দেশ প্রথম পাতা

স্বাস্থ্যপরীক্ষায় ফেল,পর্যটকদের কাছে অতি জনপ্রিয় এই সেতুটি বন্ধ করে দিল উত্তরাখণ্ড সরকার

নিজস্ব প্রতিনিধি : দীর্ঘ ৯৬ বছর অক্লান্ত পরিষেবা দেওয়ার পর চিরতরে বিশ্রামে গেল হৃষীকেশের সুবিখ্যাত ঝুলন্ত সেতু লক্ষ্মণঝোলা। সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সেতুতে এমন ক্ষতি হয়েছে, যা সারিয়ে তোলা যাবে না। শুক্রবার থেকে সেতুর ওপর দিয়ে সমস্তরকম যান চলাচলের পাশাপাশি বন্ধ করে দেওয়া হল পর্যটকদের যাতায়াতও।

ঝুলন্ত সেতু হলেও, হাঁটার পাশাপাশি লছমনঝুলা দিয়ে দু-চাকার গাড়িও যেত। স্থানীয়দের বক্তব্য, এর জন্যই মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে ওই সেতুর।

উত্তরাখণ্ডের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব ওম প্রকাশ এ বিষয়ে জানিয়েছেন, সেতুটির অধিকাংশ স্থানেই বয়সের ছাপ স্পষ্ট। যে কোনও সময় ঘটতে পারে বিপদ। গত ৫ জুলাই আশঙ্কাজনক অবস্থা খতিয়ে দেখেই বিশেষজ্ঞদের একটি দলের পরামর্শেই বন্ধ করে দেওয়া হল লক্ষ্মণঝোলার পরিষেবা। সেতু খোলা রাখা বিপজ্জনক বুঝেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফে। প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে একটি রিপোর্টে বিশেষজ্ঞরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “এই মুহূর্তে সেতু বন্ধ করে দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন, তা না হলে যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

১৯২৪ সালে এই সেতু তৈরি শুরু হয়। এর ছ’বছর পর সাধারণ মানুষের জন্য তা খুলে দেওয়া হয়। উত্তরাখণ্ড পিডব্লিউডির অবসরপ্রাপ্ত এক আধিকারিক বলেন, “প্রথমে এই সেতুর ওপরে প্রতি বর্গ মিটারে সর্বোচ্চ ২৫০ কিলো ওজন নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল ভারত সরকার। কিন্তু ২০১০-এ তা বাড়িয়ে ৪০০ কিলো করে দেওয়া হয়। অতিরিক্ত ওজন বহনের এই অনুমতি দেওয়ার জন্যই এই সেতুর বড়ো ক্ষতি করে দিয়ে গেল।”

উত্তরাখণ্ডে তেহরি জেলার দুটি গ্রামের মধ্যে সেতুবন্ধন করে লছমন ঝুলা৷ গঙ্গার উপর দিয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার লম্বা একটি সেতু৷ এই ৯৬ বছর ধরে অগণিত পুণ্যার্থী, পর্যটক এই সেতুর উপর দিয়ে যাতায়াত করেছেন। হরিদ্বারের সঙ্গে লছমন ঝুলা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত৷ বেশিরভাগ মানুষ পুণ্যের আশায় লছমন ঝুলায় যান৷ হিন্দু তীর্থস্থানগুলির অন্যতম লছমন ঝুলা। তার গা বেয়ে বয়ে গেছে স্রোতস্বিনী গঙ্গা। তাই হরিদ্বারে বেড়াতে এলে লছমন ঝুলা দেখেন না এমন মানুষ খুব কমই রয়েছেন৷

 

Spread the love