দেশ প্রথম পাতা রাজনৈতিক

লকডাউনের আড়ালে দেশকে বিক্রি করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার: দোলা সেন।

কেন্দ্রীয় সরকারের বেসরকারিকরনের নীতি নিয়ে সরব হলেন সাংসদ তথা রাজ্য আইএনটিইউসির সভানেত্রী দোলা সেন। কড়া ভাষায় কেন্দ্রের সমালোচনা করেন তিনি।
উল্লেখ্য, কেন্দ্র সরকারের রাষ্ট্রীয় ও রাষ্ট্রায়ত্ব একাধিক সংস্থার বিলগ্নিকরনের বিরুদ্ধে সোমবার নিউটাউনের কোল ভবনের গেটের সামনে সাংসদ তথা রাজ্য আইএনটিটিইউসির সভানেত্রী দোলা সেনের নেতৃত্বে কোল ভবনে কর্মরত কর্মীরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নিউটাউন থানার পুলিশের উপস্থিতিতেই প্রায় ৩০ মিনিট ধরে প্রতীকী বিক্ষোভ দেখান।
এই প্রতীকী বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকেই দোলা সেন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে কটাক্ষ করে বলেন, মোদী বাবুর নাকি ৫৬ ইঞ্চির ছাতি, অমিত শাহের নাকি ৮৬ ইঞ্চির ছাতি। তাঁরা নাকি বাহুবলি। কিন্তু আদতে তাদের সৎ সাহস নেই। এক বছর আগে তাঁরা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে একের পর এক অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল; যেমন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বিলগ্নীকরণ, পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং অ্যান্ড ডিসইনভেস্টমেন্ট, কোল সেক্টরে ১০০ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই। এছাড়াও কোল ইন্ডিয়ার হেড অফিসটাই কলকাতা থেকে তুলে নিয়ে যাবে বলেছিলেন। কর্পোরেটের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিল ডিফেন্স অর্থাৎ নিরাপত্তাকে। আমাদের অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড সহ সব অস্ত্র কারখানাকে তুলে দিতে চেয়েছিলেন কর্পোরেটের হাতে।
এদিন এই সাংসদ বলেন, এই সমস্ত সিদ্ধান্ত যখন কেন্দ্রীয় সরকার এক বছর আগে নিয়েছিল তখন তাঁরা প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ব্যাপকভাবে চিঠি দিয়ে প্রতিবাদ করেন। আইএনটিটিইউসি পক্ষ থেকে শ্রমিকরা অনশন করেছিল ধর্মতলা গান্ধী মূর্তির পাদদেশে। এছাড়া পার্লামেন্টেও এই প্রতিবাদ করা হয়েছিল। যার ফলে কেন্দ্রীয় সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, এখন নির্লজ্জের মত, চোরের মত লুকিয়ে লুকিয়ে এই লকডাউনের সময় যখন অফিসে বেশিরভাগ লোক নেই, সারা দেশের লোক ঘরের ভেতরে, সেইসময় ওরা বলছে ৭৪ শতাংশ কর্পোরেটাইজেশন করব অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডের, কোলের ১০০ শতাংশ এফডিআই এই সময়েই করে দেব, কোলের হেড অফিস তুলে নিয়ে যাব না, তার বদলে ইসিএল, বিসিসিএল সহ পাঁচটি সাবসিডিয়ারি সেল কাউন্টার কলকাতা থেকে সরিয়ে দেব। যদি তাই হয় তাহলে আমাদের কন্ট্রাক্টর, শ্রমিকদের কাজ চলে যাবে। অনেক লোক আছে যারা বাইরে গিয়ে কাজ করতে পারবে না, তারা পার্মানেন্ট হলেও কাজ চলে যাবে। তাই এই সমস্ত ইস্যুকে সামনে রেখে আপাতত আমরা এই প্রতীকী বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শামিল হয়েছি। কাল পরশুর মধ্যেই এ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি দেওয়া হবে। তবে লকডাউন উঠলে এই দেশকে বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্তগুলোকে কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রত্যাহার করতে তাঁরা বাধ্য করবেন বলেও জানান তিনি । সে বিষয়ে গণ-আন্দোলনের পথ নির্দেশ করবেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান দোলা সেন ।

Spread the love