করোনা জেলা প্রথম পাতা

দিঘা একেবারে শুনশান হয়ে যাওয়ায় ব্যাপকভাবে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে গোটা দিঘার পর্যটন শিল্পে।

দিঘাঃ একসময় ভ্রমণপিপাসু সাধারণ মানুষের অন্যতম ডেস্টিনেশান ছিল সৈকত শহর দিঘা। কিন্তু বর্তমানে গোটা বিশ্ব জুড়ে নোভেল করোনাভাইরাসের থাবা যেভাবে গ্রাস করেছে তাতে একেবারে লাটে উঠেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তথা রাজ্যের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র দিঘার পর্যটন শিল্প। জেলার প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ দিঘার এই পর্যটন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বর্তমানে দিঘা একেবারে শুনশান হয়ে যাওয়ায় ব্যাপকভাবে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে গোটা দিঘার পর্যটন শিল্পে।
গত একমাস আগে থেকেই জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে দিঘায় পর্যটকদের বেড়াতে আশার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। হোটেলের সমস্ত বুকিং বাতিল করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দিঘা একেবারে শুনশান। পর্যটক তো দূরের কথা স্থানীয় মানুষজনও বর্তমানে করোনা আতঙ্কে দিঘায় পা রাখতে ভয় পাচ্ছেন। যার এক ব্যাপক প্রভাব পড়েছে দিঘার হোটেল ব্যবসায়ী ও হকারদের মধ্যে। তাই ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ এই দিঘার পর্যটন শিল্পের ওপর নিজেদের অন্ন সুনিশ্চিত করেন। কিন্তু পর্যটক বর্তমানে আসছেনা এমনকি বর্তমানে করোনার আতঙ্ক এমন এতটাই ছড়িয়েছে যে গত পাঁচবছরে পর্যটক আর দিঘামুখী হবে নাকি সে ব্যাপারে সংশয় জেগেছে দিঘার ব্যবসায়ীদের মনে। ফলে বলা চলে বিছার অর্থনীতি একেবারে কুপোকাৎ হয়ে গিয়েছে এই নোভেল করোনা ভাইরাসের প্রভাবে। দিঘার পাশাপাশি মন্দারমনি, তাজপুর, শঙ্করপুর, জুনপুট সহ বিভিন্ন পর্যটন ক্ষেত্র গুলির ব্যবসা একেবারে লাটে উঠেছে। তাই প্রশাসন এই সকল ব্যবসায়ীদের ওপর ঘুরে তাকাকে এনটাই দাবি জানাচ্ছেন দিঘা তথা আশেপাশের পর্যটন ব্যবসায়ীরা। দিঘার এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মঞ্জু বিবি জানান, “গোটা সংসার চলত দিঘার এই ব্যবসার ওপর। কিন্তু হঠাৎ এমন পরিস্থিতি হয়ে দাঁড়ানোয় খাব কি তা নিয়ে এখন ভাবতে হচ্ছে। তবে বর্তমানে যা পরিস্থিতি তাতে গত পাঁচ বছরে দিঘা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে নাকি মনে সন্দেহ রয়েছে।” দিঘার এক হোটেল মালিক মহুয়া সিনহা জানান, “দিঘায় আর ব্যবসা হবে তা আশা করা ভুল। বর্তমানে মানুষ বাড়ি থেকে বেরোতেই ভয় পাচ্ছেন। মানুষ দিঘা বেড়াতে আসবে সে তো দূরের কথা। তাই এখন পর্যটন ব্যবসায় আমাদের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।” অন্যদিকে প্রশাসনের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে দিঘা হোটেল মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন, “আমি প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাবো কোনরকম হোটেলের কর্মচারীদের জন্য কিছু ব্যবস্থা করা হোক। তা না হলে খুব করুণ পরিস্থিতি হতে চলেছে দিঘার পর্যটন শিল্পে”
সবমিলিয়ে বলা চলে করোনা গ্রাসে দিঘার পর্যটন শিল্প। তাদের পাশে এসে দাঁড়াতে প্রশাসন এমনটাই চান পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

Spread the love