জেলা প্রথম পাতা

রবিবাসরীয় প্রচারে মাতলো উভয় রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা

নিজস্ব সংবাদদাতা  : নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে আসন্ন লোকসভা ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর সমস্ত রাজনৈতিক মহলেই এখন ভোট প্রস্তুতির তরজা শুরু হয়ে গেছে।এরমাঝে বেশ কিছুদিন ধরে প্রার্থী বাছাই পর্ব চললেও এখন প্রার্থী বাছাইয়ের সমাপ্তে কার্যত কোমরে গামছা বেঁধে জয়ের জন্য ভোট প্রচারের ময়দানে নেমে পড়েছেন উভয় রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা।দেওয়াল লিখন থেকে পতাকা টাঙানো কোনো ব্যাপারেই নির্বাচনে খামতি রাখতে চান না কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা।এরমাঝে রবিবার ছুটির দিনকে উপেক্ষা করে সমগ্র পূর্ব মেদিনীপুর জেলা জুড়ে প্রচারের ঝড় তুললো উভয় রাজনৈতিক দলের প্রার্থী সহ নেতা কর্মীরা।তবে এই ঝড়ের মাঝে কোথাও যেন ঝিমিয়ে রয়েছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতারা।পূর্ব মেদিনীপুরে জেলার দুটি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে এখনও পর্যন্ত কোনও লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থীর নাম প্রকাশ করতে পারেনি কংগ্রেস নেতৃত্ব।তবে এরমাঝে কংগ্রেস এখন নিজেদের সংগঠনের মধ্যে জোরদার প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে কংগ্রেসের অন্দরমহল সূত্রে খবর।এদিকে রবিবার নিজেদের প্রার্থীকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছনোর জন্য দিনভর নির্বাচনী প্রচার সারলো বাকি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা।রবিবার সকালে হলদিয়ার বিভিন্ন এলাকায় প্রচার করেন তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের সিপিআইএমের প্রার্থী সেক ইব্রাহিম আলি।তিনি এদিন সকালে হলদিয়ার গান্ধীনগর,ভবানীপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় দলের কর্মীদের নিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার সারানে।এরপর তিনি বিকেলেও তমলুক লোকসভা কেন্দ্রে একাধিক জায়গায় প্রচারে অংশগ্রহণ করেন।তমলুক লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল-কংগ্রেসের তরফ থেকে এবারের প্রার্থী হয়েছেন ওই লোকসভা কেন্দ্রের বিদায়ী সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী।তিনিও রবিবার ছুটির দিনকে উপেক্ষা করে বিভিন্ন জায়গায় প্রচার সারেন।সকালে তিনি নন্দীগ্রামের একটি সভায় অংশগ্রহণ করেন।এরপর তিনি দুপুরে যান তমলুক একটি মিটিংয়ে।সেখানেও তিনি নিজেদের দলের নেতা কর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী বৈঠক সারেন।তিনি এদিন বিকেলে মহিষাদলেও একটি সভায় অংশগ্রহণ করেন।এই সভায় তৃণমূল প্রার্থী দিব্যেন্দু অধিকারী সহ উপস্থিত ছিলেন মহিষাদল ব্লক তৃণমূল-কংগ্রেসের সভাপতি তিলক কুমার চক্রবর্তী।প্রার্থী দিব্যেন্দু জানান,“ইতিমধ্যে আমি মানুষের মধ্যে ব্যাপক আশা লক্ষ্য ক‍রছি।গতবারের তুলনায় এবারে ভোটের মার্জিন আরও বাড়বে”।অপরদিকে বিজেপি প্রার্থী সিদ্ধার্থ শেখর দাস নস্কর রবিবার থেকেই তিনি তার নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন।তিনি এদিন নবদ্বীপে মহাপ্রভুদেবকে পুজো দিয়ে চন্ডীপুরে এক সভায় উপস্থিত হলে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন।এই সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রদীপ দাস।এই সভার আগে প্রদীপবাবু সকালে একাধিক সাংগঠনিক প্রচার সারেন।বিজেপি প্রার্থী সিদ্ধার্থ শেখর দাস নস্কর জানান,“নরেন্দ্র মোদির হাত আমার মাথার ওপর তাই আমাদের জয় অবসম্ভাবি।”।অন্যদিকে জেলার আরেক লোকসভা কেন্দ্র কাঁথিতে সকাল থেকে জোরকদমে প্রচার সারেন শাসক দলের কর্মীরা।এদিন সকালে কাঁথি এলাকার একাধিক জায়গায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আগত মানুষদের সঙ্গে তৃণমূল প্রার্থী শিশির অধিকারীর সমর্থনে প্রচার করেন তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক কণিষ্ক পন্ডা।এছাড়াও এদিন বিকেলে কাঁথি ও এগরার বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণ করেন প্রার্থী শিশির অধিকারী।বছরের ৩৬৫দিন সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন তাই আর বাড়তি তেমন কোনো প্রচার করতে হবে না বলে জানান জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তৃণমূল প্রার্থী শিশির অধিকারী।এদিন শিশিরবাবুর বিপক্ষে সিপিআইএমের তরফ থেকে দাঁড়ানো প্রার্থী পরিতোষ পট্টনায়কও নিজের এলাকায় জোরকদমে প্রচার সারেন।পরিতোষবাবু জানান,“শিশিরবাবু আমার বয়স জ্যেষ্ঠ মানুষ তাই আমি তার কাছে প্রণাম জানিয়ে আশীর্বাদ প্রার্থনা করি।তবে এই ভোটে আমি জয়ের পর আমি বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের প্রতি আগে জোর দেব।”।সবমিলিয়ে রবিবাসরীয় প্রচারকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে সমগ্র পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রাজনৈতিক মহল।তবে কার দখলে তমলুক ও কাঁথি লোকসভা কেন্দ্র সেই প্রশ্নের উত্তরে এখন সবাই চোখ রাখছে লোকসভা ভোটের ফলের দিকেই।

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।