আম্ফান প্রথম পাতা রাজ্যের খবর

ধেয়ে আসছে আমফান, দীঘা থেকে মাত্র ৫১০ কিমি দূরে ।

ক্রমশই এগিয়ে আসছে সুপার সাইক্লোন আমপান। মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে আলিপুর আবহাওয়ার দফতরের অধিকর্তা গণেশ কুমার দাস জানান, দীঘা থেকে আর মাত্র ৫১০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে ঘূর্ণিঝড়। বুধবার দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যেই তা ঢুকে পড়বে স্থলভাগে। দীঘা ও হাতিয়া দ্বীপের কাছাকাছি জায়গা থেকেই স্থলভাগে ঢুকবে ওই ঝড়।
তিনি আরও জানান, যেমন আশঙ্কা করা হচ্ছে অর্থাৎ স্থলভাগে ১৫৫ থেকে ১৬৫ কিলোমিটার গতিবেগে স্থলভাগে আছড়ে পড়বে ওই ঘূর্ণিঝড়। সর্বোচ্চ গতি হতে পারে ঘন্টায় ১৮৫ কিলোমিটার। তবে, আয়লার সঙ্গে আমপানের তুলনায় নারাজ আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা। তিনি বলেন, ‘দুটি ঘূর্ণিঝড়ের প্রকৃতি কখনও এক হয় না। আমপান সুপার সাইক্লোন। তার মোকাবিলা করতেই হবে আমাদের।’
১৯৯৯ সালের পর এই প্রথম সুপার সাইক্লোন ঘনীভূত হয়েছে বঙ্গোপসাগরে। সেই প্রবল প্রতাপশালী ঘূর্ণিঝড় আমপান সামান্য শক্তিক্ষয় করে আগামীকাল, বুধবার সুন্দরবনের কাছ দিয়ে রাজ্যের উপকূলে আছড়ে পড়বে। করোনা সংকটের সময় মানুষের কষ্ট লাঘবের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ঘূর্ণিঝড়ের নিখুঁত পূর্বাভাস। বুধবার পর্যন্ত নিখুঁত পূর্বাভাসের সাফল্য ধরে রাখতে সচেষ্ট আবহবিদরা। তাই ঝড়ের প্রতিটা মুহূর্তের সুলুক সন্ধান দিতে রাত জাগছেন আবহবিদরা। মঙ্গলবার সাতসকালেই কাজে লেগে পড়েছেন বিজ্ঞানীরা। বৃহস্পতিবার সকালে ঝড়ের বিপদ কাটার পর মিলবে ছুটি! দু’দশক আগের পারাদ্বীপ ঘূর্ণিঝড়কে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড় ধরা হয়। ২৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিবেগই শুধু নয়, দু’দিকে দু’টি বিপরীত ঘূর্ণাবর্তের মধ্যে বন্দি হয়ে ৩০ ঘণ্টা ভুবনেশ্বর, কটক, পারাদ্বীপের উপর দাঁড়িয়েছিল সেই সুপার সাইক্লোন। পরে আবার সেটি সমুদ্রে ফিরে যায়। সে সময় শক্তিশালী উপগ্রহের সাহায্য ছিল না। ছিল না ডপলার রেডারের মতো অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে ঘূর্ণিঝড়ের অন্দরের খবর জানার সুযোগ।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ও বুধবার গোপালপুর, পারাদ্বীপ, কলকাতার ডপলার রেডার থেকে নজরদারি চালানো হবে আমপানের গতিবিধির উপর। নিখুঁত পূর্বাভাস দিতে আবহবিদদের হাতে যা অন্যতম অস্ত্র। পূর্বসূরির মতো উম্পুনের বিশেষত্বও কম নয়। মায়ানমারের দিকে একটি বিপরীত ঘূর্ণাবর্ত থাকায় গত দু’দিনে ঘূর্ণিঝড় খুব ধীর গতিতে এগিয়েছে। সেই সুযোগে গরম সমুদ্র থেকে জ্বালানি পেয়ে দফায় দফায় শক্তি বাড়িয়েছে সে। ১৬ মে সকালে নিম্নচাপ গভীর হয়। ১৮ মে সকালের মধ্যে ছ’দফায় শক্তি বাড়িয়ে সে এখন সুপার সাইক্লোন। তার দাপটে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের গতিবেগ উঠেছে ২৬০-২৭৫ কিলোমিটার/ঘণ্টায়। আরও খানিকটা এগোনোর পরই পশ্চিমি ঝঞ্ঝার বায়ুপ্রবাহের মধ্যে পড়ে যাবে আমপান। তখন আবার দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে বাংলা-বাংলাদেশ উপকূলের দিকে।

Spread the love