জেলা প্রথম পাতা রাজ্যের খবর

বাহুবলী তকমা ফিকে হচ্ছে অর্জুনের! অশান্তির মূলে তৃণমূল ত্যাগী বিজেপি সাংসদই, গোপন রিপোর্টে ক্ষুব্ধ দলের শীর্ষনেতারা

নিজস্ব প্রতিনিধি: লোকসভা ভোটের পর থেকেই অশান্ত উঃ ২৪ পরগনার ভাটপাড়া।মূলত যা অর্জুন সিংয়ের গড় হিসাবেই পরিচিত। তবে সেই এলাকার যে তাঁর হাতে নেই তা বলাই যায়। দিন নেই রাত নেই, কেবলই মুড়ি মুড়কির মত বোমা পড়ছে এলাকায়। বারুদের গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে বাতাসে।পুলিশের ভারী বুটের শব্দ যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।  এর জেরে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসীর জীবনও।গোটা ঘটনায় একাধিকবার রিপোর্ট তলব করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। জানা গিয়েছে, এমনকি গোপন রিপোর্ট জমা পড়েছে অমিত শাহের দফতরে। আর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এই রিপোর্ট দেখে চোখ কপালে উঠেছে খোদ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের। কারণ সেখানে এই অশান্তির জন্য দায়ী করা হয়েছে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া সাংসদ অর্জুন সিংকেই।যা নিয়ে ব্যারাকপুরের সাংসদকে ডেকে ধমকও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

তবে অর্জুন সিং নিজে সে কথা মানতে চাননি।বিজেপি নেতারা কেউই এই খবরের সত্যতা স্বীকার করেননি। আইবি রিপোর্ট যেহেতু অত্যন্ত গোপনীয়, তাই সরকারি ভাবে তার সত্যতা যাচাইয়েরও অবকাশ নেই। তবে, দলীয় সূত্রের খবর, পুরো বিষয়টিতে অর্জুনের ওপর ক্ষুব্ধ বিজেপি–র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বিজেপি সূত্র জানাচ্ছে, ভাটপাড়া-‌কাণ্ডে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে তাঁর কাছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রের খবর, গোয়েন্দা রিপোর্টে ভাটপাড়ায় লাগাতার অশান্তিতে বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং ও তাঁর অনুগামীদের জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভাটপাড়ায় বোমা, বন্দুকের জোগান বেড়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতাদের মদতে দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। সব কিছুর পেছনে রয়েছেন দলেরই সাংসদ অর্জুন সিং।‌‌ তবে এই কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন নি কোন বিজেপি নেতাই। দলের একাংশ মনে করছে, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা অর্জুন সিং নিজের এলাকার রাশ হাতে রাখতে পারছেন না উল্টে গন্ডোগোল করানোর দায়ও তাঁর উপর যাচ্ছে তাতে অস্বস্তিতে পড়তে হবে বিজেপিকে।সূত্রের খবর, যদিও কেন্দ্রীয় স্তরে শীর্ষ নেতাদের তরফে গোয়েন্দা রিপোর্টকে বিশেষভাবেই দেখার চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে।

যদিও অন্যদিকে অমিত শাহদের দাবি, শাসকদলই সন্ত্রাস চালাচ্ছে ভাটপাড়ায়। তবে এতে যে পদ্মশিবিরের অন্দরে অস্বস্তি বেড়েছে তা আলাদাভাবে বলার বাকি রাখে না। অন্যদিকে ঘনিষ্ঠ মহলে অর্জুন বলেছেন, ভাটপাড়ার যে এলাকায় অশান্তি লেগে রয়েছে, সেটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। তিনি নিজে বিষয়টি দেখভাল করছেন। তবে গোয়েন্দা রিপোর্টের কথা প্রকাশ্যে কেউ স্বীকার করতে রাজি নন।তবে অর্জুনের দাপাদাপি যদি বন্ধ না হয় তাহলে তা চরম অস্বস্তি বাড়াবে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে।তবে এলাকাবাসী মনে করছেন, একজন সাংসদ হিসাবে এলাকা শান্তি করার দায়িত্ব তার সবসময় থাকা উচিত। আর নিন্দুকেরা বলছেন, যদি ভাটপাড়া-কাঁকিনাড়ার রাশ অর্জুনের হাত থেকে বেরিযে যায় তাহলে দলের অন্দরে হ্যাঁটা খেতে হবে ব্যারাকপুরের সাংসদকে। তাঁর নতুন দলের কাছে (বিজেপি) ‘বাহুবলী’ তকমাও খানিক ফিকে হয়ে পড়বে। তৃণমূল বলছে, সেই দিন আসতে বেশি দেরি নেই। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যদি এটা সত্যি হয়, বিজেপির ঘরেও অর্জুনের ভরাডুবি কেউ রুখতে পারবে না ।

Spread the love