কলকাতা প্রথম পাতা

কালীঘাটের দোরগোড়ায় শাসকদলের অন্তর্দ্বন্দ্ব! কর্মী সভার মধ্যে চরম অস্বস্তিতে তৃণমূলের দাপুটে নেতারা

নিজস্ব প্রতিনিধি: হাতে আর মাত্র একদিন।তারপরেই দেশজুড়ে শুরু হয়ে যাবে লোকসভা নির্বাচন।এরাজ্যের কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার লোকসভা আসন দিয়েই শুরু হবে প্রথমদফার নির্বাচন।তাই একেবারে প্রথম পর্যায়ের উত্তরের জেলা থেকেই বিজেপিকে হটাতে আক্রমনাত্মক ভূমিকা নিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।কিন্তু রাজ্যে যখন ৪২-০ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে শাসকদলের  নেতা-কর্মীরা।ঠিক সেইসময় দাঁড়িয়ে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড়েই চলছে অন্তর্দ্বন্দ্ব।দক্ষিণ কলকাতায় এবারে তৃণমূল প্রার্থী মালা রায়। সোমবার সন্ধ্যায় কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার জয়হিন্দ ভবনে কলকাতা পুরসভার ৭৩ নম্বর ওয়ার্ড তৃণমূল কংগ্রেসের ঘরোয়া কর্মী সম্মেলন ডাকা হয়েছিল। যেখানে প্রকাশ পেল তৃণমূলের ভিতরকার দ্বন্দ্ব। বলা যায় মূলত ভাই বনাম ভাইপো!

ওই কর্মী সম্মেলনের শুরুতেই বক্তৃতা করছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে, দক্ষিণ কলকাতার অন্তর্গত ভবানীপুর বিধানসভায় ১৭৬ ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল।  বিষয়টি উল্লেখ করে কোন ওয়ার্ড থেকে কত লিড হয়েছিল বা কত ভোটে তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত বক্সী পিছিয়ে পড়েছিলেন তার হিসাব দিচ্ছিলেন কার্তিক। আচমকাই সভায় পিছনের সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা অভিষেক অনুগামী তথা ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুব তৃনমূলের সভাপতি অতনু পাল বলে ওঠেন, “এই সভায় কর্মীদেরও বলার সুযোগ দিতে হবে।” জবাবে কার্তিক বলেন “এই সভার আয়োজন করা হয়েছে শুধুমাত্র নেতাদের কথা শোনার জন্য।কর্মীদের বলার জন্য  গড়ের মাঠে ব্যবস্থা করে দেব। এখানে কিছু বলা যাবে না।”

এইকথা শোনার পরেই একে একে জয়হিন্দ ভবন ছাড়তে শুরু করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা।সোমবারের কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক দুলাল সেনও। যাঁকে কার্তিক-অভিষেক দ্বন্দ্বের জেরে ৭৩ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে সরিয়েছিলেন স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনিও অনুগামীদের সঙ্গেই সভাস্থল ছেড়ে চলে যান। যখন অভিষেক অনুগামীরা জয়হিন্দ ভবন ত্যাগ করেছিলেন, মাইক্রোফোন হাতে কার্তিক তাঁদের অনুরোধ করেন, “যাঁরা সভা ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন, তাঁরা একটু দ্রুততার সঙ্গে বেরিয়ে যান। তাহলে সভা পরিচালনা করতে সুবিধা হয়।” এই ঘটনার সময় কর্মী সম্মেলনের মঞ্চে বসে পুরো বিষয়টি দেখছিলেন দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূল সভাপতি দেবাশিস কুমার, মেয়র পারিষদ বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রতন মালাকার ও ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সন্দীপ বক্সী। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা সভা ছেড়ে চলে গেলে বক্তৃতা করতে ওঠেন দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূলের সভাপতি দেবাশিস কুমার। ঘটনার রেশ ধরেই তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলে মত পার্থক্য থাকতেই পারে। তবে মনান্তর যেন কখনই না হয়। আমাদের লক্ষ্য, আমাদের নেত্রীকে সব আসনে জিতিয়ে দিল্লি পাঠানো।এই ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডেই থাকেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  কিন্তু লোকসভা ভোটের সময় নিজের ওয়ার্ডে দলের অন্তদ্বন্দ্বের ঘটনা শাসকদলের অস্বস্তি বাড়াতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

 

Spread the love