জেলা প্রথম পাতা

মামলার শুনানি আগেই বন্দিকে ছেড়ে দিল মেদিনীপুর জেল!বিভাগীয় তদন্ত নির্দেশ আদালতের

নিজস্ব প্রতিনিধি : ভুল করে বন্দিকে ছেড়ে দিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরে জেল কর্তৃপক্ষ! জেল কর্তৃপক্ষের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ দেখে অবাক হয়ে গেলেন মেদিনীপুরের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট।

আজ মেদিনীপুর মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট প্রসূন ঘোষের কাছে চন্দনের বধূ নির্যাতনের মামলার শুনানি দিন ছিল। থানা থেকে মামলার কাগজ এসে গেলেও দেখা মিলছিল না বন্দিকে। বিচারক পুলিশকে বন্দি কোথায় প্রশ্ন করা হলে পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত তো জেল হেফাজতে। বিচারক নথিতেও দেখেন মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে অভিযুক্তের থাকার কথা। সঙ্গে সঙ্গে তলব করা হয় জেল কর্তৃপক্ষকে। জানতে চাওয়া হয় বন্দির কোথায় গেলো।

দুপুরেই আদালতে হাজির হন জেল সুপার সৌমিক সরকার এবং অন্য এক আধিকারিক। তাঁরা এসে বিচারকের কাছে ক্ষমা চেয়ে জানান যে, তাঁরা ভুল করে সোমবার ছেড়ে দিয়েছেন বন্দিকে।কেন ছেড়ে দেওয়া হয়? সে রহস্য ভেদ হয় কিছু সময় পরে।

জানা যায়, গত ২৫ মার্চ অন্য একটি মামলায় শুনানি ছিল চন্দনের। সেই মামলায় ওইদিন জামিন হয়ে যায় তার। ওই দিন জেলে ফিরে যাওয়ার পর চন্দনের জামিনের কাগজও পৌঁছয়। সেই কাগজ দেখে জেল কর্তৃপক্ষ চন্দনকে ছেড়েও দেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরও একটি যে মামলা রয়েছে এবং সেই মামলায় তাঁর জেল হেফাজত রয়েছে, সে কথা বেমালুম ভুলে যান কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, অভিযুক্তের এ দিন আদালতে হাজিরা থাকায় সে নিজেই চলে এসেছিল আদালতে। তাঁর আইনজীবী বিচারকের কাছে অভিযুক্তকে নিয়ে যান। এর পর বিচারক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য পরোয়ানা জারি করেন। বৃহস্পতিবার ফের তাঁকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

বিচারক জেল আধিকারিকদের ওই ভুলের জন্য ভর্ৎসনা করেন। তিনি বিভাগীয় তদন্ত করার নির্দেশ দেন।

বেলদার বাসিন্দা চন্দন গড়াইকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল বধূ নির্যাতনের মামলায়। তাঁকে গ্রেফতার করা হয় গত মাসের ২৬ তারিখ। বধূ নির্যাতনের পাশাপাশি খোরপোশ সংক্রান্ত একটি মামলাও দায়ের হয় চন্দনের বিরুদ্ধে।

 

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।