করোনা জেলা প্রথম পাতা

স্বয়ংক্রিয় স্যানিটাইজেশন ট্যানেল বসিয়ে খুলবে তারাপীঠ মন্দিরে ।

বিশ্বজোড়া মারণ রোগ করোনা ভাইরাস আতঙ্কে যে সামাজিক দূরত্ব এবং বিধিনিষেধ আরোপিত হয়েছে, তার কবলে পড়েছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিও। যার মধ্য দিয়ে সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানই এখন বাঁধা পড়েছে একই বন্ধনীতে। মারণরোগ করোনা মানব সভ্যতার ইতিহাসে এহেন অসাধ্য সাধনও ঘটিয়ে দিচ্ছে। আর তাই, করোনা ভাইরাসের এই দ্রোহকাল কবে শেষ হবে, কিংবা শেষ হলেও সে অন্য কোনও রূপে হাজির হবে কী না, তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।
আর এই সংশয় কাটিয়ে ভক্তজনেদের নিরাপত্তা দিয়ে খোলার চেষ্টা শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী তারাপীঠ মন্দির। তারাপীঠ মন্দিরে বার্ষিক কিছু অনুষ্ঠান ছাড়াও সারা বছর ধরে প্রতিদিনই হাজার হাজার পুণ্যার্থীদের আগমণ ঘটে থাকে। নববর্ষ, রথযাত্রা, কৌশিকী অমাবস্যার মতো বিশেষ পুজোয় তারাপীঠে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী, ভক্তজন ও ভ্রমনার্থীদের আগমন ঘটে থাকে। এবার করোনা ভাইরাস জনিত পরিস্থিতিতে অন্যান্য ধর্মীয় স্থানের মতোই তারাপীঠের দরজাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সাধাণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে। কড়া পুলিশ প্রহরার রয়েছে তারাপীঠের তারা মায়ের মন্দির। তারাপীঠ এখন রয়েছে শুনশান অবস্থায়।
কিন্তু এই লকডাউন পর্ব শেষ হলেই, পুনরায় তারাপীঠ মন্দিরে ভীড় আছড়ে পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। কিন্তু তাই বলে যে ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা থাকছে না, এমনটা তো নয়। তাই তারাপীঠ মন্দির খোলার আগেই এই মন্দিরকে নতুন সাজে সাজাতে তৎপর হয়ে উঠেছে তারাপীঠ–রামপুরহাট উন্নয়ন পর্যদ (টিআরডিএ)। এজন্য মন্দিরের তিনটি প্রবেশ ও প্রস্থান পথেই বসানো হচ্ছে স্বয়ংস্ক্রিয় স্যানিটাইজেশন টানেল। এজন্য কলকাতার একটি সংস্থার সঙ্গে টিআরডিএ-র কথাবার্তাও পাকা হয়ে গিয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই ওই সংস্থা এই স্বয়ংস্ক্রিয় স্যানিটাইজেশম টানেল বসাবার কাজ শুরু করে দেবে বলে জানা গিয়েছে। সেইসাথে স্যানিটাইজ করা হবে মায়ের গর্ভগৃহ থেকে গোটা মন্দির চত্বর। এই টানেল দিয়ে পুণ্যার্থী থেকে দর্শনার্থী সকলকেই যেমন প্রবেশ ও প্রস্থান করতে হবে তেমনি, একইভাবে মন্দিরের সেবাইত, ছড়িদার, নিরাপত্তাকর্মী ও মন্দিরের অন্যান্য কাজে যারাই যুক্ত তাঁদেরও একইভাবে এই টানেল ব্যবহার করতে হবে বাধ্যতামূলকভাবে। এই টানেলে যে কেউ প্রবেশ করলেই তাঁকে মাথার উপরে হাত তুলে প্রবেশ করতে হবে। আর তাঁর উপরে ছড়ানো হবে সেন্সারের মাধ্যমে হাইড্রোজেন পারক্সাইডের বাষ্প। এই যন্ত্রটি স্পর্শ না করতে হওয়ার ফলে সংক্রমণের আশঙ্কাও তেমন একটা থাকবে না। আর দু’হাত তুলে প্রবেশ করার ফলে যে কোনও ব্যক্তিরই গোটা শরীরই স্যানিটাইজ হয়ে যাবে। সেইসাথে এখানে একটি স্যানিটাইজেশন মেশিনও আনা হচ্ছে। যা দিয়ে মায়ের গর্ভগৃহ থেকে গোটা মন্দির চত্বর স্যানিটাইজ করা হবে। এমনিতেই প্রতি বৃহস্পতিবার, শনিবার ও রবিবার মন্দিরে ভীড় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সন্ধ্যারতি, গর্ভগৃহে প্রবেশের সময় যে ভীড় হয় তাতেও একজনের থেকে অন্যজনের কমপক্ষে এক হাত দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ভীড় নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এবং এজন্য সমস্ত বিধি সকলকে জানাতে নিয়মিত মাইকে তা ঘোষণাও করা হবে বলে তারাপীঠ মন্দির কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে ।

Spread the love