আজকের সারাদিন দেশ প্রথম পাতা

”জয় শ্রী রাম” না বলায় চন্দৌলির অগ্নিদগ্ধ কিশোর শেষ পর্যন্ত মারা গেল

নিজস্ব প্রতিনিধি : ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান বলেনি কিশোর।সেটাই অপরাধ,  মৃত্যুর সঙ্গে  লড়াই করার পর অবশেষে মারা গেল চন্দৌলির অগ্নিদগ্ধ কিশোর। গত রবিবার ‘জয় শ্রী রাম’ না বলায় উত্তরপ্রদেশের চন্দৌলির ওই কিশোরের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। বধুবার উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জানিয়েছে, আজ সকালে হাসপাতালেই চন্দৌলির ওই অগ্নিদগ্ধ কিশোর মারা গেছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে খালিদের পরিবার খুনের অভিযোগ করেছে। তারা জানিয়েছে, অপরাধীদের শাস্তি চাই।

Image may contain: 1 person, sitting

চন্দৌলি জেলার সৈয়দ রাজা টাউনের বাসিন্দা খালিদ। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের চাণ্ডৌলিতে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে ওই কিশোর৷ ব্যক্তিগত কাজে দুধারি ব্রিজের উপর দিয়ে যাচ্ছিল সে৷ অভিযোগ, আচমকাই চারজন তাকে ঘিরে ধরে৷ প্রায় জোর করে টেনেহিঁচড়ে একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয় তাকে৷ দু’জন মিলে তার হাত-পা বেঁধে ফেলে৷ ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেওয়ার জন্য জোর করা হয় ওই মুসলমান কিশোরকে৷ তবে সে বলতে রাজি হয়নি৷ এই নিয়ে অপহরণকারীদের সঙ্গে ওই কিশোরের কথা কাটাকাটি হয়৷

পুলিশ সুপার সন্তোষ কুমার সিং দাবি করেছেন, ছেলেটির বয়ান মিথ্যে। সে নিজেই তার গায়ে আগুন লাগিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ‘৪৫% পোড়ার ক্ষত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় ছেলেটি। একেক জনকে সে একেক রকম বয়ান দিচ্ছে। মনে হচ্ছে, ওকে শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে। ও যেখানে যেখানে থাকার কথা বলেছে, CCTV ফুটেজে দেখা গিয়েছে সে কোথাও নেই। প্রথমে সে বলেছিল মহারাজপুর গ্রামে তার সঙ্গে চারজনের দেখা হয়। তারা ছেলেটির গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আবার পরে সে জানায় হাতিজায় চারজন মোটক সাইকেলে চেপে এসে তাকে অপহরণ করেছিল।’ পুলিশের দাবি, এই দুটি জায়গা একেবারে দুই অভিমুখে।

‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি বলতে অস্বীকার,মুসলিম কিশোরের গায়ে আগুন ৪ যুবকের! দায় নিতে নারাজ যোগী পুলিশ

পুলিশ সুপার বলেছিলেন, ‘‘হাসপাতালে ওই কিশোরের বয়ান যখন রেকর্ড করা হচ্ছিল, তখন অসঙ্গতিপূর্ণ কথা বলেছিল। এক এক জন লোকের কাছে সে এক এক রকম কথা বলেছে। মনে হচ্ছে, সম্ভবত, কেউ তাকে দিয়ে এ সব কথা বলিয়েছে।’’ পুলিশ সুপার গত কালই দাবি করেছিলেন, ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছিলেন, খালিদ নিজেই গায়ে আগুন লাগিয়েছে। সন্তোষকুমার জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হয়েছে। তদন্ত চলছে।

Spread the love