কলকাতা জেলা প্রথম পাতা

আজও ঘরবন্দি বুদ্ধবাবু স্বপ্ন দেখেন শিল্পায়নের! আট বছর পরেও রাজনীতির অন্তরালে থেকেই গলায় আক্ষেপের সুর বহন করছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি: সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম এই দুটো নামই কার্যত রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী ভূমিকা পালন করেছিল।বিরোধীরা বলেন, সি্ঙ্গুর,নন্দীগ্রাম আন্দোলনই ছিল বামেদের শাসনব্যবস্থার শেষ সময়। কিন্তু বামেরা কি তা কোনদিনও মানতে পেরেছে? সিপিএমের নেতাদের দাবি শিল্পায়নকেই ভবিষ্যৎ ভেবে এগিয়ে যেতে চেয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। কিন্তু তাঁর স্বপ্নের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় বিরোধীরা।রাজ্যের গদি থেকে সরে যাওয়ার আট বছর পরেও সেই আক্ষেপের সুরই শোনা গেল রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের গলায়। সচরাচর তাঁর সঙ্গে কথা বলার অনুমতি মেলে না। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানা গেল আজও বুদ্ধবাবু সেদিনের আক্ষেপের কথাই।প্রশ্ন উঠল, এবার ভোটে তো আপনাকে পাওয়া গেল না? উত্তরে অভিমানী বুদ্ধ বলেন, “২০১১ সালে আমি যা চেয়েছিলাম তা যদি সফল হত তাহলে হয়তো আজও থাকতাম।” এতেই স্পষ্ট আজও শিল্পায়নের স্বপ্ন দেখেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।পাম অ্যাভিনিউয়ের সরকারি আবাসনে অসুস্থ শরীরে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি। কিন্তু দেশের রাজনীতি সম্পর্কে পুরোমাত্রায় ওয়াকিবহাল। চোখের সমস্যার জন্য অনেকদিনই টিভি দেখেন না। তাঁর নিজের কথায়, “টিভি তো আর দেখি না, এখন আমি টিভি শুনি।” বন্ধ লেখালেখিও। প্রবল শ্বাসকষ্টের জন্য অক্সিজেনের নল নিত্যসঙ্গী। সেই অক্সিজেন নল লাগানো অবস্থাতেই গত ক’দিন ধরে ডিকটেশন দিয়ে চলেছেন নতুন লেখার জন্য।

মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীনও  কয়েকটি নাটক লিখেছিলেন। পার্টির মুখপত্রেও নিয়মিত লিখেছেন। এমনকী কয়েক বছর আগে অসুস্থ অবস্থাতেও তিনি লিখেছেন। কিন্তু চোখের সমস্যা বাড়তেই লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটে। ভরা ব্রিগেডের সমাবেশে হাজির হয়ে সহকর্মীদের বলেছিলেন, “ভোটেও যেন এই ঘটনার প্রতিফলন হয়।” ভোটের প্রচার সবে জমে উঠেছে। প্রচারে নেই বুদ্ধবাবু।কিন্তু প্রচারপর্বে তিনি সশরীরে না থাকলেও দলের প্রতি আস্থা যে আজও বাড়তি অক্সিজেন জোগায় বাম কর্মী সর্মথকদের মনে। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।