প্রথম পাতা রাজ্যের খবর

বিজেপি ঘনিষ্ঠকে সিআইসি পদ থেকে সরানোর নির্দেশ, পুরপ্রধানকেও ভৎর্সনা

নিজস্ব প্রতিনিধি— বিজেপি ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে খড়গপুর পুরসভার সিআইসি (ন্যাশনাল আর্বান হেলথ মিশন) বেলারানী অধিকারীকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন জেলার পর্যবেক্ষক রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার খড়গপুর পুরসভায় শহরের ১৩ টি ওয়ার্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাংগঠনিক আলোচনা করেন শুভেন্দুবাবু। উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি অজিত মাইতি, আইএনটিটিইউসি সভাপতি নির্মল ঘোষ, রবিশংকর পান্ডে, জহরলাল পাল, দেবাশিস চৌধুরী।

সাংগঠনিক আলোচনার সময় ২৫ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতা বিবেকানন্দ দাস চৌধুরী, জয়ন্ত দত্তরা শুভেন্দুবাবুকে বলেন, বেলারানী অধিকারী ২৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তিনি বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগদান করেন। কিন্তু আজ অবধি দলীয় কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেননি। দিলীপ ঘোষ লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরে তার অফিসের সামনে বোমা বাজি ফাটিয়ে আনন্দ উৎসব করেন। খাতায় কলমে তৃণমূলের কাউন্সিলার থাকা বেলারানীর এই ধরনের দলবিরোধী কাজকর্ম কর্মীদের হতাশ করেছে। দল কোনো ব্যবস্থা তার বিরুদ্ধে নেয়নি। শুভেন্দুবাবু কর্মীদের কথা শোনার পরেই পুরপ্রধানকে নির্দেশ দেন বেলারানীকে সিআইসি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য। ২৫ নং ওয়ার্ডের কাজকর্মের উপর নজরদারি রাখার দায়িত্ব দেন পুরপ্রধান প্রদীপ সরকার ও শহর তৃণমূল সভাপতি রবিশংকর পান্ডেকে। এই প্রসঙ্গে বেলারানী অধিকারীর প্রতিক্রিয়া, সবাই জানে খড়গপুরের তত্ত্বালীন এসডিপিও সন্তোষ মন্ডল আমার সহকর্মীকে মিথ্যা অস্ত্র আইনের মামলা ফাঁসিয়ে আমাকেও মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে যান। কার্যত বন্দুকের ডগার রেখে আমার সমর্থন আদায় করা হয়। পুরপ্রধানের অনুরোধেই সিআইসির দায়িত্ব নিয়েছিলাম। অনেকদিন ধরেই দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চাইছি, আমার কাছে ইস্তফাপত্র চাওয়া হলে পাঠিয়ে দেব। আমি ২৫ নং ওয়ার্ডের মানুষের সঙ্গে থেকে কাজ করতে চাই। সমকালীন রাজনীতির উপর আমি বীতশ্রদ্ধ। অনেকদিন ধরেই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি।

শনিবার সন্ধ্যায় বৈঠকে কোর কমিটির সদস্যদের সভায় পুরপ্রধানকে তীব্র ভৎর্সনা করেন শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি খড়গপুরের পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে এক মদ ব্যবসায়ী বলেন তার কাছ থেকে পুরপ্রধান পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছে। সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে পুরপ্রধান প্রদীপ সরকার বলেন, তিনি রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার। এই চক্রান্তের পিছনে রয়েছে তৃণমূলেরই কাউন্সিলর দেবাশিস চৌধুরী। দেবাশিস বৈঠকে বলেন,পুরপ্রধানের কাছে তার নামে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ আছে কি? পুরপ্রধান সুস্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি। তখনই শুভেন্দু তাকে ভৎর্সনা করেন। এক মহিলা কাউন্সিলরের সঙ্গে পুরপ্রধানের সম্পর্ক নিয়েও বৈঠকে প্রশ্ন ওঠে| ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠনিক আলোচনার সময় বিভিন্ন ওয়ার্ডের অভিযোগ করেন, পুরপ্রধানকে ফোন করলেও তিনি ফোন তোলন না। বিজেপির কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা চোখে পড়ার মতো। এর ফলে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে। ২২ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতা সুশীল যাদব বলেন, স্থানীয় কংগ্রেস কাউন্সিলারের কথা শুনে চলে পুরপ্রধান। দলের কর্মীদের কথায় কর্ণপাত করেন না। বৈঠকে স্থির হয় আগামী ১০ আগস্ট দলের দশটি ওয়ার্ডের সাংগঠনিক আলোচনা হবে। ২০ আগস্ট ডিআরএম অফিসে ঘেরাও কর্মসূচী হবে। শুভেন্দুবাবু ছাড়াও মানস ভুঁইয়া সহ দলের সাংসদরা এই ঘেরাও কর্মসুচিতে উপস্থিত থাকবেন। ২০ আগস্টের পর থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পদযাত্রা করবেন শুভেন্দুবাবু।

Spread the love