কলকাতা প্রথম পাতা লগডাউন

শনিবার থেকে খুলছে দক্ষিণেশ্বর মন্দির। ফুল ছাড়া হবে ভবতারিনীর পুজো।

দীর্ঘ আড়াই মাস বন্ধ থাকার পর আগামী শনিবার চলতি মাসের ১৩ তারিখ থেকে ভক্তদের জন্য খুলে যাচ্ছে দক্ষিনেশ্বরে মা ভবতারিনীর মন্দির। বুধবার এমনটাই জানান মন্দিরের অছি ও সম্পাদক কুশল চৌধুরী। তবে মায়ের পুজো দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়মাবলী অবলম্বন করা হবে বলে জানিয়েছেন কুশল। ১৬৫ বছরের মন্দিরে ইতিহাসে করোনার জন্যই এই প্রথম মন্দির বন্ধ রাখা হয়। যা শনিবার সকাল থেকে মায়ের দর্শনের জন্য খুলে দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, এ দিন বিকেলে মন্দির ভক্ত সাধারণের জন্য খোলার পূর্বে এক ট্রায়াল রানের ব্যবস্থা করা হয়। সেই ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে এ দিন মন্দির চত্বরে হাজির হন বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা, ডেপুটি কমিশনার আনন্দ রায়, কামারহাটি পুরপ্রশাসক মণ্ডলীর প্রধান গোপাল সাহা প্রমুখ। এ দিন সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরাও মন্দিরে আসেন। তারা মন্দিরের সুরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। এরপরেই মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবার থেকে ফুল ও অন্যান্য সামগ্রী ছাড়াই মায়ের পুজো দিতে হবে আগত পুণ্যার্থীদের। শুধু মাত্র প্রসাদ নিয়ে মায়ের মন্দিরে প্রবেশ করা যাবে। সেক্ষেত্রেও বেশ কিছু বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মন্দির কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের তরফে। সামাজিক দূরত্ব যারমধ্যে প্রধানতম। এছাড়াও মন্দির খোলার সময়ের পরিবর্তন করা হয়েছে। শনিবার থেকে মন্দির সকাল ও বিকেল দু’বেলা খোলা হবে। সকালে ৭টা থেকে ১০টা এবং বিকেলে সাড়ে তিনটে থেকে সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত মন্দির খোলা থাকবে। এই খোলা ও বন্ধের আগে ও পরে ২০ মিনিটের সময় রাখা হয়েছে ভক্ত সাধারণদের মন্দির প্রাঙ্গন ত্যাগ করার জন্য। মন্দির কমিটির তরফে জানানো হয়, এক সঙ্গে দশ ভক্ত মায়ের পুজো দিতে পারবে। শুধুমাত্র প্রসাদ নিয়ে। সেখানেও থাকছে বিধি নিষেধ। গর্ভগৃহের থেকে সামাজিক দূরত্ব মেনে ঝুড়িতে দিতে হবে প্রসাদ। তারপরে মন্দিরের সেবায়েতরা তা নিয়ে পুজো দিয়ে পুনরায় তা ঝুড়িতে ফিরিয়ে দেবে। এছাড়াও মন্দির চত্বরে প্রতিষ্ঠিত ১২ শিব মন্দিরের কোথাও পুজো দেওয়া যাবে না। শুধুমাত্র দর্শন করা যাবে। একই নিয়ম বজায় থাকবে রাধা কৃষ্ণের মন্দির ও রামকৃষ্ণদেবের কক্ষে প্রবেশ করা যাবে না। মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে আরও জানানো হয় এক সাথে মন্দির চত্বরে চারশো জন প্রবেশ করতে পারবে। তারপরে সরকারি নিয়ম মেনে দশ জন করে পুজো দিতে পারবে।

তবে মন্দিরে প্রবেশ করতে হলে পুণ্যার্থীদের তাপমান কেন্দ্র ও স্যানিটাইজার টানেলের মধ্যে দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। কোন পুণ্যার্থীর শারীরিক তাপমান স্বাভাবিকের থেকে বেশি হলে মন্দিরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। মন্দিরের প্রবেশের মুখেই বসানো হয়েছে তাপমান কেন্দ্র। সেখান থেকে বেরিয়ে নিরাপত্তা বলয় পেরোনোর পর স্যানিটাইজ টানেলের মধ্যে দিয়ে গিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করতে হবে। এই সময় কোন ভিআইপি ব্যবস্থা থাকছে না বলেও জানিয়ে দেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। স্কাই-ওয়াক দিয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রেও থার্মাল স্ক্যানিংয়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। মন্দির চত্বরে ডালা অর্কিড ও স্কাই-ওয়াকের দোকানগুলি জোড় বিজোড় নিয়ম মেনে পর্যায়ক্রমে খোলা হবে জানানো হয় মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে। মন্দির চত্বরের খাওয়ারের দোকান খুলেও সেখানে বসে খাওয়ার কোন ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে না। এ দিন মন্দিরের অছি ও সম্পাদক কুশল চৌধুরী বলেন, তারা অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে ভক্তদের জন্য পুজো দেওয়ার ব্যবস্থা করছে। করোনার প্রভাব কেটে গেলে পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করা হবে। পুলিশ কমিশনার জানান, তারা পর্যাপ্ত পরিমাণে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখছে। পুরপ্রশাসক গোপাল সাহা জানান, মন্দির কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসন ও পুরসভা এক সাথে বৈঠক করে সমস্ত রকম সরকারি নিয়ম মেনে মন্দির খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

Spread the love