দেশ প্রথম পাতা

অস্বস্তি বাড়লো যোগী প্রশাসনের! উন্নাও কান্ডের তদন্ত ৭ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে, সিবিআইকে  নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

নিজস্ব সংবাদদাতা: উন্নাও গণধর্ষণ মামলায় প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট। তদন্তের খাতিরে বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত উত্তরপ্রদেশ থেকে উন্নাও মামলা দিল্লিতে নিয়ে আসার পক্ষেই মত প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে এদিন দুপুর ১২টার মধ্যে সিবিআইকে মামলার স্ট্যাটাস রিপোর্ট দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর পাশাপাশি সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারিকদের নথিপত্র-সহ আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান বিচারপতিরা। কিন্তু সময় কম থাকার জন্য আগামিকাল অর্থাৎ শুক্রবার পর্যন্ত মামলাটি মুলতবি রাখার আর্জি জানান তদন্তকারীরা। তবে সেই আর্জি খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত।বৃহস্পতিবার শুনানি শুরুর পরই বিচারপতিরা সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতাকে প্রশ্ন করেন, উন্নাও মামলার তদন্তে কতদিন সময় নেবেন? মেহতা বলেন ১ মাস সময় লাগবে। প্রধান বিচারপতি বলেন ১ মাস নয়, তদন্ত শেষ করতে হবে ৭ দিনের মধ্যে।এ দিনের শুনানিতেই প্রধান  বিচারপতি সলিশিটর জেনারেলকে প্রশ্ন করেন, “নিগৃহীতার শারীরিক অবস্থা এখন কেমন?” তুষার মেটা বলেন, “আপাতত ভেন্টিলেশনে রয়েছেন।” তখন ফের প্রধান বিচারপতি বলেন, “অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো তাঁর শারীরিক অবস্থা কি রয়েছে? আমরা চাই না তাঁকে অন্যত্র সরাতে। যদি সরাতে হয় তাহলে এয়ার লিফট করতে হবে। এইমস-কে সেটাই বলব।”

দুপুর দুটোর সময় ফের শুনানি হয় এ দিন। সেই শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতির নির্দেশ উন্নাও ধর্ষণ কাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত পাঁচটি মামলা এক জায়গায় আনতে হবে। এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে সরিয়ে দিল্লিতে আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, প্রধান বিচারপতিকে যে চিঠি লিখেছিলেন উন্নাও কাণ্ডের নিগৃহীতা, সেখানেও মামলা স্থানান্তরের কথা লিখেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।আর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর তদন্তে কিছুটা চাপেই পড়ে গেল সিবিআই।উন্নাও ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্ত বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গার। কিন্তু জেলে থেকেই তিনি মামলায় অভিযাগকারীদের খুনের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কারণ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্যাতিতা, তার আইনজীবী, ২ কাকিমা ও মা পিলভিটে একটি ট্রাক দুর্ঘটনা শিকার হন। সেই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে নির্যাতিতার কাকিমা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি নির্যাতিতা ও তার আইনজীবী। তার পরেই তৎপর হয়ে ওঠে সুপ্রিম কোর্ট।গোটা ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়ে যায় বিজেপি। বৃহস্পতিবার তাঁকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। বুধবার ডাক্তাররা জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও ভেন্টিলেশনে রাখতে হয়েছে। ইতিমধ্যেই সিবিআই তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ধর্ষণের মামলার প্রধান অভিযুক্ত কুলদীপ সেঙ্গারের দলবলই দুর্ঘটনাটি ঘটিয়ে নিগৃহীতাকে হত্যার চেষ্টা করেছে।

 

Spread the love