা হলে কেনই বা তাঁদের এনেছিলেন বিজেপি-তে? এ-ও প্রশ্ন উঠছে, ব্যর্থতা ঢাকতেই কি এই অবস্থান? সেই বিষয়ে অবশ্য কিছু বলেন নি বিজেপির কোন নেতাই। তবে তৃণমূল বলতে শুরু করেছে, আঙুর ফল টক বুঝতে পেরেই মুখে কুলুপ এঁটেছেন বিজেপির নেতা-সাংসদরা।পর্যবেক্ষকদের মতে, মুকুলবাবু প্রকাশ্যে যাই বলুন, হালিশহর, হরিণঘাটা আর তার পর কাঁচরাপাড়ায় বিজেপি ছেড়ে একাংশ কাউন্সিলরের ‘ঘর ওয়াপসি’ যে গেরুয়া শিবিরে কোথাও একটা অস্বস্তি তৈরি করেছে তা সংশয় নেই। মুকুলবাবুর রাজনৈতিক মর্যাদার জন্য তা ইতিবাচক নয়। কেন না কাঁচরাপাড়া তাঁর ঘরের মাঠ।

 

 

Spread the love