জেলা প্রথম পাতা

‘অনুব্রত-সংস্কৃতি’ই গেরুয়া শিবিরের ভরসা, বোঝালেন নব্য বাহুবলী সায়ন্তন

নিজস্ব প্রতিনিধি— তাহলে ‘অনুব্রত-সংস্কৃতি’ই বিজেপির এখন একমাত্র ভরসা! অবশ্য  মঙ্গলবার বসিরহাটের গেরুয়া-মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিজেপি প্রার্থী সায়ন্তন বসু যেভাবে একের পর এক  ‘বাণী’ শুনিয়েছেন, তাতে অনুব্রত মণ্ডলকে নেহাতই ‘দুগ্ধপোষ্য’ মনে হয়েছে। মনে হচ্ছিলো, বিজেপি ভেবেছে অনুব্রত’র  ডায়লগ এখন আর খাচ্ছেনা।  একটু ইম্প্রোভাইস করতে না পারলে জনগনের ‘আস্থা’ অর্জন করা যাবেনা। ঠিক সেই কাজটাই গভীর নিষ্ঠার সঙ্গে এদিন করে দেখালেন বঙ্গ-বিজেপি’র নতুন বাহুবলী সায়ন্তন বসু। নির্বাচনী সভামঞ্চ থেকে তিনি উদাত্ত আহ্বান জানালেন, ” নির্বাচনের দিন বুথ যদি দখল করতে আসে, CRPF-কে বলে দেব, গুলি যেন বুক লক্ষ্য করে যায়। গুলি যেন পা লক্ষ্য করে না যায়”।  আবেগ চেপে ধরলে এইটুকুতে মন ভরে! সায়ন্তন বসু’রও ভরেনি। অবলীলায় বলে গেলেন, “দৌড়নো তো দূরের কথা, যাবে দৌড়ে, ফিরবে খাটিয়াতে করে। সেই ব্যবস্থা আমরা করে দেব”।”যারাই অত্যাচার করবে, তাদের কাউকে ছাড়া নেই। পুলিশ তৃণমূলের হয়ে কাজ করছে। আমি এটাও বলছি, পুলিশকে থানার মধ্যে আটকে রেখে দেব। পুলিশকে থানার বাইরে বের হতে দেব না”। “বসিরহাটে ভাল ভাল ডাব পাওয়া যায়। আর ডাব কাটার দা’গুলোও খুব ভাল হয়। রাস্তায়  মহিলারা দা নিয়ে বেরবে। দু’চারটেকে দেখতে পেলে একদম সাবাড় করে দিয়ে আসবে”। “আমি দিল্লির নেতাদের কথা দিয়েছি, যারা এখানে বেচাল করবে, তাদের নামের তালিকা তুলে দেব। কেন্দ্রীয়বাহিনী এসে তাদের বেচাল ঠাণ্ডা করে দেবে”।

এদিন সায়ন্তন বসু বুঝিয়ে দিলেন ‘অনুব্রত- সংস্কৃতি’-ই  এই মুহূর্তে বিজেপির ভরসা। অবশ্য বঙ্গ-বিজেপির সাধারন সম্পাদকের কথা শুনে  অনুব্রত মণ্ডলকে লাস্ট বেঞ্চের ছাত্র মনে হয়েছে।  এদিন তৃণমূলের থেকে বেশ কয়েককদম বিজেপিকে এগিয়ে দিলেন সায়ন্তন। অনুব্রত মণ্ডল দূর থেকে “পুলিশের গাড়িতে বোম মারতে” আবেদন জানিয়েছিলেন, আর  সায়ন্তন তো এদিন বিজেপি-বিরোধীদের “বুক লক্ষ্য করে গুলি মারা”র ডাক দিয়েছেন।

সায়ন্তনের  এদিনের বক্তৃতাকে নির্বাচন কমিশন ছাড় দেবে না। সতর্ক করবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে,  নির্বাচনে এ ভাবে হিংসা ছড়ানোর প্ররোচনা দেওয়ার অপরাধে বিজেপি’র প্রার্থী সায়ন্তন বসুকে কমিশন কেন ‘নিষিদ্ধ’ করবে না?

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।