জেলা প্রথম পাতা লাইফ স্টাইল

ভক্তদের প্রবেশে অনুমতি শৈবতীর্থ বক্রেশ্বর শিব মন্দিরে।

জেলা বীরভূমের যে সব তীর্থক্ষেত্রগুলি রয়েছে সেগুলি লকডাউন জনিত পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ থেকেছে। আনলক ওয়ান ঘোষিত হওয়ার পর থেকেই এক এক করে কঙ্কালীতলা, ফুল্লরা মন্দির-সহ একাধিক মন্দিরের দরজা ভক্তজনদের জন্য খুলে দেওয়া হলেও, এখনও পর্যন্ত তারাপীঠের মা তারার মন্দিরের দরজা ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি। ২০ জুন তারাপীঠ মন্দির কমিটির বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে মন্দির খোলার বিষয়ে।
এদিকে জেলার আরও একটি তীর্থক্ষেত্র শৈবতীর্থ বক্রেশ্বরের শিব মন্দিরের দরজা সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে কী না, তা নিয়ে একটা দোদুল্যমান অবস্থার সৃষ্টি হয়। ১৪ জুন তারাপীঠের মাতারা মন্দির কমিটি বৈঠকে বসে সিদ্ধাম্ত নিয়ে জানিয়ে দেয় যে, ২০ জুন পুনরায় বৈঠকে বসে মন্দির খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তারপরই বক্রেশ্বর মন্দির কমিটি মন্দির খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বেশ কিছুটা দ্বিধান্বিত হয়ে পড়ে। এর আগেও মন্দির কমিটি বৈঠকে বসে মন্দির না খোলারই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দিক থেকেও মন্দির খোলার জন্য একটা চাপও আসছিল বলে মনে করা হচ্ছে। কেননা, মন্দির বন্ধ থাকার কারনে মানুষের আনাগোনা একেবারেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নাভিশ্বাস উঠছে ব্যবসায়ীদের। সেই প্রেক্ষিতেই শেষ পর্যন্ত সোমবার থেকে বক্রেশ্বর শিব মন্দিরের দরজা ভক্তজনদের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মন্দির কমিটি।
সোমবার সকাল থেকে বক্রেশ্বর শিব মন্দিরের দরজা সাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধাম্ত জানাজানি হতেই, সোমবার সকাল থেকেই বক্রেশ্বর শিব মন্দিরে ভক্তদের লাইন শুরু হয়ে যায়। তবে, এদিন ভীড়ের চাপ তেমন একটা লক্ষ্য করা যায়নি। লাইনে মহিলাদেরই উপস্থিতি ছিলো বেশি। বক্রেশ্বর মন্দির কমিটির সম্পাদক রাণা চৌধুরী জানিয়েছেন, দীর্ঘ দু’মাস কুড়ি দিন বন্ধ থাকার পরে এদিন মন্দিরের দরজা সকলের জন্য খুলে দেওয়া হলো। তবে, একসঙ্গে পাঁচ জনের বেশি কাউকে মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। মন্দিরে প্রবেশের আগে ভক্তজনেরা এখানকার উঞ্চ প্রস্রবণে হাত ধুয়ে আসছেন। মন্দিরে প্রবেশের আগে তাঁদের হাত স্যানিটাইজ করা হচ্ছে। সোমবার শিব পুজো থাকায় এদিন থেকেই মন্দিরের দরজা ভক্তজনদের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বক্রেশ্বর উন্নয়ন পর্যদ গঠন করে এখানকার উন্নয়ন ও সৌম্দর্যায়নের কাজে হাত দেওয়া হয়েছে। দুবরাজপুর পুর এলাকা-সহ দুবরাজপুর ব্লকের ৪৫টি মৌজা নিয়ে বক্রেশ্বর উন্নয়ন পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। এখানকার বাসস্ট্যাণ্ড ও শ্মশানে যাওয়ার রাস্তার উন্নয়ন ছাড়াও বেশ কিছু উন্নয়ন মূলক কাজ এখানে রূপায়িত হয়েছে। এখানকার উঞ্চ প্রস্রবণের প্রতিও মানুষের একটা বাড়তি আকর্ষণ রয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এখানে এবার মন্দিরের দরজা সকলের জন্য খুলে দেওয়ায়, এখানে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের আনাগোনায় বক্রেশ্বর আবার প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে বলেই আশা করা হচ্ছে ।।

Spread the love