কলকাতা প্রথম পাতা

দিল্লির তৎপরতা! জাতীয় দলের তকমা কেড়ে নিতে তৃণমূলকে নোটিশ পাঠাতে পারে নির্বাচন কমিশন

নিজস্ব প্রতিনিধি: অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। নামটা আজ কারুর অজানা নয়। কিন্তু এবার সংশয় পড়তে হতে পারে রাজ্যের শাসকদলকে। কারণ, অল ইন্ডিয়া শব্দটি উঠে যাওয়ার মুখে। ফেসবুক থেকে টুইটার হ্যান্ডল, সর্বত্র লেখা এআইটিসি। কিন্তু বাংলার শাসকদলের জাতীয় দলের মর্যাদা থাকবে তো? এই প্রশ্নই এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে তৃণমূলের অন্দরে। সূত্রের খবর, তৃণমূলকে নোটিস পাঠাতে চলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে বলা হবে, কেন জাতীয় দলের তকমা থাকবে, তার কারণ জানান। তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছে সিপিআই এবং শরদ পাওয়ারের দল এনসিপি। তাদেরও নোটিস দিতে পারে জাতীয় কমিশনের কর্তারা।নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী তিনটি শর্তের মধ্যে একটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এক, তিনটি রাজ্য থেকে লোকসভার মোট আসনের দু’শতাংশ আসন অর্থাৎ ১১টি আসনে জিততে হবে। দুই, চারটি রাজ্যে ৬ শতাংশ ভোট পেতে হবে। এবং তিন, দেশের যে কোনও চারটি রাজ্যে রাজ্য-দলের মর্যাদা থাকতে হবে।প্রথম শর্ত অনুযায়ী, দরকার ১১টি আসন। তৃণমূলের রয়েছে ২২টি আসন। কিন্তু তা শুধু বাংলায়। চারটি রাজ্যেও তাদের ৬ শতাংশ ভোট নেই। এ বারের ভোটে ত্রিপুরা, আন্দামান, অসম, ঝাড়খণ্ড, মণিপুরে প্রার্থী দিলেও জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে গিয়েছে জোড়াফুলের। ফলে সেই শর্ত পূরণ হচ্ছে না। চারটি রাজ্যে ৬ শতাংশ ভোট নেই। নেই চার রাজ্যের রাজ্য পার্টি হওয়ার তকমাও। ফলে জাতীয় দলের মর্যাদা থাকা নিয়ে ঘোর সংশয় তৈরি হয়েছে।২০১৪ সালে তৃণমূল ৩৪টি আসন পেয়েছিল তৃণমূল৷ এবার ২০১৯-এর লোকসভায় ভোটের শতাংশ বাড়লেও কমেছে আসন৷ ৩৪ থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ২২টি আসনে৷ সিপিআই জিতেছে ২টি আসনে৷ গতবারও এনসিপি, বিএসপি ও সিপিআই জাতীয় পার্টির মর্যাদা হারাতে চলেছিল৷ কিন্তু কমিশন নিয়ম বদলানোর জন্য সেবার তারা রেহাই পায়৷ এবার ১০টি লোকসভা আসন ও কেয়েকটি বিধানসভা আসনে জেতায় বিএসপি বিপদ কেটেছে৷

কমিশনের নিময় বলছে, লোকসভার ভোটে চার কিংবা তার বেশি রাজ্যে কোনও দল ন্যূনতম ৬ শতাংশ ভোট পেলে ও লোকসভায় অন্তত ৪ সাংসদ থাকলে তবেই কোনও দল জাতীয় দল হতে পারে৷ এখন কংগ্রেস, বিজেপি, বিএসপি, সিপিএম, সিপিআই, এনসিপি, ন্যাশনাল কনফারেন্স, বিএসপি ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টি অফ মেঘালয় জাতীয় পার্টি হিসেবে স্বীকৃত৷

 

Spread the love