কলকাতা প্রথম পাতা

প্রচারের শেষলগ্নে যুবক-যুবতীদের ভালোবাসার ‘লাইসেন্স’ দিয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী – শুনিয়ে গেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রেম কাহিনী

নিজস্ব প্রতিনিধি— সপ্তম দফার প্রচারের শেষ লগ্নে এসে একগুচ্ছ প্রেমের কাহিনী শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডায়মন্ড হারবারে যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে জনসভায় দাঁড়িয়ে মমতা অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদের প্রেম করার জন্য উৎসাহিত করলেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রেম কাহিনীর পাশাপাশি তাঁর ভাইয়ের বউকে প্রেম করতে উৎসাহিত করার কথাও জানিয়ে গেলেন।

জনসভার শুরু থেকে পুরোনো মেজাজেই ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি-র বিরুদ্ধে সমালোচনা করছিলেন তিনি। হঠাৎ উত্তরপ্রদেশের অ্যান্টি রোমিও স্কোয়াডের কথা টানেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই বিজেপি-র সরকার কী ডেঞ্জারাস! ছোট ছোট ভাইবোনেরা একটু গল্প করে, প্রেম করে, তাদের গ্রেফতার করে নিয়ে চলে যাচ্ছে।” এরপরই মমতা বলেন, “ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা ঘুরবে না তো কী করবে? ছেলেদের মেয়ে বন্ধু থাকতে পারে আর মেয়েদের ছেলে বন্ধু থাকতে পারে না? মেয়েদের মেয়ে বন্ধু থাকতে পারে, আর ছেলে বন্ধু থাকতে পারে না?”

এরপর তিনি কতটা খোলা মনের সেটা বোঝাতে উদাহরণ টানেন তাঁর ভাইয়ের বউকে। বলেন, “ভাই আমি ভাই লিবারাল। আমি সবার পক্ষে। আপনারা অনেকে জানেন না আমি কতটা লিবারাল। আমি একসময় আমার ভাইয়ের বউকে বলেছিলাম, তোর যদি কখনও প্রেম করতে ইচ্ছে করে কারও সঙ্গে, তুই করে নিস। আমার কোনও অসুবিধে নেই।” তিনি যে এ সব তাঁর মায়ের কাছে শিখেছেন তাও জানিয়ে দেন মমতা। বলেন, “মনে রাখবেন, সব বন্ধ করা যায়, কিন্তু মনের দরজা বন্ধ করা যায় না।”

তারপরই মুখ্যমন্ত্রীর মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ উঠে আসে। তিনি বলেন, “আমাদের বাড়িতে সব ধর্ম, সব বর্ণের লোক আছে। এই যে অভিষেক যাকে বিয়ে করেছে! বাচ্চা মেয়ে! সে তো পাঞ্জাবি। ওরা প্রেম করত দিল্লিতে। প্রেম করেছে, বিয়ে দিয়েছি আমরা। ওরা যখন করত তখন জিজ্ঞেস করবে, তোমার বাবার নাম কী? মায়ের নাম কী? কোথায় থাকো? প্রেম করতে গিয়ে এ সব কেউ করে? প্রেম হয়ে গেছে। বিয়ে করে নিয়েছে।আমরা গিয়ে নেমন্তন্ন খেয়েছি।”

যদিও মুখ্যমন্ত্রীর এই বিষয়টিকে নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিরোধীরা। রাজ্য বিজেপি-র এক নেতা বলেন, “দিদি যে লিবারাল সে তো শোভন বৈশাখীর প্রেমকাহিনি দেখলেই বোঝা যায়!”

Spread the love