দেশ প্রথম পাতা

পাকিস্তানের সঙ্গে আছি-থাকব, আশ্বাস চিনের

নয়াদিল্লি— কে কী বলল, তা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না চিন। যা-ই ঘটুক, তারা পাকিস্তানের সঙ্গ ছাড়বে না। মঙ্গলবার এ কথা সোজাসাপটা জানিয়ে দিল চিনা বিদেশমন্ত্রক। তারা বলেছে, ঘটনাপ্রবাহ যেদিকেই গড়াক না কেন, আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার স্বার্থে চিন পাকিস্তানের সঙ্গে থাকবে এবং প্রয়োজন মতো তাদের সাহায্য করবে। বেজিংয়ের এই সিদ্ধান্তে স্বভাবতই খুশি ইসলামাবাদ। পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি চিনা নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিবৃতিও দিয়েছেন। ১৮ মার্চ পৃথিবীজুড়ে সন্ত্রাসবাদের বাড়বাড়ন্ত ও তার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করে শ্বেতপত্র প্রকাশ করে চিনের তথ্যমন্ত্রক। পাক বিদেশমন্ত্রীর চিন সফরের সময়েই চিন শ্বেতপত্রটি প্রকাশ করায় জল্পনা শুরু হয়। যাবতীয় জল্পনায় জল ঢেলে মঙ্গলবার চিন দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনো অবস্থাতেই পাকিস্তানের পাশ থেকে সরে যাবে না। চিন পাকিস্তানের সঙ্গে আছে, থাকবে। চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, ‘চিন পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষা করতে দায়বদ্ধ।’

বেজিংয়ে আয়োজিত চিন ও পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক স্তরের দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় চিনা বিদেশমন্ত্রী বলেন, সার্বিকভাবে গোটা বিশ্বে এবং অঞ্চল বিশেষে দ্রুত রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হচ্ছে। কিন্তু যেখানে যা-ই ঘটুক, চিন-পাকিস্তান সম্পর্ক অটুট থাকবে। এর কোনও পরিবর্তন ঘটবে না। পাকিস্তানের মর্যাদা রক্ষার জন্য চিন তাদের যাবতীয় সাহায্য করবে। চিনের ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত পাক বিদেশমন্ত্রী কুরেশি ওয়াং ই-কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পাকিস্তানের দুঃসময়ে চিনের ভূমিকা প্রশংসনীয়। পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলা ও তার প্রতিক্রিয়ায় বালাকোটে ভারতের বিমানহানার প্রেক্ষিতে চিন ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। গত সপ্তাহেই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী জৈশ-ই-মহম্মদের শীর্ষনেতা মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসেবে চিহ্নিত করে কালো তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাবে চতুর্থবার ভেটো প্রয়োগ করে চিন। চিনের এই ভূমিকায় ভারত-চিন পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়। কিন্তু তার জন্য বেজিং যে তাদের বিদেশনীতি পালটাবে না তার প্রমাণ মিলল চিন-পাক দ্বিপাক্ষিক আলোচনায়।

বুধবার পাক বিদেশমন্ত্রী জানান, চিনের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। পুলওয়ামা হামলার পরবর্তী অবস্থা নিয়ে চিনা বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি আলোচনা করেছেন। ভারত-পাক

সম্পর্কের অবনতি, কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি এবং কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙঘন সম্পর্কেও বিশদে বলা হয়েছে ওয়াং ই-কে। এমন সংকটের মুহূর্তে চিন পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়ায় ইসলামাবাদ সন্তুষ্ট বলে জানান পাক বিদেশমন্ত্রী।

এদিকে বুধবার ভারতের বিদেশমন্ত্রক ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা এবারও চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ফোরামের বৈঠক বয়কট করতে পারে। এর আগে ২০১৭-য় বিতর্কিত চিনপাক অর্থনৈতিক করিডর নির্মাণ সংক্রান্ত ফোরামের প্রথম বৈঠক থেকেও সরে দাঁড়িয়েছিল ভারত। চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্প নিয়ে ভারত বরাবর আপত্তি জানিয়েছে। দিল্লির বক্তব্য, এই প্রকল্প পাক অধিকৃত কাশ্মীরের উপর দিয়ে যাওয়ায় তা ভারতের সার্বভৌমত্ব ক্ষুন্ন করবে।।

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।