কলকাতা জেলা প্রথম পাতা

মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই পদক্ষেপ নিতে বলা হবে এসএসসিকে,অনশনের ২৩ দিনে মধ্যে জানিয়ে দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি : যাঁরা আন্দোলন ও অনশন করছেন, তাঁদের মধ্যে সকলেই আদতে চাকরি পাওয়ার যোগ্য কি না। এসএসসিদের প্রার্থীদের শূন্যপদে নিয়োগের দাবি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করেও দীর্ঘ দিন ধরে চাকরি না পাওয়ার অভিযোগে অনশন করছিলেন কয়েকশো চাকরিপ্রার্থী। আজ অনশনের ২৩-তম দিনে বিকাশ ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। জানিয়ে দিলেন, অনশনকারীদের প্রতি যথেষ্ট মানবিক সরকার। সরকারি তরফে তিনি চান, যত দ্রুত সম্ভব এ অনশন প্রত্যাহার হোক। কিন্তু একই সঙ্গে পার্থ এ-ও মনে করিয়ে দেন, এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়া আইনি পথেই হবে।

এসএসসির অনশনকারীদের চাপ, দাবি খতিয়ে দেখার আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর

শুক্রবার একটি সাংবাদিক বৈঠকে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন “আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ৪ বার কথা বলেছি, ওঁদের প্রতি সরকার মানবিক। আইনের মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করা হবে।” পাশাপাশি এদিন শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, মনীশ জৈনের নেতৃত্বে পাঁচজনের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, দুদিনের মধ্যে লিখিত ভাবে সমস্ত অভিযোগ জমা করা হোক, সমস্ত দাবির সত্যতা প্রমানিত হলে পদক্ষেপ নেবে সরকার। ১৫ দিনের মধ্যেই প্রার্থীদের সমস্ত আবেদনের উত্তর দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, বৈঠকে আন্দোলনকারীদের অনশন তুলে নিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে অনুরোধ করেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

পার্থ চট্টোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, যাঁরা আন্দোলন ও অনশন করছেন, তাঁদের মধ্যে সকলেই আদতে চাকরি পাওয়ার যোগ্য কি না। তাঁর বক্তব্য, এই আন্দোলন ও অনশনের প্রতি তাঁদের যতই সমবেদনা থাকুক না কেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই পদক্ষেপ নিতে বলা হবে এসএসসিকে। কারণ, তাঁর কথায়, “শিক্ষকতার মতো একটা পেশার ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতা বিসর্জন দিয়ে অন্য কোনও ফ্যাক্টরকে অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব নয়।”

পার্থবাবু আরও জানান, অনশনকারীরা ছাড়াও আরও অনেকেই এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন, পাশ করেছেন। সকলের ক্ষেত্রেই নিয়ম মেনেই সব কিছু হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। জানিয়ে দেন, কার্যত সমস্ত চাকরির ক্ষেত্রেই মেরিট লিস্টের বাইরে একটা ওয়েটিং লিস্ট থাকে। এ ক্ষেত্রেও আছে। সেই ওয়েটিং লিস্ট কখনওই প্যানেল নয় বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে অনশনকারী তানিয়া শেঠের কথায়, “শিক্ষামন্ত্রীর কথায় আমরা কিছুটা আস্বস্ত হলাম। এবার সমস্ত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” তবে মেধাতালিকা দেখতে চান তাঁরা। শুধু নামের ভিত্তিতে নয়, নম্বরের ভিত্তিতে কোন প্রার্থী কোথায় রয়েছে তাও জানতে চান আন্দোলনকারীরা। 

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।