জেলা প্রথম পাতা

রাস্তা নিয়ে মুনমুনের অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তৃণমূলের অন্দরেই, ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি : “রাস্তাগুলো ভাল করতে হবে। রাস্তায় এত গর্ত। গাড়ির কথা ভেবে আমার কান্না পাচ্ছে। গাড়িটা আমার লক্ষ্মী। আমাকে অনেক জায়গায় নিয়ে যেতে হবে ওকে। গ্রামাঞ্চলে অনেক রাস্তাই খারাপ। আসানসোল শহরের রাস্তা ভাল হলেও অনেক ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণ হয় না। রাস্তার পাশে আবর্জনা।” লোকসভার প্রার্থী তৃণমূলের। পুরসভা ও জেলা পরিষদও তৃণমূলেরই দখলে।

তা সত্ত্বেও আসানসোলের তৃণমূলের ‘সেলেব’ প্রার্থী মুনমুন সেনের এটাই স্পষ্ট অভিযোগ।

নিজের দলের পুরসভা ও জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে রবিবার পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জের দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে  এ ভাষাতেই তোপ দেগেছেন আসানসোলে তৃণমূল প্রার্থী মুনমুন সেন। আর এই বক্তব্যই লুফে নিয়েছেন ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়। বলেছেন, “মুনমুনদি একদম ঠিক কথাটাই বলে ফেলেছেন। ওঁর দলের কর্মীদের কাছে জানতে হবে, উন্নয়নের এত টাকা গেল কোথায়।” চুপ নেই সিপিএম প্রার্থী গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায়ও। তাঁর কথা, “আসানসোলের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটিই তৃণমূলের দখলে। তার পরেও এমন অনুন্নয়নের কথা বললেন তাঁদের প্রার্থী। মানুষেরও প্রশ্ন, কেন কাজ হল না?”

এতেও অবশ্য হেলদোল নেই মুনমুনের।  বিদায়ী সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়কে মুনমুন কটাক্ষ করে বলেছেন, “পাঁচ বছর গান গাওয়া হলেও কাজ হয়নি। এর মধ্যে অন্য কোনও অর্থ নেই। যা দেখেছি, তা-ই বলেছি।”

এদিকে, দলীয় প্রার্থীর এই মন্তব্যে তৃণমূল শিবিরে তুমুল চাঞ্চল্য এবং বিতর্ক । নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ, “রাজনীতির বাইরের লোকজনকে প্র্রার্থী করলে এমনই হয়। এসব মেনে নেওয়া অসম্ভব।”। বিরোধীদের বক্তব্য, “মুনমুন সেন আসলে বেশির ভাগ রাস্তার কাজের দায়িত্বে থাকা আসানসোল পুরসভা ও জেলা পরিষদকেই দায়ি করেছেন।

বিরোধীদের দাবি, মুনমুন যে রাস্তাগুলির রক্ষণাবেক্ষণ প্রসঙ্গে ‘অসন্তোষ’ প্রকাশ করেছেন, সেগুলির বেশির ভাগেরই দায়িত্বে আসানসোল পুরসভা ও জেলা পরিষদ। দু’টিই তৃণমূলের দখলে।  দলের প্র্রার্থীর এই মন্তব্য আসলে তাঁর নিজের দল পরিচালিত স্থানীয় প্রশাসনকে দায়ী করছেন। আসানসোল পুরসভার মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি রাস্তার অবস্থার জন্য দায়ী করেছেন 9 বছর আগে বিদায় নেওয়া 

বাম শাসনকেই। দলীয় প্রার্থীর রাস্তা বেহালের অভিযোগ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ‘‘বামফ্রন্টের 34 বছরে যে কাজ হয়নি, আমরা 9’বছরে তা করার চেষ্টা করেছি।” পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুভদ্রা বাউরিও প্রায় একই সুরে যুক্তি দিয়েছেন।

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।