দক্ষিণবঙ্গ প্রথম পাতা লগডাউন

অধিক জমায়েতের কারনে বন্ধ করা হলো প্রচেষ্টা প্রকল্পের ফর্ম জমা নেওয়ার কাজ ।

লকডাউন এর সময়ে বেশ কিছু মানুষ কাজ হারিয়েছে। এইসব মানুষদের কথা চিন্তা করে রাজ্য সরকার প্রচেষ্টা প্রকল্প চালু করেছে। যার মাধ্যমে প্রতিটি কাজ হারা মানুষকে ১০০৯ টাকা করে দেবে রাজ্য সরকার। তাম্রলিপ্ত পৌরসভা এলাকায় প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দের কাছ থেকে ফরম ফিলাপ করে জেলাশাসকের দপ্তরে জমা দিতে হবে এমনটাই নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় কাউন্সিলার। সেই নির্দেশ মেনে তাম্রলিপ্ত পৌরসভার এলাকার কাজ হারা মানুষগুলো জড়ো হয় পূর্ব মেদনীপুর জেলাশাসকের দপ্তরে। বেশকিছু ফর্ম জমা নেওয়ার পরে মানুষের ভিড় যখন বাড়তে থাকে।সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে সরাসরি মানুষ জেলাশাসকের দপ্তরে ভিড় জমায়। তখনই বন্ধ করে দেয়া হয় ফর্ম নেওয়া। মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। পাশাপাশি প্রচেষ্টা প্রকল্পে সমস্ত হোসিয়ারী শ্রমিকদের নাম অন্তর্ভুক্তিকরণ করে অন্তত ৬ হাজার টাকা সাহায্য প্রদানের দাবিতে শ্রমমন্ত্রীকে স্মারকলিপি।
নোবেল করোনা ভাইরাস সংক্রমণজনিত পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে ডাকা লক ডাউনের ফলে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কয়েক হাজার হোসিয়ারী শ্রমিক চরম সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কারখানার মালিকদের শ্রমিককে আর্থিক সাহায্য প্রদানের কথা বলা হলেও বাস্তবে কোন হোসিয়ারী কারখানার মালিক শ্রমিকদের আর্থিক সাহায্য করার ক্ষেত্রে বা মজুরি বাবদ টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে এখনো পর্যন্ত এগিয়ে আসেনি। এমতাবস্থায় ওয়েস্ট বেঙ্গল হোসিয়ারী মজদুর ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আজ রাজ্যের শ্রম দপ্তরের মাননীয় মন্ত্রী মলয় ঘটকের কাছে স্মারকলিপি পাঠানো হয়। অবিলম্বে কারখানার মালিকরা যাতে শ্রমিকদের এই পরিস্থিতিতে আর্থিক সাহায্য করে ও প্রচেষ্টা প্রকল্পে সমস্ত শ্রমিকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে অন্তত ছয় হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য দেয় সেজন্য আবেদন জানানো হয়েছে। স্মারকলিপিতে ইউনিয়নের জেলা সভাপতি মধুসূদন বেরা এবং যুগ্ম সম্পাদক নেপাল বাগ ও তপন কুমার আদক অভিযোগ করেন, এমনিতেই চলতি বছরে হোসিয়ারী শিল্পে মন্দা চলছিল। তারপর এই লকডাউন পরিস্থিতিতে শ্রমিকরা তাদের সন্তান-সন্ততিদের মুখে দুবেলা অন্ন জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন।বর্তমানে সরকারি সাহায্য বা মালিকদের দ্বারা বেতন বা আর্থিক সাহায্য না পেলে শ্রমিকদের চরম দুর্দশার মধ্যে পড়তে হবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট-পাঁশকুড়া-শহীদ মাতঙ্গিনী সহ কয়েকটি ব্লকে ছোট বড় মিলে সহস্রাধিক হোসিয়ারী কারখানা রয়েছে। যেখানে প্রায় পনের থেকে কুড়ি হাজার শিশু-মহিলা সহ শ্রমিকেরা কাজ করে।

Spread the love