জেলা প্রথম পাতা

ভিন রাজ্যে প্রচার হয়ে যাওয়া এক নাবালিকা প্রায় দেড় মাস পর ফিরল বাড়ি

নিজস্ব প্রতিনিধি : ভিন রাজ্যে প্রচার হয়ে যাওয়া এক নাবালিকা প্রায় দেড় মাস পর পালিয়ে বাড়ি ফিরল। পরিবারের অভিযোগ তাদের নাবালিকা মেয়েকে পাশের গ্রামের এক যুবক ভুলিয়ে ফুসলে নিয়ে গিয়ে নিষিদ্ধ পল্লিতে বিক্রি করেছিল।পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত যুবক মৃত্যুঞ্জয় শিটকে গ্রেফতার করেছে।এহেন চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়্গ্রাম জেলার মাণিকপাড়া এলাকার বড়জুড়ি গ্রামে। এদিন সোমবার ওই নাবালিকার আদালতে গোপন জবানবন্দী রেকর্ড হয়েছে এবং মেডিক্যাল পরীক্ষা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।আর এই ঘটনার পরেই এলাকায় একটি নরী পাচর চক্র রয়েছে বলে পরিবারের লোকেরা অভিযোগ করেছেন। জানা গিয়েছে বড়জুড়ি গ্রামের নবম শ্রেনীর বছর ষলোর নাবালিকাকে নাচের অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার নাম করে চার ফেব্রুয়ারি বিহারে নিয়ে পাচার করার অভিযোগ ওঠে পাশের গ্রাম বহরাকোটার বছর একুশের যুবক মৃত্যুঞ্জয় শিটের বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে প্রায় দেড় মাসের বেশি সময় ধরে মেয়েটি নিখোঁজ ছিল। পুলিশ জানিয়েছে গত সপ্তাহে মেয়েটি কোনভাবে পালিয়ে ফিরে আসে নিজের গ্রামে এবং বাড়ির সকলকে সবটা বলে । এরপরেই পুলিশ নাবালিকার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পয়ে মৃত্যুঞ্জয় শিটকে গ্রেফতার করে বহরাকোট গ্রাম থেকে।পুলিশ জানিয়েছে অভিযুক্ত ওই যুবকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাকে জিঞ্জাসাবাদ করে জানা হবে সে মেয়েটিকে নিয়ে কোথায় কোথায় নিয়ে গিয়েছিল।আর মেয়েটির সাথে কোন ধরনের অত্যাচার হয়েছে কিনা তা জানার চেষ্টা হবে।পুলিশ জানিয়েছে মেয়েটির মেডিক্যাল টেস্টের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই জানা যাবে তার সঙ্গে কি ধরনের শারীরিক নির্যাতন হয়েছিল।অন্যদিকে এদিন ঝাড়গ্রাম আদালতে এসে মেয়েটির দাদু হরেন মাহাত বলেন “ আমর নাতনি সকালে টিউশন পড়তে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে ছিল।তারপর দেড়মাসের বেশী সময় ধরে বাড়ি ফেরেনি। ওকে ওই দিন কিছু খায়িয়ে দিয়ে গাড়ি করে তুলে নিয়ে যায়। বিহারে নিয়ে গিয়ে নোংরা জায়গায় বিক্রি করে দিয়েছিল।ও কোন নোংরা কাজ করতে না চাওয়া বেদম মারধোর করত।গত সপ্তাহে আমরা ওকে ফিরে পেয়েছি।ও এখনো কথা বলার অবস্থায় নেই। আমাদের এলাকায় একটি চক্র রয়েছে যারা এইভাবে মেয়েদের পাচার করছে।যারা আমার নাতনির সঙ্গে এ কাজ করেছে তাদের শাস্তী চাই।ওই চক্রটিকে ধরতে হবে।” হরেন বাবু আরো জানিয়েছে নাবালিকা মেয়েটির বাবা মাওবাদী সন্ত্রাশ পর্বে খুন হয়েছিলেন।তার মা বোনেদের নিয়ে বড়জুড়ি গ্রামে থাকেন।এই বিষয়ে ঝাড়গ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিশ্বজিৎ মাহাতো বলেন “এদিন মেয়েটির গোপন জবানবন্দী রেকর্ড হয়েছে। মেডিক্যাল টেস্ট হয়েছে। রিপোর্ট আসার পরেই মেয়েটির উপর কোন ধরনের ধরনের নির্যাতন হয়েছিল কিনা তা বোঝা যাবে।অভিযুক্ত ওই যুবক পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।তাকে জিঞ্জাসাবাদ করা হবে।”

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।