কলকাতা প্রথম পাতা

শিক্ষা ক্ষেত্রে চাকরি দেওয়ার নাম করে কে টাকা নিয়েছে নাম জানতে চাইলেন শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি— রাজ্যের সরকারি ও সরকার সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে। টাকার বিনিয়মে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ করে এসেছে সিপিএম ও কংগ্রেসসহ রাজ্যের বিরোধী দলগুলি। সেই অভিযোগ আজ কার্যত খারিজ করে দিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। আজ বিধানসভায় শিক্ষা বাজেটের সমাপ্তি ভাষণে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিরোধীদের উদ্দেশে বলেন,  “আপনারা অভিযোগ করে আসছেন শিক্ষকদের চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা দেওয়া হয়েছে। কে শিক্ষকদের চাকরি দেওয়ার সময় টাকা নিয়েছে আপনারাই বলুন। দেখুন না, আমি কোনও পদক্ষেপ নিতে পারি কি না। আপনারা তো কিছু সঠিক পথে বলেন না!”

একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী আরও তীব্র ও সরাসরি অভিযোগ, “এর আগে আপনারা যেখানে শিক্ষক দরকার নেই, সেখানেও শিক্ষক ঢুকিয়েছিলেন। প্রায় আড়াই লক্ষ এরকম ঘটনা রয়েছে। কী মানসিকতা ছিল আপনাদের, জানি না। আপনারা মনে হয় ক্যাডার বেস চাকরির ব্যবস্থা করেছিলেন। তাই যেখানে শিক্ষক বেশি সেখানে আরও শিক্ষক ঢুকিয়েছেন আর যেখানে দরকার সেখানে ফাঁকা রয়ে গেছে। আপনারা সেই সমস্যা সমাধানের কথা ভাবেননি, শুধু একের পর এক লোক নিয়ে গিয়েছেন, সরকারি চাকরিতে ঢুকিয়েছেন ইচ্ছেমতো।”

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতার অভিযোগ নিয়ে বিরোধীরাই এ দিন সরব হয়েছিলেন। কিন্তু সব দাবি উড়িয়ে দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়ে দেন, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে কোনও অস্বচ্ছতাই হয়নি! পাল্টা তিনি আক্রমণ করেন বিরোধীদেরই। তিনি বলেন, “বাড়ির উঠোনে রথ টেনে যারা ভাবছেন বাংলায় রথ টানছেন তারা মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন।”পার্থ এ দিন বিধানসভায় দাবি করেন, মাদ্রাসার শিক্ষক ও প্যারাটিচারদের সরকারি শিক্ষকের সমান সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। প্রাথমিক শিক্ষকদের আর্থিক সুরক্ষাও নিশ্চিত করা হবে। নিয়োগ নিয়ে যাঁরা এপ্রিল মাসে প্রেস ক্লাবে অনশন করেছিলেন, তাঁদের দাবি-দাওয়া পূরণের বিষয়েও কিছু দিনের মধ্যেই ঘোষণা হবে।

২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর স্কুল সার্ভিস কমিশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করে এসেছে রাজ্যের বিরোধী দলগুলি। একাধিকবার পথে নেমেছে চাকরিপ্রার্থীরা। টেট- পরীক্ষা নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের আক্রোশের মুখে পড়তে হয়েছে রাজ্য সরকারকে। এতে অস্বস্তি বেড়েছে শিক্ষা দপ্তরের। এর আগেও একাধিকবার শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, নিয়োগে দুর্নীতি হয়নি। তবে বিরোধীরা এই দাবি মানতে চাইনি। শিক্ষা বাজেটের সমাপ্তি ভাষণে আজ ফের একই দাবি করলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।